সুন্নাহ সম্মত বিয়ে – ঋণমুক্ত ও শান্তিময় দাম্পত্য শুরুর চাবিকাঠি
আজকের সমাজে ‘বিয়ে’ শব্দটির সাথে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে বিপুল অর্থকড়ি, হরেক রকমের আয়োজন আর এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার নাম। কিন্তু যে সম্পর্কের সূচনা হওয়ার কথা ছিল প্রশান্তি ও বরকতের মাধ্যমে, তা কেন আজ শুরু হচ্ছে বিশাল ঋণের বোঝা আর সামাজিক মানসিক চাপ নিয়ে?
৮ ধাপের রাজকীয় আয়োজন এবং এক অদৃশ্য ঋণপত্র
আমাদের চারপাশের বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে কী দেখি? আজকাল কেবল একটা সাধারণ বিয়ে সারতে গিয়ে ব্যাংক থেকে বা পরিচিতদের থেকে লাখ লাখ টাকার লোন নেওয়া হচ্ছে। বিয়ের পর্বও যেন আর একটা-দুটোতে সীমাবদ্ধ নেই—পানচিনি, মেহেদি রাত, হলুদ সন্ধ্যা, বিয়ে, ওয়ালিমা, বউভাত সহ অন্তত আটটি ধাপে বিভক্ত!
অথচ একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন তো—ইসলামে নিকাহ তো অত্যন্ত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। সুন্নাহ অনুযায়ী বিয়ের মূল ভিত্তি হলো সহজ ‘আকদ’ (নিকাহ) এবং সাধ্যমতো ‘ওয়ালিমা’। ব্যাস, এটুকুই!
“সমাজ কী বলবে?”—এই এক অমূলক ভয় আমরা অনুষ্ঠান কমানো বা সহজ করতে পারি না কেবল একটি ভয়ে—“কাজিনের বিয়েতে তো বিশাল আয়োজন হয়েছিল, অমুক আংকেল কী বলবেন, দাদি কী বলবেন, লোকজনে কী সমালোচনা করবে?” লোকলজ্জার এই মিথ্যে ভয়ে বিচলিত হয়ে আমরা ক্রেডিট কার্ড কিংবা ঋণের পাহাড় কাঁধে তুলে নিই। ফলাফল? বিয়ের পর সেই ঋণ শোধ করতেই নবদম্পতির জীবনের প্রথম ২–৩ বছর কেটে যায় টানাটানির সংসারে!
জেনে নিন আল্লাহ কেন সাহায্য করেন

অর্থনৈতিক চাপ: দাম্পত্য ফাটলের নীরব কারণ
আপনারা কি জানেন, আজকাল দ্রুত বিয়ে ভেঙে যাওয়া বা দাম্পত্য অশান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো আর্থিক টানাপোড়েন? যে জীবনের সূচনা হয় ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপ দিয়ে, সেখানে শান্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। যে বাড়তি কষ্ট আপনাকেই দিনশেষে বইতে হবে, সমাজ বা অতিথিরা কিন্তু তা ভাগ করে নিতে আসবে না।
লন্ডনের এক সাধারণ বিয়ের বাস্তব গল্প
ইংল্যান্ডের এক শায়খের একটি চমৎকার বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলা যাক—
একদিন মাগরিবের নামাজের সময় এক তরুণ মসজিদে এসে বললেন—‘শায়খ, আপনি কি এখন একটা নিকাহ পড়াতে পারবেন?’ শায়খ রাজি হলেন। মাগরিবের পর মাত্র গুটিকয়েক মানুষ নিয়ে মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হলো। যার বিয়ে হচ্ছিল, তিনি কাজের পোশাকের ওপরই সেখানে হাজির ছিলেন! ওয়ালিমা হলো অত্যন্ত সাদামাটাভাবে। মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ। মিষ্টি কোলাকুলি, অভিনন্দন আর দোয়ায় ভরপুর এক চমৎকার আয়োজন!
দ্বীন আমাদের জন্য কতটা সহজ ব্যবস্থা এনেছে! নিকাহর মূল সৌন্দর্যই হলো এর সরলতায়। কিন্তু আমরা যখন লোকদেখানো আয়োজন দিয়ে একে জটিল করি, ঠিক তখনই সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয়।
যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল কারবালার পরে

ক্ষুদ্র অহংকার ও অনর্থক বিতর্ক
অতিরঞ্জিত বিয়ের আয়োজনে সাধারণত কী ঘটে?
-
কার রুম কেন ছোট হলো?
-
কে প্রথম সারির চেয়ারে বসতে পারল না?
-
কার পোশাক কেমন হলো?
এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ আর মনোমালিন্য। যে অনুষ্ঠান আনন্দ ছড়ানোর কথা ছিল, তা বদলে যায় তিক্ততায়। অথচ শরিয়াহ চেয়েছিল অত্যন্ত শান্ত, পবিত্র ও আনন্দময় একটি সম্পর্ক।
আমাদের করণীয়
নবিজি ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করাই আমাদের জন্য সবচেয়ে সহজ, সুন্দর ও নির্ভেজাল পথ। লোকদেখানো আড়ম্বর আর ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতি ছেড়ে চলুন আমরা বিয়েকে আবার সহজ, বরকতময় ও চাপমুক্ত করে তুলি।
বিয়ের বয়স নিয়ে বলছেন ডঃ আহাম্মদউল্লাহ

মুল লেখাটি ওস্তাদ নোমান আলি খানের ‘ বন্ধন ‘ বই থেকে নেয়া।
সেলিম হোসেন – তাং – ২৬/০৭/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেড।

