ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা—বুঝুন এর কারণ ও লক্ষণগুলো
আপনার মন ভালো নেই। মাঝে মধ্যেই হতাশ হয়ে পরেন। আশপাশে অনেকের মুখেই শুনেন “মন ভালো নেই” বা “ডিপ্রেশনে আছি”। কিন্তু ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা আসলে কেবল সাময়িক মন খারাপ নয়। এটি একটি গভীর মানসিক ও শারীরিক জটিলতা। আজ আমরা আলোচনা করব ডিপ্রেশন কেন হয় এবং এর লক্ষণগুলো কী কী।
ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা কেন হয়? (ডিপ্রেশনের কারণ)
ডিপ্রেশনের অন্যতম প্রধান জৈবিক কারণ হলো মস্তিষ্কে সেরোটোনিন (Serotonin) নামক নিউরোট্রান্সমিটারের হ্রাস। এই সেরোটোনিনকে বলা হয় ‘সুখের হরমোন’ (Happiness hormone)। এটি ছাড়াও ডোপামিন বা নরএপিনেফ্রিনের ভারসাম্যহীনতাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
ডিপ্রেশনের পেছনে সাধারণত তিনটি বড় কারণ থাকে:
-
বংশগতি: পরিবারে যদি বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়ের ডিপ্রেশনের ইতিহাস থাকে, তবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০-৩০% বেড়ে যায়।
-
ব্যক্তিত্বের ধরন: অনেক সময় মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা চিন্তার ধরন ডিপ্রেশনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
-
অতীতের আঘাত (Trauma): শৈশবে ঘটা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যেমন— বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, প্রিয়জনের মৃত্যু বা শারীরিক/যৌন নির্যাতন পরবর্তী জীবনে বিষণ্ণতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মন ভালো করতে সন্যাস গুরুর সহজ পরামর্শ

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার প্রধান লক্ষণসমূহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি নিচের লক্ষণগুলো টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি থাকে, তবে তাকে ডিপ্রেশন হিসেবে ধরা হয়। লক্ষণগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. মানসিক লক্ষণ:
-
সারাক্ষণ মন খারাপ বা অশান্তি অনুভব করা।
-
সকালের দিকে মন বেশি খারাপ থাকা এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে মন কিছুটা ভালো হওয়া।
-
আগে যেসব কাজে আনন্দ পেতেন (যেমন- গান শোনা, ঘুরতে যাওয়া), এখন সেসবে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
-
নিজেকে তুচ্ছ বা অপরাধী মনে করা এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা।
-
মনোযোগের অভাব বা কোনো কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি করা।
-
মরে যাওয়ার ইচ্ছা বা আত্মহত্যার চিন্তা করা।
২. শারীরিক লক্ষণ:
-
ঘুমের সমস্যা: খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুম।
-
খাদ্যাভ্যাস: খিদে কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়া। যার ফলে ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়।
-
শারীরিক ব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই মাথাব্যথা বা শরীরে জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
-
ক্লান্তি: সারাক্ষণ অবসাদগ্রস্ত থাকা এবং কোনো কাজে শক্তি না পাওয়া।
-
নারীদের সমস্যা: হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে নারীদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের অনিয়ম দেখা দিতে পারে।
৩. সামাজিক লক্ষণ:
-
দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা তৈরি হওয়া।
-
মানুষের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।
-
খিটখিটে মেজাজ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে তুচ্ছ কারণে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়া।
ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে ভিডিওটি দেখুন

ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা নিয়ে শেষ কথা
ডিপ্রেশন কোনো লজ্জা বা লুকানোর বিষয় নয়। এটি নিউরোট্রান্সমিটারের তারতম্যজনিত একটি রোগ। যা সঠিক চিকিৎসা এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। আপনার বা আপনার পরিচিত কারো মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করুন। হেলদি লাইফস্টাইল অনুসরন করুন। সমস্যা খুব বেশি হলে, দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যে লাইফস্টাইল বিনা ঔষধে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেয়

তথ্যসূত্র: ‘দ্য ইনড অফ মেন্টাল ডিসঅর্ডার’ বই থেকে সংগৃহীত।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৭/০৩/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেড।

