ইবাদত ও প্রার্থনা আপনার মস্তিস্কের গঠন পরিবর্তন করে। ডিএনএ-র ক্ষয় রোধ করে। কিভাবে করে ? মানসিক প্রশান্তি আনে। আসুন দেখি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য বিশ্লেষণ।
ইবাদত ও প্রার্থনা: শুধু মানসিক প্রশান্তি নাকি আধুনিক ‘নিউরোলজিক্যাল থেরাপি’?
আমরা অনেকেই ভাবি, প্রার্থনা বা ইবাদত কেবল পরকালের পাথেয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত আধ্যাত্মিক চর্চা আপনার মস্তিস্কের জন্য এক জবরদস্ত ‘সার্ভিসিং সেন্টার’!
বিজ্ঞান আগে আমাদের জানিয়েছিল, জিন হলো আপনার জীবনের ব্লু-প্রিন্ট। সেই ব্লু-প্রিন্টের ‘মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে ইবাদত বা মেডিটেশন কাজ করে। আপনার মস্তিষ্ক আর ডিএনএ-র সাথে লুকোচুরি খেলে।
১. প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে ‘বস’ মোড অন!
আমাদের মস্তিস্কের সামনের অংশ (Pre-frontal Cortex) হলো অনেকটা অফিসের বসের মতো। সিদ্ধান্ত নেওয়া, মনোযোগ দেওয়া এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এর প্রধান কাজ।
-
প্রভাব: আপনি যখন গভীর মনোযোগ দিয়ে নামাজ আদায় বা প্রার্থনা করেন, তখন এই অংশটি সুপার-অ্যাক্টিভ হয়ে যায়।
-
ফলাফল: আপনার ফোকাস বাড়ে এবং হঠকারী বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়। সোজা কথায়, আপনার ভেতরের ‘ডিসিশন মেকার’ তখন অনেক বেশি শার্প থাকে।
ওয়ারেন বাফের সেই বিখ্যাত প্রশ্নটি কি

২. অ্যামিগডালা: রাগী বিড়াল যখন শান্ত হয়
মস্তিস্কে ‘অ্যামিগডালা’ নামে একটি অংশ আছে। যা মূলত ভয় আর রাগের সেন্টার। আপনি যখন দুশ্চিন্তা করেন, এটি তখন ফুঁসতে থাকে।
-
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: নিয়মিত ইবাদত এই অংশটিকে শীতল করে দেয়। গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত আধ্যাত্মিক চর্চা করেন, তাদের স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনি থাকতে পারেন একদম ‘কুল’।
৩. মস্তিস্কে ‘হ্যাপি হরমোনের’ পার্টি!
প্রার্থনার সময় মস্তিস্কে ডোপামিন, অক্সিটোসিন আর সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এগুলো হলো শরীরের প্রাকৃতিক ‘ফিল গুড কেমিক্যাল’।
মজার তথ্য: ডিপ্রেশনের ওষুধে যা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়, আপনার মস্তিস্ক প্রার্থনার মাধ্যমে সেটি একদম ফ্রিতে উৎপাদন করে। ইবাদত যেন মস্তিস্কের জন্য এক টুকরো ডার্ক চকলেট!
৪. নিউরোপ্লাস্টিসিটি: মস্তিস্কের ‘র্যাম’ আপগ্রেড
একসময় ভাবা হতো বয়স বাড়লে মস্তিস্ক শুকিয়ে যায়। কিন্তু না! নিয়মিত প্রার্থনা বা জিকির করলে মস্তিস্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ তৈরি হয়। যাকে বলা হয় Neuroplasticity। এটি অনেকটা আপনার পুরনো ফোনের র্যাম (RAM) আপগ্রেড করার মতো। যা স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মস্তিস্ককে রাখে চিরতরুণ।
আসল ম্যাজিক: জিন ও টেলোমেয়ারের রক্ষা কবজ
এখানেই সবচেয়ে বড় টুইস্ট! ২০০৯ সালে নোবেলজয়ী এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্ন দেখিয়েছেন যে, তীব্র মানসিক চাপ আমাদের ডিএনএ-র প্রান্ত বা টেলোমেয়ার (Telomere) ছোট করে দেয়। যা দ্রুত বুড়ো হওয়ার লক্ষণ।
কিন্তু যারা নিয়মিত শান্ত মনে প্রার্থনা বা মেডিটেশন করেন, তাদের এই টেলোমেয়ারগুলো সুরক্ষিত থাকে। অর্থাৎ, প্রার্থনা সরাসরি আপনার জিনের ক্ষয় রোধ করে আপনাকে দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করছে!
টাকা খরচ ছাড়াই শরীর কে ভেতর থেকে পরিস্কার করুন

আজকের ‘স্পিরিচুয়াল ডোজ’: যা করবেন
আপনার মস্তিস্ককে রিচার্জ করতে প্রতিদিন এই তিনটি কাজ করতে পারেন:
১. কোয়ালিটি টাইম: নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করুন। দিনে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সব কোলাহল ভুলে সৃষ্টিকর্তার সাথে কানেক্টেড হোন।
২. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: রাতে যখন ঘুমাতে যাবেন, তখন অন্তত ৩টি জিনিসের জন্য শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এটি মস্তিস্কের নেতিবাচক লুপ ভেঙে দেয়।
৩. গভীর শ্বাস: প্রার্থনার সময় লম্বা শ্বাস নিন। এটি আপনার ভেগাস নার্ভকে স্টিমুলেট করে শরীরকে রিল্যাক্স মোডে নিয়ে যায়। নিয়মিত মেডিটেশন করতে পারেন।
শেষ কথা
ইবাদত বা প্রার্থনা কেবল কাল্পনিক কোনো সান্ত্বনা নয়। এটি আপনার শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বায়োলজিক্যাল থেরাপি’। আপনার জিন স্ক্রিপ্ট লিখলেও, সেই স্ক্রিপ্টের শান্তি আর সুস্থতার কলমটি থাকে আপনার প্রশান্ত মনের হাতে।
মন শান্ত থাকলে ডিএনএ-ও বলে উঠবে— “অল ইজ ওয়েল!”
প্রার্থনায় মস্তিস্ক সতেজ হয় কিভাবে ভিডিও টি দেখুন

আপনার কি মনে হয়? মনোযোগ দিয়ে নামাজ আদায়ের পর কি আপনার মন সত্যিই হালকা লাগে? কমেন্টে জানান আপনার অনুভূতি!
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং ১৮/০২/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

