ফাস্টিং কেন করবেন? কত ঘণ্টা ফাস্টিংয়ে উপকার হবে।
যদি সেটা আপনি জানেন, তাহলে ফাস্টিং করার আগ্রহ বেড়ে যাবে। আর ফাস্টিংয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা অসাধারণ। ওজন কমাতেও দারুণ উপকারী ফাস্টিং। চলুন শুরু করা যাক।
প্রতিদিন কয়বার খান? তিন বার, পাঁচ বার? নাকি অল্প অল্প করে বার বার খান? জানলে অবাক হবেন, এই বারবার খাওয়ায় আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। পেট ফুলে যায়, অস্বস্তি অনুভব হয়। ঘন ঘন খাওয়া এবং বেশি খাওয়া আপনার অসুস্থতার অন্যতম কারণ।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও প্রাকৃতিক সমাধান
আমাদের দেশে প্রায় মানুষই গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ভুগছে। এর প্রধানতম কারণ কম হজমশক্তি। হজমশক্তি বাড়াতে এবং সুস্থ থাকতে ফাস্টিং দারুণভাবে সাহায্য করে। নেই কোনো আর্থিক ব্যয়, খেতে হয় না ওষুধ।
যেভাবে দূর করবেন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

ঘণ্টার হিসাবে ফাস্টিংয়ের অসাধারণ উপকারিতা
কয় ঘণ্টা ফাস্টিং করলে কী উপকার পেতে পারেন, সেটাই জেনে নিন:
-
০ – ৮ ঘণ্টা: ফাস্টিংয়ে খাবার হজম হয় এবং চর্বি জমা হয়।
-
৮ – ১২ ঘণ্টা: ফাস্টিংয়ে গ্লাইকোজেন কমতে থাকে এবং মস্তিষ্ক কিটোন (Ketones) তৈরি করে শক্তি পাওয়া শুরু করে, যা মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
-
১৩ – ১৬ ঘণ্টা: ফাস্টিংয়ে গ্লাইকোজেন অনেক কমে যায় এবং শরীর চর্বি পোড়াতে শুরু করে। যেহেতু চর্বি পুড়ে, তাই ওজন কমে—বিনা পরিশ্রমে, বিনা খরচে।
-
১৬ – ২৩ ঘণ্টা: ফাস্টিংয়ে ‘অটোফেজি’ (Autophagy) শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন ও সেল (কোষ) পরিষ্কার করে। কর্মক্ষম সেল মরে যাওয়া সেল খেয়ে ফেলে এবং সেল রিসাইকেল হয়—যা বিশেষ করে লিভার, পেশি ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। আলঝেইমারস বা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে এই দীর্ঘস্থায়ী ফাস্টিং।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এবং উপকারিতা জেনে নিন

বিনামূল্যে শরীর মেরামতে স্টেম সেল
শরীরে স্টেম সেল তৈরি হয়, যা শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ মেরামত করে। স্টেম সেলের চিকিৎসাও আছে, কিন্তু তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অথচ ফাস্টিং করলে বিনা পয়সায় স্টেম সেল পাচ্ছেন।
ফাস্টিং চলাকালীন কী খাবেন?
বারবার খাওয়া নয়, ফাস্টিং করুন। ক্ষুধা পেলে গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, লেবু-ভিনেগার পানি কিংবা ব্ল্যাক কফি খান। পিংক সল্ট মেশানো পানিও খেতে পারেন।
ফাস্টিং নিয়ে ডাঃ এরিক বারগের ভিডিও দেখুন

অন্যদের সুস্থ রাখতে এবং উৎসাহিত করতে পোস্টটি শেয়ার করুন।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ০৬/১০/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড। তথ্যসূত্র: ড. এরিক বার্গ, ড. জাহাঙ্গীর কবির, ড. মজিবুর রহমান, ড. জেসন ফাং এবং বিভিন্ন মেডিকেল জার্নাল।

