শুকতারা: অনিন্দ্য সুন্দরী জোহরা নাকি মহাকাশের এক বিস্ময়?
ভোরবেলা। চারপাশ শান্ত, নিস্তব্ধ। গেট দিয়ে বের হয়ে আমি হাতের ডানে হাঁটা শুরু করি। পায়ের নিচে সিমেন্ট আর পাথর মেশানো পাকা রাস্তা। দুই মিনিট সোজা হাঁটার পর ডানে ঘুরলেই মসজিদের পথ। ডানে তাকালে দেখা যায় গাছের সারি, যারা বাতাসের বুকে তাজা অক্সিজেন বিলিয়ে দিচ্ছে। নেরি কুকুরগুলো তখনো রাত জাগার ক্লান্তিতে ঘুমে মগ্ন। পুব আকাশে তাকিয়ে দেখি এক অখণ্ড সাদা মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে বসে আছে চাঁদ, আর তার পাশেই সগর্বে নিজের উজ্জ্বলতা নিয়ে তাকিয়ে আছে একটি উজ্জ্বল তারা—যার নাম শুকতারা।
ত্বক ফর্সা করতে টক দই। সুস্থতায় চাই টক দই।

শুকতারা কি আসলে জোহরা?
অনেকেই প্রশ্ন করেন, শুকতারার সাথে জোহরার সম্পর্ক কী? প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসিরে কিছু বর্ণনার উল্লেখ করেছেন, যেগুলোকে তিনি ইসরায়েলি বর্ণনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই প্রাচীন ব্যাবিলন শহরের একটি লোককাহিনী এখানে প্রাসঙ্গিক।
ব্যাবিলনে যখন পাপাচার চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন আল্লাহ তায়ালা মানবিক প্রবৃত্তি দিয়ে দুজন ফেরেশতা—হারুত ও মারুতকে সেখানে প্রেরণ করেন। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল মদ্যপান, ব্যভিচার ও শিরক থেকে দূরে থাকার। তারা দিনে মানুষের বিচার ফয়সালা করতেন এবং রাতে ইসমে আজম পড়ে আকাশে ফিরে যেতেন।
একদিন জোহরা নামের এক অপূর্ব সুন্দরী নারী তাদের কাছে বিচার নিয়ে আসলেন। বর্ণনায় পাওয়া যায়, জোহরা হারুত ও মারুতের কাছে সেই ‘ইসমে আজম’ বা মন্ত্রটি শেখার আবদার করলেন যা পড়লে আকাশে ওঠা যায়। সৌন্দর্যের মোহে পড়ে ফেরেশতাগণ তাকে সেই মন্ত্র শিখিয়ে দিলেন।
জোহরা সেই মন্ত্র পড়ে আকাশে উঠে গেলেন, কিন্তু নামার মন্ত্রটি তিনি ভুলে গেলেন। লোককাহিনী অনুযায়ী, তাকে সেখানেই তারকায় রূপান্তর করা হয়। সেই তারকাই পুব আকাশে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে থাকে, যাকে আমরা বলি শুকতারা, আর আরবিতে বলা হয় জোহরা তারা।
পড়ুন – পুলিশ স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলো স্ত্রী।

শুকতারা কখন দেখা যায়?
শুকতারাকে মূলত দিনের দুটি সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে দেখা যায়:
- ভোরবেলায়: পুব আকাশে যখন এটি দেখা দেয়, তখন আমরা একে ডাকি শুকতারা।
- সন্ধ্যায়: পশ্চিম আকাশে যখন এর উদয় হয়, তখন একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
বিজ্ঞানের চোখে শুকতারা
ধর্মীয় বা পৌরাণিক কাহিনীর বাইরে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কিন্তু ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুকতারা আসলে কোনো তারা বা নক্ষত্র নয়; এটি মূলত শুক্র গ্রহ (Venus)।
-
এটি সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ।
-
পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম হওয়ার কারণে একে পৃথিবীর ‘বোন গ্রহ’ বলা হয়।
-
সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়।
জেনে নিন – উপগ্রহ, পানিচক্র, মেঘ ও বৃষ্টি, শুকতারা ও সন্ধ্যাতারা।

ভোরের আহ্বান: এক আলোকিত জীবনের শুরু
ভোরবেলায় শুকতারার এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে বিছানা ছাড়তে হবে। মসজিদের পথে হাঁটার সময় সকালের সেই তাজা অক্সিজেন আর নীরবতা আপনার মনকে প্রশান্তিতে ভরে দেবে। প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু হওয়া দিনটি আপনার বিষণ্ণতার অন্ধকার কাটিয়ে নিয়ে আসবে এক নতুন আলো।
উপদেশ: শরীর ও মন ভালো রাখতে আজই নিয়ত করুন—প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন এবং প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।
বন্ধুদেরকে পোস্টটি শেয়ার করে দিন। সেলিম হোসেন – ১৫/০৭/২০২৪ ইং – ছবি গুলো প্রতীকী।

