দেড় কোটি টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন – নেপথ্যে ঘরের শত্রু বিভীষণ

দেড় কোটি টাকা চুরি

দেড় কোটি টাকা চুরি: মাস্টারমাইন্ড নিজের একমাত্র মেয়ে!

রাজধানীর মোহাম্মদপুর। অপরাধ প্রবণ এলাকা। এক ব্যবসায়ীর বাসা থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির তদন্ত করতে যায় পুলিশ। তারা জানতে পারে অজ্ঞাত কোনো চোর নয়, বরং এই চুরির মূল মাস্টারমাইন্ড স্বয়ং ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে! কেন নিজের মেয়ে সিন্দুক থেকে টাকা চুরি করল ? জানুন সেই অদ্ভুত কাহিনী।

ঈদ উদযাপনের মাঝেই ফাঁকা বাসায় কোটি টাকার চুরি

ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ ওরফে বাবুল পেশায় একজন ঠিকাদার। ঈদুল আজহার দুই দিন আগে তিনি পরিবার নিয়ে ভোলার গ্রামের বাড়িতে যান। ঈদ শেষে মোহাম্মদপুর বাসায় ফেরেন ২০ জুন ২০২৪ সাল। ঢাকায় ফেরার ১১ দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১ জুলাই তিনি যখন বাসার টাকা রাখার সিন্দুক খোলেন। তখন তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। তিনি দেখেন সিন্দুকে থাকা ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার একটি বড় অংশ গায়েব!

বাসার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্ত কোনো সুরাহা মেলেনা। নিরুপায় হয়ে ৪ জুলাই মেয়ে মিনাকে সঙ্গে নিয়েই মোহাম্মদপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন আবদুল হামিদ।

পুরুষাঙ্গ দেখানোর ঘটনা গুলো জানলে অবাক হবেন 

দেড় কোটি টাকা চুরি
দেড় কোটি টাকা চুরি

যেভাবে চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করল মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ

মামলা দায়েরের পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পায়। পুলিশ দেখতে পায়, বাসার দরজা কিংবা সিন্দুকের তালা—কোনোটিই ভাঙা হয়নি। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুল হক ভূঞা জানান:

“যেহেতু কোনো তালা ভাঙা হয়নি, তাই আমাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল ঘরের কোনো সদস্য এই চুরির সঙ্গে জড়িত। চাবি ছাড়া সিন্দুক খোলা সম্ভব নয়।”

পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে মিনা হামিদের ওপর। টানা চার দিন পুলিশ কৌশলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অবশেষে মিনা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে সিন্দুক খুলে তিনি টাকা চুরি করেছিলেন।

ভালোবাসার টানে চুরি: আইন পড়ুয়া মিনার স্বীকারোক্তি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, মিনা হামিদ লন্ডনের ‘বার-অ্যাট ল’ (ব্যারিস্টারি) পড়াশোনা করছেন। পরিবারের অমতে তিনি গত বছর গোপনে বিয়ে করেন। তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর করা সাকিবুল হাসানকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনা পুলিশকে জানান:

  • তাদের এই বিয়ে পরিবার কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

  • পরিবারকে না জানিয়ে সাকিবুলের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করার জন্য তাঁর প্রচুর টাকার প্রয়োজন ছিল।

  • এই কারণেই তিনি বাবার সিন্দুক থেকে টাকা চুরি করে স্বামীর হাতে তুলে দেন।

কেন স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে বিয়ে দিলেন স্বামী 

দেড় কোটি টাকা চুরি
দেড় কোটি টাকা চুরি

সিরাজগঞ্জ থেকে ৯০ লাখ টাকা উদ্ধার ও আসামিদের জেলহাজত

মিনার স্বীকারোক্তির পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায়। তাঁর স্বামী সাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে। সাকিবুল মিনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়। মোটরসাইকেলে করে সিরাজগঞ্জেে। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে চুরির ৯০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। বাকি টাকার সন্ধানে তদন্ত চলমান।

গত ৮ জুলাই মিনা হামিদ ও তাঁর স্বামী সাকিবুল হাসানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় মামলার বাদী ও মিনার বাবা আবদুল হামিদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লেখক – সেলিম হোসেন – তাং- ১৭/০৫/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *