পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা ঃ কেমন ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবন?

পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা

💖 ১. পুরানো বাংলার অজানা অধ্যায় – 

সুন্দরী বউ যে কোন যুবকের একান্ত কামনা। আর তা যদি কাশ্মীরি সুন্দরী তাহলে তা সাত জনমের ভাগ্য। কাশ্মীরি সুন্দরী বউ পেয়েছিলেন ঢাকার এক যুবক। তারপর ঘটে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। যা জেনে রীতিমত চমকে উঠবেন। এমন ঘটনা আপনি কখনো শুনেন নাই! তেমনি একটি কাহিনী বইতে তুলে ধরেছেন, জি এম গ্রাহাম।

🚂 পুরানো বাংলায় ১৮৬০-এর বাংলা ও পালকির সফর

তিনি বাংলায় নিয়োজিত একজন ব্রিটিশ রাজকর্মচারী ছিলেন। ১৮৬০ সালের পর ব্রিটিশ ভারতে আসেন। ডিসেম্বর মাসের মাসের ২৬ তারিখে তিনি হাওড়া স্টেশনে পৌঁছান। সেখান থেকে তার যাত্রাপথ কেমন ছিল? তিনি ঘণ্টায় ছয় মাইল বেগে চলেছেন। এই গতিতে খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেন। আজকের দিনে এমন গতির কথা ভাবা যায়!

চোখ ভরে দেখেছেন বাংলাকে। এপার বাংলা ওপার বাংলা। উপভোগ করেছেন পরম আন্তরিকতায়। কখনো চলার পথ পাড়ি দিয়েছেন পালকিতে। চলেছেন মাইলের পর মাইল।

জীবনে সফলতা কিভাবে আসে জানতে পৃথিবীর বেস্ট সেলার বই ‘ দ্যা আল্কেমেমিষ্ট ‘ বইটি পড়ুন। 

পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা
পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা

⚖️ ব্রিটিশ আমলের আদালত ও হাস্যরসের সূচনা

বর্তমান যে বিচার ব্যবস্থা আমরা দেখি, সেটা ব্রিটিশ আমলে শুরু হয়। জি এম গ্রাহাম যখন ম্যাজিস্ট্রেট হন, তখন থেকেই। তার বয়ানে শুনুন প্রথম দিকের আদালতে কেমন হাস্যরসের সৃষ্টি হত –

প্রথম একজন বিধবা মহিলার অভিযোগ এল আমার কাছে। তার নাম লক্ষ্মী তেলিনী। এই মহিলার একটি ছোট দোকান আছে পাশের গ্রামে। তেল ও অন্যান্য মুদিদ্রব্যের দোকান। দেখলাম মোক্তারের সামনে শান্তভাবে বসে আছে। কিন্তু চাপরাসি যেই তাকে ডাকল অমনি সে চিৎকার করতে করতে ঢুকল, “হাকিম! আপনিই আমার মালিক! আপনিই গরিবের পালনকর্তা, আমি খুবই গরিব, আমার সব শেষ হয়ে গেছে, আমি এক বিধবা, রাম সিং আমার বাড়ি এসে…”

কেরানি : “উঠে দাঁড়াও, শপথ কর।”

অভিযোগকারী (উঠে দাঁড়িয়ে) : “কী?”

কেরানি : “বলো, আমার ধর্মের দোহাই।”

অভিযোগকারী : “হাকিম! আপনি ভগবান!”

কেরানি : “শোনো, আমি যা বলি তা-ই বলো।”

অভিযোগকারী : “আচ্ছা।”

কেরানি : “আমার ধর্মের দোহাই।”

অভিযোগকারী : “আমার ধর্মের দোহাই।”

কেরানি : “আমি আমার পরমেশ্বরের নামে বলছি।”

অভিযোগকারী : “আমি আমার পরমেশ্বরের নামে বলছি।” (আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে) “হাকিম! ও ভগবান! রাম সিং আমার দোকানে এসেছিল।”

কেরানি : “তুমি কি শপথ নেবে?”

অভিযোগকারী : “হাকিম! ও ভগবান! আমি কিছু বুঝি না। আমি একজন বিধবা। রাম সিং আমার দোকানে এসেছিল…”

কেরানি: (রেগে গিয়ে) “চলে যাও! তুমি কি শপথ নেবে?”

অভিযোগকারী : “ও হাকিম! ও ভগবান! (কিছুটা স্থির হলো)”

কেরানি : “আমার ধর্মের দোহাই, আমি আমার পরমেশ্বরের নামে বলিতেছি, এই মামলায় যাহা বলব সত্য বলিব…”

অভিযোগকারী : “দোহাই”… “সত্য বলব”… “অবশ্যই সত্য বলব। আমি কি এখানে মিথ্যে বলতে এসেছি? এ সবই সত্য। হাকিম! আপনিই আমার মা বাপ! রাম সিং আমার দোকানে এসেছিল…”

কেরানি : (অভিযোগকারীর মহিলা আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কিত করে মোক্তারকে কিছু গালিগালাজ করে তাকেই বলল) “মহিলাকে বোঝান, তাকে অবশ্যই শপথ নিতে হবে।”

মোক্তার : (নতুন হাকিমের করুণা পাওয়ার চেষ্টায়) “উনি গরিব মহিলা মানুষ!”

কেরানি : “শোনো লক্ষ্মী, তুমি যদি শপথ না নাও, হাকিম সাহেব তোমার কোনো কথাই শুনবেন না।”

আফটার দ্য প্রফেট বইয়ের রিভিউ দেখতে ক্লিক করুন 

পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা
পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা

🏛️ রাম সিংয়ের অপরাধ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সমন 

এভাবে আরও দু-তিন বারের চেষ্টায় তার শপথ নেয়া সম্ভব হলো। পরে অভিযোগ শুনে যা বুঝলাম তার সারমর্ম করলে যা দাঁড়ায় – ‘রাম সিং লক্ষ্মীর দোকানে তেল কিনতে এসেছিল, কিন্তু তেল নিয়ে দাম পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তা-ই নয়, মহিলাকে লাথি-ঘুসি মেরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে চলে যায়।

যাওয়ার সময় আবার তার গায়ের চাদরটাও নিয়ে যায়।’ জানলাম, এই ঘটনার পাঁচজন সাক্ষীও আছে। এই ঘটনা ঘটেছে দশ দিন আগে। একটু অবাক হলাম। আমি বিবাদী ও সাক্ষীদের নামে সমন জারি করে সেদিনের মতো আদালতের কাজ শেষ করলাম।

🏛️ ঢাকার কালেক্টর জি এম গ্রাহাম ও তৎকালীন সমাজ

১৮৬৮ সালে কোলকাতা থেকে তাকে বদলি করে ঢাকায় পাঠানো হয়। জি এম গ্রাহাম ছিলেন ঢাকার কালেক্টর। অসাধারন লেখনিতে বর্ণনা করেছেন তৎকালীন ঢাকাকে। কেমন ছিল ঢাকা? ঢাকার আশপাশ? মুসলিম সমাজ কেমন ছিল? চোখের সামনে ছবির মত ভেসে উঠবে।

‘ অনলি ফর ম্যান ‘ বইয়ের ভিদিও রিভিউ 

 

পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা
পুরানো বাংলা ১৮৬০ এর ঢাকা

📖 পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রা জানার সুযোগ

বইয়ের অনুবাদ টা সুন্দর হয়েছে। পড়তে পারেন, অনেক ভালো লাগবে। জানতে পারবেন আমাদের পূর্ব পুরুষদের জীবনযাপন কেমন ছিল।

লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১২/০৯/২০২৬ ইং – প্রতিকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *