ঝুড়ি ভর্তি ঔষধ। সুন্দর করে চোখের সামনে রাখা থাকে। কারন স্ট্রেস ও হজমশক্তির সমস্যা আপানার যাচ্ছেই না। জানতে হবে, কীভাবে ক্রনিক স্ট্রেস এবং লিকি গাট আপনার শরীরের ক্ষতি করছে। সেই সাথে বলে ন্যাচারালি সুস্থ হওয়ার উপায়। পড়তে থাকুন
সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র স্ট্রেস ও হজমশক্তিকে জানা
বর্তমানে জীবন আমাদের অনেক ব্যস্ত। সেই সাথে আছে ভেজাল খাবার। এ কারনে শারীরিক সমস্যা লেগেই আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আমাদের অধিকাংশ দীর্ঘস্থায়ী রোগের মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ। ১. মানসিক চাপ (Stress) এবং ২. অন্ত্রের দুর্বলতা (Gut Health)।
আজকের ব্লগে আমরা জানাবো কীভাবে ক্রনিক স্ট্রেস এবং পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ধ্বংস করছে এবং এ থেকে উত্তরণের পথ কী।
১. ক্রনিক স্ট্রেস: আপনার শরীরের ‘নীরব ঘাতক’
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস শুধু মনের বিষয় নয়, এটি সরাসরি আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন আমরা ক্রমাগত দুশ্চিন্তায় থাকি, তখন শরীরে কী ঘটে?
-
ফাইট অর ফ্লাইট মোড: যদি আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকি বা টেনশনে থাকি, এতে করে শরীরে ‘কর্টিসল’ ও ‘অ্যাড্রেনালিন’ হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি (Adrenal Fatigue) দেখা দেয়।
-
ঘুমের অভাব: ভালো ঘুম শরীর কে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করে। ঘুম ভালো না হলে শরীর টক্সিন মুক্ত হয় না। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।
-
আবেগ চেপে রাখা (Emotional Suppression): মনের কষ্ট বা রাগ ভেতরে চেপে রাখলে তা স্নায়বিক অস্থিরতা তৈরি করে। যা পরবর্তীকালে বড় কোনো শারীরিক রোগের রূপ নেয়।
অটোফেজি সব রোগের ঔষধ – কিভাবে শরীরে অটোফেজি চালু করবেন

২. হজমশক্তির সমস্যা ও লিকি গাট (Leaky Gut)
কথায় আছে, “সব রোগের উৎস আমাদের পেটে।” যদি আপনার পরিপাকতন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করে, তবে আপনি যত পুষ্টিকর খাবারই খান না কেন, শরীর তা গ্রহণ করতে পারবে না।
-
পাকস্থলীর এসিড ও এনজাইমের অভাব: অনেকের ধারণা গ্যাস্ট্রিক মানেই বেশি এসিড। কিন্তু বাস্তবে পেটে এসিডের পরিমাণ কম হলেও হজমে সমস্যা হয়। এসিড কম থাকলে পুষ্টি শোষণ ব্যাহত হয়। পেটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মে।
-
লিকি গাট (Leaky Gut): এটি একটি মারাত্মক অবস্থা যেখানে অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে খাবারের বিষাক্ত উপাদান ও জীবাণু সরাসরি রক্তে মিশে যায়। এর থেকে ইনফ্লামেশন বা শরীরের ভেতরে প্রদাহ তৈরি হয়। অটোইমিউন রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
-
কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া: দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের হতে পারে না। বরং রক্তে পুনরায় মিশে শরীরকে বিষাক্ত করে তোলে।
লিভার ডিটক্স করার ন্যাচারাল উপায় জেনে নিন

কীভাবে সুস্থ থাকবেন? ৩টি কার্যকর পরামর্শ
১. নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করুন: ‘উইম হফ’ মেথডে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। হৃদরোগ থাকলে ডাঃ ওয়েলসের ৪-৭-৮ মেথডে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। নিয়মিত নামাজ আদায় করুন। তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট প্রাণায়াম বা মেডিটেশন করতে পারেন। ‘Go Go Mode’ থেকে বেরিয়ে নিজেকে বিশ্রাম দিন।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট।
২. অন্ত্রের যত্ন নিন: প্রসেসড ফুড খাবেন না। এতে পুষ্টি নেই বরং হজমের সমস্যা তৈরি করে। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: টক দই, সাউয়ার ক্রাউট, কিমচি) খাদ্যতালিকায় রাখুন। পাকস্থলীর এনজাইম বাড়াতে প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। খুব বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
৩. আবেগ প্রকাশ করুন: মনের কথা প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। মানসিক প্রশান্তি শারীরিক সুস্থতার প্রথম ধাপ। ভিডিও কলে কাছের মানুষদের সাথে কথা বলুন। সবচেয়ে ভালো সরাসরি নিয়মিত দেখা সাক্ষ্যাত করলে। বেড়াতে যেতে পারেন খোলামেলা জায়গায়, যেখানে আকাশ দেখা যায়। সবুজ ফসলের মাঠ, বনবনানি আছে। নদীর পাড় দারুন তৃপ্তি দিবে আপনাকে।
এনজাইম কমে গেলে কি সর্বনাশ হয় জানাচ্ছেন ডাঃ এরিক বারগ

পরিশেষ
সুস্থ থাকা মানে শুধু ওষুধ খাওয়া নয়, বরং শরীরের ভেতরকার সিস্টেমগুলোকে বোঝা। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং গাট হেলথ বা অন্ত্রের যত্ন নিলে আপনি ফিরে পেতে পারেন এক প্রাণবন্ত জীবন। সুস্থ শরীর মানে আনন্দময় জীবন।
লেখক- সেলিম হোসেন – তাং – ১৩/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেটেড।
Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.

