ভালবাসার শক্তি – শিশুর সুস্থতায় প্রয়োজন মা-বাবার স্পর্শ
সুজানা—দুই বছরের এক ফুটফুটে শিশু। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা ছিল উদ্বেগজনক। ওজন মাত্র ১৫ পাউন্ড আর উচ্চতা ২৮ ইঞ্চি। যা একজন দশ মাস বয়সী শিশুর সমান। সুজানা কথা বলতে পারতো না। এমনকি হামাগুড়ি দিতেও শিখেনি। অবাক করা বিষয় হলো, তার বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও কোনো শারীরিক সমস্যা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
আমেরিকার একটি নামকরা হাসপাতালে ভর্তি করা হল। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলল। বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকরা জানালেন, সুজানা কোনো শারীরিক রোগে নয়, বরং ‘মেন্টাল ডিপ্রেশন সিনড্রোম’-এ ভুগছে। কি আশ্চর্য, এতটুকু মেয়ের মেন্টাল ডিপ্রেশন ! তো আসুন জেনে নিই, আসল ঘটনা কি।
চিকিৎসার নাম যখন ‘ভালোবাসা’
সুজানার চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হল। কোনো কড়া ওষুধের নয়। তার চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল অনন্য:
-
সপ্তাহে পাঁচ দিন একজন নার্স তাকে মায়ের মতো সেবা দেবেন।
-
প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা আদর, স্পর্শ এবং গভীর মমতা দিয়ে যত্ন নেওয়া।
-
হাসপাতালের স্টাফরা সময় পেলেই তাকে কোলে নিয়ে খেলা করবেন।
ফলাফল: মাত্র দুই মাসেই সুজানার ওজন ৬ পাউন্ড এবং উচ্চতা ২ ইঞ্চি বেড়ে গেল! যে শিশুটি ভয়ে গুটিয়ে থাকতো, সে এখন হাসে। মানুষের সাথে মিশতে চায় এবং হাত ধরে হাঁটতে শুরু করেছে।
আপনিও কি সন্তানের সাথে এই ভুল গুলো করছেন

এরিক বার্নের ‘স্পর্শের চাহিদা’ তত্ত্ব
বিখ্যাত গবেষক ও মনোরোগ চিকিৎসক এরিক বার্ন বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো ‘স্পর্শ’ বা ‘Strokes’। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবার স্পর্শ শরীরে ইতিবাচক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা তাদের দ্রুত বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
কর্মজীবী মা-বাবার প্রতি পরামর্শ
আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ক্যারিয়ার নিয়ে দিশেহারা। কিন্তু মনে রাখবেন:
-
আপনার অনুপস্থিতিতে শিশুটি একাকীত্বে ভুগছে।
-
বাসায় ফিরে স্মার্টফোন সরিয়ে রাখুন।
-
শিশুকে জড়িয়ে ধরুন, কোলে নিন এবং তার কথা শুনুন।
বাবা মায়ের অন্যায় নিয়ে বলছেন ডঃ আহাম্মদউল্লাহ

সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রলিংয়ের চেয়ে আপনার সন্তানের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা অনেক বেশি জরুরি। ভালোবাসার স্পর্শই পারে একটি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ জীবন দিতে।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১১/০৫/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

