ঝড়ের বুকে শান্ত নীড় – আসল শান্তি
ঢাকার ধানমন্ডির এক নামী আর্ট গ্যালারি। হঠাৎ করেই এক অভিনব প্রতিযোগিতার ডাক দিল। বিষয়ের নাম “চিত্রপটে পরম শান্তি”। উদ্দেশ্য, ক্যানভাসের বুকে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ মুহূর্তটিকে খুঁজে বের করা।
ঘোষণাটি পাওয়ামাত্রই সাড়া পড়ে গেল পুরো দেশে। চারুকলা ইন্সটিটিউটের তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের প্রথিতযশা প্রবীণ শিল্পী। সবাই মেতে উঠলেন তুলির জাদুতে। হাজার হাজার ছবি জমা পড়ল। অবশেষে এলো সেই সময় এল। বিচারকেরা চূড়ান্ত রায় জানাবেন। গ্যালারির মূল হলে নির্বাচিত সেরা ১০০টি ছবি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। শিল্পী, চিত্রসমালোচক আর গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কে জিতবে এবারের পুরস্কার?
প্রদর্শনী ঘুরে দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছিল। প্রতিটি ছবিই যেন শান্তির একেকটি নিখুঁত দলিল –
-
প্রথম ছবি: বান্দরবানের কুয়াশাঘেরা পাহাড়। যার বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে সাঙ্গু নদী। আর দূর পাহাড়ে উঁকি দিচ্ছে ভোরের কাঁচা সোনা রোদ।
-
দ্বিতীয় ছবি: বর্ষা শেষের গ্রামীণ রূপ। কাশবনের ওপর দিগন্তজোড়া এক বিশাল রঙধনু। আর নিচে বিলে ফুটে আছে শাপলা।
-
তৃতীয় ছবি: এক শান্ত বিকেল। যেখানে হিজল গাছের ডালে পাখিরা ডানা জিরোচ্ছে। আর কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলে নৌকার মাঝি মনের সুখে ভাওয়াইয়া গাইছেন।
সবগুলো ছবিই এত চমৎকার ছিল যে বিচার করা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। একটির চেয়ে অন্যটি সেরা!
বসের জীবন কাহিনী জানলে আপনার দুঃখ থাকবে না

পর্দার আড়ালের চমক
অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। বিজয়ী ছবিটির ওপর একটি লাল মখমলের পর্দা টানা ছিল। গ্যালারির প্রধান বিচারক যখন মৃদু হাসিতে পর্দাটি সরিয়ে দিলেন। পুরো হলে এক মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এলো। তারপরই শুরু হলো গুঞ্জন। দর্শকেরা ধাক্কার মতো খেলেন। অনেকের মুখ হাঁ হয়ে গেল।
সবাই ভাবলেন, বিচারকেরা নিশ্চয়ই কোনো বড় ভুল করেছেন! কারণ, ক্যানভাসে শান্তির কোনো চিহ্নই ছিল না।
সেখানে আঁকা ছিল, কালবোশেখীর এক প্রলয়ংকরী রূপ। কুচকুচে কালো মেঘে আকাশ ঢাকা, চারদিকে বিদ্যুতের তীব্র চমক। ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়ছে গাছপালা। ঘরের চাল উড়ে যাচ্ছে, আর পদ্মার উত্তাল ঢেউ গ্রাস করতে চাইছে সবকিছু। কোথাও কোনো স্বস্তি নেই। শুধুই ধ্বংস আর হাহাকার।

ভেতরের আসল আলো
হলরুমের গুঞ্জন যখন ক্ষোভে রূপ নিতে যাচ্ছিল। তখন গ্যালারির মালিক মাইক হাতে মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন। শান্ত গলায় জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আপনারা কি একটু জুম করে, গভীর মনোযোগ দিয়ে ছবিটির ডান কোণায় তাকিয়েছেন?”
তিনি নিজেই ছবির একটি নির্দিষ্ট অংশের দিকে আঙুল তুললেন। ঝড়ের সেই তাণ্ডবের মাঝেই দেখা গেল, ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ একটি মাটির ঘর। সেই ঘরের ছোট্ট জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন সাধারণ মানুষ। বাইরে বজ্রপাত আর ঝড়ের তাণ্ডব চলছে। অথচ মানুষটির মুখে লেগে আছে এক চিলতে অমলিন, অপার্থিব হাসি। কোনো ভয় নেই, কোনো উদ্বেগ নেই। অত্যন্ত শান্ত চোখে তিনি প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ দেখছেন।
গ্যালারির মালিক সবার উদ্দেশ্যে বললেন:
“এটাই হলো আসল শান্তি। চারপাশ যখন শান্ত, তখন শান্ত থাকাটা খুব সহজ। কিন্তু চারপাশে যখন কালবোশেখীর ঝড় চলে, জীবন যখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। তখনও যে মানুষ নিজের ভেতরের বিশ্বাস আর স্থিরতা হারায় না। সেই আসল শান্ত মানুষ। শান্তি কেবল বাইরের পরিবেশের নাম নয়। শান্তি হলো মনের ভেতরের শক্তি। আপনার ভেতরে যদি আলো থাকে, বাইরের কোনো অন্ধকারই আপনাকে গ্রাস করতে পারবে না।”
জীবনে সুখী হওয়ার গোপন রহস্য জেনে নিন

মালিকের কথা শেষ হতেই পুরো হলরুম তালি আর প্রশংসায় ফেটে পড়ল। সবাই বুঝতে পারলেন, কেন এই ছবিটিই এ বছরের সেরা ‘শান্তির চিত্রকর্ম’।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৬/০৫/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

