চতুর আগন্তুক আর বোকা ননী: রসগোল্লা নিয়ে এক ঐতিহাসিক চুরির গল্প
বাঙালি আর মিষ্টি—এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। আজ থেকে প্রায় তিন-চার দশক আগে আমাদের গ্রামবাংলার হাটগুলোতে মিষ্টির এক ভিন্ন আমেজ ছিল। সেই স্বাদ আজকের আধুনিক মিষ্টির দোকানে খুঁজে পাওয়া যায় না। আজ আমরা ফিরে যাব তেমনি এক অতীতে, যেখানে চারিগ্রাম বাজারের যোগেশ ঘোষ আর পারিল বলধারা গ্রামের নিশিকান্ত ময়রার মিষ্টির লড়াই। আরও এক মজার চুরির গল্প আমাদের নস্টালজিক করে তোলে।
রসগোল্লা নিয়ে দুই ময়রার ভিন্ন আমেজ
তৎকালীন চারিগ্রাম বাজারে যোগেশ ঘোষের ছিল স্থায়ী দোকান— ‘যোগেশ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’। সপ্তাহে পাঁচ দিন গ্রামের মানুষের ভরসা ছিল তাঁর ওপর। কিন্তু হাটবারে চিত্রটা বদলে যেত। তখন সবার নজর থাকত নিশিকান্তের দিকে। নিশিকান্তের হাসিমুখ আর মাথায় করে আনা মিষ্টির ঝাঁকা ছিল ওই এলাকার বিশেষ আকর্ষণ। বিশেষ করে পদ্মপাতায় মোড়া সেই রসগোল্লার স্বাদ মুরুব্বিরদের মুখে আজও মুখে লেগে আছে।
টেপা আর টেঁপী শিশুদের ঘুমপাড়ানি গল্প

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ
সেই সময়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের টান ছিল দেখার মতো। একে অপরকে অনুভব করতেন হৃদয় থেকে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে যোগেশ ঘোষকে সবাই ‘মামা’ বলে ডাকতেন। এই যে আত্মীয়তার বন্ধন, এটাই ছিল সেকালের গ্রামবাংলার প্রকৃত শক্তি।
মাছি যখন মিষ্টির চোর – একটি মজার ঘটনা
গল্পের সবচেয়ে মজার অংশ হলো যোগেশ ঘোষের ছোট ছেলে ননীকে নিয়ে। একবার যোগেশ যখন মিষ্টি তৈরিতে ব্যস্ত। তখন এক চালাক লোক দোকানে এসে অনবরত মিষ্টি খেতে শুরু করে। ননী বাধা দিতে গেলে লোকটা নিজেকে তার বাবার বন্ধু দাবি করে। ননী নাম জিজ্ঞেস করলে বলে, আমার নাম ‘মাছি’।
ননী তার বাবাকে চিৎকার করে জানায়, “বাবা, মাছি মিষ্টি খায়,” তখন যোগেশ ঘোষ ভাবেন সত্যিকারের পতঙ্গ মাছির কথা। তিনি সাধারণভাবেই বলেন, “খেতে দে, সমস্যা নেই।”
কাজ শেষে যোগেশ দোকানে ঢোকে। একেবারে চমকে ওঠে,রসগোল্লার গামলা একেবারে খালি। তখন যোগেশ বুঝতে পারে কি ঘটেছে। সেই ধূর্ত লোকটা ‘মাছি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে সব মিষ্টি খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে!
বিল ডুমুরিয়া গ্রাম দেখুন ভিডিওতে

উপসংহার
এই গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবন আর মানুষের মধ্যকার হাস্যরসের কথা। যান্ত্রিক এই যুগে ফিরে ফিরে এই স্মৃতিগুলোই আমাদের প্রাণে এক মায়ার অনুভব জোগায়।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৪/০৪/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড। #বাঙালিয়ানা #আমাদের_গ্রাম #ঐতিহ্য

