সুন্দরী দেখার ফন্দি: পুরনো ঢাকার রসিকতা
এক ভদ্রলোক ধোপদুরস্ত পোশাক পরে রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। মন ভালো, চারপাশে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ চোখে পড়ে পেছনের আরেকটি রিকশা। সেখানে বসে আছেন এক অসাধারণ সুন্দরী।
কিন্তু সমস্যা হলো, রিকশার হুড তোলা থাকায় মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। ভদ্রলোকের কৌতূহল বেড়ে গেল। বারবার পিছনে তাকাচ্ছেন, কিন্তু ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। প্রচুর বাতাস বইছে।
অবশেষে তিনি এক বুদ্ধি বের করলেন। রিকশাওয়ালাকে বললেন থামতে, বাতাসে ম্যাচের কাঠি নিভে যাচ্ছে। তিনি সিগারেট ধরাতে পারছেন না। আসল উদ্দেশ্য ছিল, সুন্দরীর রিকশা কাছে এলেই তাকে ভালো করে দেখা।
যেই পরিকল্পনা, সেই কাজ! রিকশা থামলো, আর সুন্দরীর রিকশা এগিয়ে এলো। ভদ্রলোক মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলেন। এতটাই যে, হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেটের কথাও ভুলে গেলেন!
রিকশাওয়ালা সব বুঝে হেসে বলল—
“ছাব, বাতাস চইলা গেছে গা, এ্যালা চালাই?”
ভদ্রলোক লজ্জায় পড়ে বললেন—“হ্যাঁ, চালাও।”
বিরক্তিকর ক্রেতা ঢাকাইয়া রসিকতা

ঘোড়ার গাড়িতে এক কৌতূহলী যাত্রী
চল্লিশের দশকের ঢাকা। এক নতুন আগন্তুক ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করেছেন। শহর সম্পর্কে তিনি খুব একটা জানেন না, কিন্তু কৌতূহল ভীষণ বেশি।
গাড়িতে বসে তিনি বারবার জানালা দিয়ে মুখ বের করে চারপাশ দেখছেন। মুখ ভিতরে নিয়ে কোচোয়ান ( ঘোড়া গাড়ির ড্রাইভার ) কে প্রশ্ন করছেন, আবার মুখ বাইরে নিচ্ছেন। কোচোয়ান সবই লক্ষ্য করছে, কিন্তু চুপ করে আছে।
একসময় খোলা রাস্তায় এসে ভদ্রলোক আরও বেশি করে মুখ বের করে চারপাশ দেখতে থাকেন। আশেপাশে কেউ না থাকলেও তিনি হাঁ করে তাকিয়ে আছেন।
এবার আর কোচোয়ান চুপ থাকতে পারল না। মজার ভঙ্গিতে বলল,
“ছাব, এভাবে মুখ বাইর কইরা থাকলে কেউ ডাকবাক্স ভাইবা চিঠি ঢুকায়া দিবো না তো!”
এ কথা শুনে ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি মুখ ভেতরে নিয়ে নিলেন। আর একবারও বাইরে বের করলেন না।

উপসংহার
এই গল্পগুলো শুধু হাসির খোরাক নয় বরং পুরনো ঢাকার জীবনযাত্রার এক ঝলকও তুলে ধরে। মানুষের সরলতা, কৌতূহল আর মজার আচরণ—সব মিলিয়ে এগুলো আজও সমান উপভোগ্য।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং ২৮/০৪/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো পেক্সেলস থেকে নেয়া।

