বিয়ার গ্রিলস এর জীবনী: রোমাঞ্চকর জীবনী ও সফলতার গল্প
এই গ্রহের অন্যতম জনপ্রিয় সেলিব্রিটি, যিনি প্রতিদিন অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেন। লম্বা-চওড়া গড়ন আর অদম্য সাহসের সেই মানুষটি আমাদের সবার কাছে বিয়ার গ্রিলস (Bear Grylls) নামে পরিচিত। তিনি একাধারে চিফ স্কাউট, অভিযাত্রী, লেখক, প্রেরণাদায়ক বক্তা এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। ডিসকভারি চ্যানেলের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ শো-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
বিয়ার গ্রিলস ১৯৭৪ সালের ৭ জুন উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা স্যার মাইকেল গ্রিলস ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির একজন রাজনীতিবিদ এবং মা লেডি গ্রিলস। মজার ব্যাপার হলো, তার নাম কিন্তু জন্মের সময় ‘বিয়ার’ ছিল না। তার বড় বোন লারা ফসেট, বিয়ারের বয়স যখন মাত্র এক সপ্তাহ, তখন তাকে এই নামটি দেন।
২০০০ সালে তিনি সারা গ্রিলসকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের ঘরে তিন পুত্রসন্তান রয়েছে— জেসি, মার্মাডিউক এবং হাক্লবেরি।
জীবনে প্রচুর ধনসম্পদ অর্জন করলেই কি আপনি সফল ? আল্লাহর রাসুল ( রঃ ) কি বলেন এই বিষয়ে।

পড়াশোনা ও সামরিক জীবন
বিয়ার গ্রিলসের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ইটন হাউস এবং ইটন কলেজে। সেখানে তিনি প্রথম পর্বতারোহণ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
-
সেনাবাহিনী: ছাত্রজীবন শেষ করে তিনি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ইউনাইটেড কিংডম স্পেশাল ফোর্স রিজার্ভে (SAS) ৩ বছর কাজ করেন।
-
দক্ষতা: তিনি কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্ত এবং ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষায় দক্ষ।
-
সম্মাননা: মানবসেবায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তাকে সম্মানসূচক ‘লেফটেন্যান্ট কমান্ডার’ পদ দেয়া হয়। ২০০৯ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ ‘চিফ স্কাউট’ হিসেবে নিযুক্ত হন।
কেন ডিভোর্স বাড়ছে, কিসে ধ্বংস হয় দাম্পত্য জীবন। পরিত্রাণের উপায় কি ?

ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য গল্প: বিছানা থেকে এভারেস্টের চূড়ায়
বিয়ার গ্রিলস আজ যেখানে দাঁড়িয়ে, তার পেছনের গল্পটি অত্যন্ত করুণ কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার পা এবং পিঠ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডাক্তাররা বলেছিলেন, তিনি আর কখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না।
বিছানায় শুয়ে থাকা সেই বিষণ্ণ দিনগুলোতে তার বাবা তাকে হিমালয়ের একটি ছবি দেখান এবং বলেন, “জীবনে একবার হলেও তুমি এই হিমালয়ের চূড়ায় উঠবে।” বাবার সেই অদম্য বিশ্বাস আর নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে তিনি:
- এক সপ্তাহের মধ্যে বিছানা ছাড়েন।
- এক মাসের মধ্যে দৌড়ানো শুরু করেন।
- মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন!
সফলতা আসবেই, কোন পথে ? আমরা কি সেটা জানি ?

বিয়ার গ্রিলস এবং আপনার সফলতা: একসূত্রে গাঁথা
বিয়ার গ্রিলস যা করেন—ভয়ঙ্কর জায়গায় ঘুরে বেড়ানো বা অদ্ভুত সব খাবার খাওয়া—তা সাধারণ মানুষের কাছে অসম্ভব মনে হতে পারে। কিন্তু তার মূল অস্ত্র হলো ইচ্ছাশক্তি।
আপনিও আল্লাহ তায়ালার এক ইউনিক সৃষ্টি। আপনার মতো দ্বিতীয় কেউ এই পৃথিবীতে নেই। আপনার ভেতরেও এমন একটি শক্তি আছে যা দিয়ে আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
কুরআনের বাণী: “যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না, আল্লাহ তাদের সাথে তেমনি আচরণ করেন।” (সূরা কাসাস, আয়াত: ৮৩)

পড়ুন – বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে শুটিংয়ে আহত দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার রজনীকান্ত।
জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ: সুস্থতা
আমরা সফলতার পেছনে ছুটতে গিয়ে স্বাস্থ্যকে অবহেলা করি। কিন্তু মনে রাখবেন, অসুস্থ শরীরে সফলতা উপভোগ করা যায় না। বিয়ার গ্রিলসের মতো অদম্য হতে হলে আপনাকে হেলদি লাইফ স্টাইল অনুসরণ করতে হবে।
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।
-
ব্যায়াম করুন।
-
সঠিক খাবার গ্রহণ করুন।
সুস্থ থাকলে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ এবং আনন্দদায়ক হবে। বিয়ারের সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি আজ আপনার নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্য কাজে লাগান।

উপসংহার: মানুষ হিসেবে আমরা তখনই সার্থক যখন আমাদের কর্মে অন্যের কল্যাণ থাকে এবং আমাদের শরীর ও মন সুস্থ থাকে। বিয়ার গ্রিলসের জীবন আমাদের শেখায়—হেরে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানোই আসল বীরত্ব।
লেখক: সেলিম হোসেন
তারিখ: ১৫/১২/২০২২ ইং
(ছবিগুলো প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত)

