ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি – শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার ৫ উপায়

ক্ষতিকর কেমিক্যাল

আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করি। প্রসাধনী তো লাগেই, বিশেষ করে বোনেদের। এছারাও খাই প্রসেসড ফুড। দৈনন্দিন জীবনে এসবের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ঢুকছে ৫টি ক্ষতিকর কেমিক্যাল। কিভাবে স্বাস্থ্য নষ্ট করছে জানেন কি ? এই বিষাক্ত উপাদানগুলোর উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে বাঁচার কার্যকরী উপায় গুলো জানব আজকে। চলুন শুরু করি।

দৈনন্দিন জীবনে ৫টি ক্ষতিকর কেমিক্যাল এবং তা থেকে বাঁচার উপায়

আমরা প্রতিদিন সুস্থ থাকার চেষ্টা করি, ভালো খাবার খাই। কিন্তু আমাদের চারপাশের অতি সাধারণ কিছু জিনিসের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ? আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের পূর্বপুরুষদের তুলনায় আমরা কয়েকশ গুণ বেশি কেমিক্যালের সংস্পর্শে থাকছি। যা নীরবে আমাদের ঠেলে দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি রোগের দিকে।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব এমন ৫টি উৎস নিয়ে, যা আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাজারি পন্য নয়, ন্যাচারালি লিভার ডিটক্স করুন 

ক্ষতিকর কেমিক্যাল
ক্ষতিকর কেমিক্যাল

১. পারসোনাল কেয়ার প্রোডাক্ট: সৌন্দর্যের আড়ালে বিষ

আমরা প্রতিদিন শ্যাম্পু, লোশন বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করি। কিন্তু এগুলোতে থাকা প্যারাবেন (Parabens) এবং থ্যালেট (Phthalates) শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে। এমনকি কৃত্রিম সুগন্ধি বা সিন্থেটিক ফ্র্যাগ্রেন্স থেকে ত্বকের ক্যান্সার ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে।

২. প্লাস্টিক ও BPA-এর নীরব ঘাতক

বাজারে নানান রঙের প্লাস্টিকের বোতল। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে রঙিন প্লাস্টিক বোতলে পানি দেই। নিজেরা খাই দোকানের প্লাস্টিক বোতলের পানি। প্লাস্টিকের পানির বোতল বা খাবারের পাত্রে থাকে BPA (Bisphenol A)। যখন আমরা গরম খাবার বা পানীয় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখি, তখন এই কেমিক্যাল খাবারের সাথে মিশে যায়। এটি দীর্ঘমেয়াদে হার্টের সমস্যা এবং হরমোনজনিত জটিলতার প্রধান কারণ।

৩. শাকসবজিতে বিষাক্ত কীটনাশক (Pesticides)

অর্গানিক বা জৈব পদ্ধতিতে চাষ খুবই কম। চাষ করা বেশীরভাগ সবজিতে গ্লাইফসেট ও ক্লেথোডিমের মতো শক্তিশালী কীটনাশক থাকে। এগুলো আমাদের অন্ত্রের বা ‘গাট’-এর উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। হজম শক্তি কমিয়ে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।

৪. ভারি ধাতু বা হেভি মেটালের ঝুঁকি

মাছ, দাঁতের পুরনো ফিলিং কিংবা রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্র থেকে পারদ (Mercury)সীসা (Lead) আমাদের রক্তে মিশছে। এই ভারি ধাতুগুলো সরাসরি মস্তিষ্ক ও কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

৫. মোল্ড ও মাইকোটক্সিন: অদৃশ্য শত্রু

বাড়ির স্যাঁতসেঁতে কোণ বা পুরনো দেয়ালে অনেক সময় খালি চোখে দেখা যায় না এমন মোল্ড (Mold) তৈরি হয়। এগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত স্পোর শ্বাসকষ্ট, স্মৃতিভ্রম এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

কোন প্রসেসড ফুড কিভাবে সাস্থ্যের সর্বনাশ করে জেনে নিন 

ক্ষতিকর কেমিক্যাল
ক্ষতিকর কেমিক্যাল

কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?

নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিচের ৩টি ছোট পরিবর্তন আজই শুরু করুন:

  • লেবেল চেক করুন: প্রসাধনী কেনার সময় ‘Paraben-free’ বা ‘Sulfate-free’ দেখে কিনুন।

  • কাঁচ বা স্টিলের পাত্র: প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পানির বোতল ও টিফিন বক্স ব্যবহার করুন।

  • অর্গানিক খাবার: চেষ্টা করুন স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত জৈব শাকসবজি বেছে নিতে এবং খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে।

  • ঘরের কোন শুকনো পরিচ্ছন্ন রাখুন।

উপসংহার: সুস্থ থাকা মানে শুধু ব্যায়াম করা নয়। নিজেকে বিষমুক্ত রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন হোন, একটিভ থাকুন, আজীবন সুস্থ থাকুন।

পড়তে প্লাস্টিক নিয়ে এশিয়ান অর্গানাইজেশনের রিসার্চ 

লেখক – সেলিম হোসেন – তাং ০৯/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো পেক্সেলস এবং এ আই জেনারেটেটেড।

Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *