কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় – ঢাকা শহরের ৬৬% কিশোর-কিশোরী কেন অক্ষম?

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়

আপনি ও আপনার পরিবার কি সত্যিই অলস?কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় 

আপনি কাজে কর্মে অক্ষম। আপনার পরিবারের সদস্যরাও আপনার মত। কি বিশ্বাস হয় না! কিভাবে সক্ষম হবেন। পরিবারের সদস্যদের সুস্থ এবং কর্মক্ষম করে তুলবেন, জেনে নিন সেই উপায়।
অফিসের কাজে প্রান যায় যায় অবস্থা! অথচ বস মনে করে আপনি অলস, ফাঁকিবাজ। আপনি ভাবেন আর কত করলে, বস লোকটা খুশি হবে!
আসলেই আপনি অলস, ফাঁকিবাজ। কি অবাক হচ্ছেন? তাহলে আসুন আর একটু গভীরে দেখি, তথ্য জেনে অবাক হবেন।
অফিস থেকে বাসায় ফিরে কি দেখেন? কিশোর ছেলেটা মোবাইল টিপসে। মেয়েটা অলস ঢঙে বিছানায় শুয়ে আছে। স্ত্রী ইন্টারনেটে টিভি দেখছে। সেখানে লাইভে কসমেটিক বিক্রি করছে এক আপু।
মেজাজ বিগরে যায় আপনার।
আপনি ভাবেন, এরা অলস, অকর্মা। ভাবনাটা ভুল নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমরা একটা গবেষণা রিপোর্ট দেখতে পারি। যা যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ (icddr,b) এবং ব্র্যাক ল্যাটার্ন প্রমোটিং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টাল স্টাডিজ।
তারা বলছেন, ঢাকা শহরের ১৮ বছরের নিচে কিশোর-কিশোরীদের ৬৬% ভাগ শারীরিক ভাবে অক্ষম। অর্থাৎ প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জন। স্বাস্থ্য সূচকে কাজের জন্য অনুপযুক্ত। সেই সাথে এরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৭০% , আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ৬৩%।
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়

শারীরিক অক্ষমতার মূল ৪টি কারণ

গবেষণায় কারন হিসেবে তারা যা প্রকাশ করেছেন –

  • পুষ্টিহীনতা ও অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা): খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানের ঘাটতি। রক্তস্বল্পতা কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত ক্লান্ত করে তোলে।

  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও খেলাধুলার অভাব: খোলা মাঠ ও পার্কের তীব্র সংকট। ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

  • মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা: পরিবেশগত কারণ, পড়াশোনার চাপ এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। যা দৈহিক কর্মক্ষমতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।

  • শহুরে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ: ঢাকা শহরের বায়ু বিষয়ে কমবেশি আপনি জানেন। এখানে বিষাক্ত বায়ু এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজমান। তাই বাসিন্দাদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া ও ক্রনিক স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর প্রভাব পরবে সমাজে, অর্থনীতিতে। শৈশব ও কৈশোরে স্বাস্থ্যহীনতার কারণে এই জনগোষ্ঠী প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উৎপাদনশীল কাজে সম্পূর্ণ অবদান রাখতে বাধাগ্রস্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতার কারণে পরিবারের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। নিজেকে সক্ষম করার একমাত্র উপায় ‘হেলদি লাইফস্টাইল’।

ঔষধ ছাড়াই আজীবন সুস্থ থাকার উপায় 

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়

হেলদি লাইফস্টাইল গড়ে তোলার ৬টি কার্যকর নিয়ম

১. আলট্রা প্রসেসড ফুড খাবেন না। আপনিও না বাসার অন্যরাও না। যেমন – কেক, বিস্কুট, পিতজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ডুবতেলে ভাজা খাবার, সাদা চিনি যুক্ত খাবার, দোকানের জুস, কোক, পেপসি সহ যে কোন সফট ড্রিঙ্ক।
২. ন্যাচারাল খাবার খাবেন। খাবারে প্রতিদিন শাকসবজি রাখুন। সামুদ্রিক, নদীর মাছ খাবেন। দেশি মুরগি, গরু, খাসী এগুলো খাবেন। ডিম খাবনে নিয়মিত। দেশী মুরগির ডিম না পেলে হাঁসের ডিম খান। ফার্মের ডিম খাবেন না।
৩. রাত ১১ টার মধ্যে বিছানায় চলে যান। ভোরে ঘুম থেকে উঠুন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন, হাঁটাহাঁটি করুন।
৫. জামাতে নামাজ আদায় করুন। নিঃশ্বাসের ব্যায়াম করুন। মানসিক সাস্থ্য ভালো থাকবে।
৬. প্রতিদিন ফাস্টিং করুন বা মাঝে মাঝে রোজা রাখুন।
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়
আশাকরি এতে করে আপনারা সুস্থ থাকবেন এবং সক্ষম হয়ে উঠবেন। নিজে ফিট থাকুন, সন্তানদের ফিট করে তুলুন। পোস্ট শেয়ার করে সবাই কে সতর্ক হতে সাহায্য করুন।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১১/১০/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

তথ্যসূত্র: ড. এরিক বার্গ, ড. জাহাঙ্গীর কবির, ড. মজিবুর রহমান, ড. জেসন ফাং এবং বিভিন্ন মেডিকেল জার্নাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *