কিডনি রোগীর মাছ – মিরপুর ১১ নম্বর বাজার
রোগীর সঙ্খ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে হার্ট এবং কিডনি রোগী। প্রতিদিন তাদের ঔষধ খাওয়াতে হয়। তাতে অনেক খরচ। খরচ সামলাতে হিমসিম খায় পরিবার। তাদের খাবারের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। আজকে আপনাদের জানাব বিশেষ একটি খাবারের কথা। এতে করে খরচ কমবে সেই সাথে রোগী পাবে দারুন পুষ্টি। যা তাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
মিরপুর ১১ নং বাজার। এখানে সবজি বাজারের ভিতর দিয়ে ঢুকলে বিক্রেতাদের হাঁকডাক শোনা যায়।
“মিষ্টি কুমড়া, মিডাডা লন, মিডাডা লন। সাভারের লাউ, সাভারের লাউ…”
পথের দুপাশে দোকানগুলো রেখে একটু সামনে এগোলেই মাছের বাজার। যা দুই ভাগে বিভক্ত। হাতের ডান দিকে একটা, বাম দিকে আরেকটা।
বাম দিকের বাজারে বিক্রি হয় সামুদ্রিক রূপচাঁদা, কোরাল, নদীর পাঙ্গাস, ইলিশ, চাষের বড় বড় রুই ইত্যাদি। দামী দামী সব মাছ।
ডান দিকের বাজারে কয়েকটি দোকানে শুধু সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হয়। যা সাধারণত কেজিতে ২৫০-৩৫০ টাকার মধ্যে। এখানে কম আয়ের মানুষগুলো ভিড় করে। নিজেদের অজান্তেই তারা একটি পুষ্টিকর মাছ কিনে, যার নাম ‘সুরমা’ মাছ।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ সহজ এবং ন্যাচারাল উপায়

সুরমা মাছের পুষ্টিগুণ
সুরমা মাছের প্রতি ১০০ গ্রামে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, বিশেষ করে ডিএইচএ ও ইপিএ, থাকে প্রায় ৯০০ মিলিগ্রাম। একেবারে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টের মতো। এছাড়া ভিটামিন ডি থাকে প্রায় ৫০০-৬০০ আইইউ।
হার্ট ও কিডনির জন্য উপকারী
এটি একটি লো-সোডিয়াম মাছ। প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ৫০-৬০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। তাই হার্ট বা কিডনি রোগে আক্রান্ত, যারা ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি খাদ্য।
ক্যালসিয়াম ও আয়রনের উৎস
সুরমা মাছে ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালসিয়াম থাকে ১৮-২০ মিলিগ্রাম এবং আয়রন প্রায় ১-১.৫ মিলিগ্রাম।
কিডনি রোগীর ইউরিক এসিড কমাতে ভিডিও দেখুন

বাবা-মায়ের জন্য একটি নিরাপদ পছন্দ
বাবা-মায়ের জন্য নিশ্চিন্তে সুরমা মাছ কিনতে পারেন। ক্রিয়েটিনিন ২.০-এর নিচে এবং ইজিএফআর ৩০-এর ওপরে থাকলে দিনে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত সহজেই খাওয়া যেতে পারে। হার্ট ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি প্রোটিনের উৎস হতে পারে।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১১/০৬/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।
Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.









