প্রক্রিয়াজাত খাদ্য (Processed Food) – বিনিময় অসুস্থতা !
আধুনিক জীবন অনেক ব্যস্ত। বাসায় খাবার তৈরির ঝামেলা নেই। আছে আলট্রা প্রসেসড ফুড। এই সাপ্লাই ফুড আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। কিন্ত এর বিনিময়ে আমরা দিচ্ছি আমাদের অমূল্য স্বাস্থ্য। আমরা বেশিরভাগ সময়ই যা খাচ্ছি, তা কৃত্রিম, প্রাণহীন এবং প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শরীরের জন্য উপযোগী নয়।
ল্যাবে তৈরি বা ফ্যাক্টরিতে মোডিফাই করা এসব খাবারে নেই কোন পুষ্টি। আছে প্রচুর শর্করা। অতিরিক্ত শর্করা আমাদের শরীরকে ধ্বংস করছে। কিভাবে করছে, তা জানলে ভয়ে গায়ের লোম খাড়া হতে পারে। আজ বিস্তারিত আলোচনা করব। পড়তে থাকুন।
ভয়াবহ সংবাদ কাজ করছে না এন্টিবায়োটিক, বাঁচার উপায় জেনে নিন।

১. পরিশোধিত চিনি ও প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট: মিষ্টতার আড়ালে বিষ
আমরা বাজার থেকে যেসব প্যাকেটজাত খাবার (বিস্কুট, চিপস, নুডলস, সিরিয়াল) কিনি, তার বেশিরভাগই পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট। এগুলো প্রক্রিয়াজাত করার সময় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ফাইবার হারিয়ে ফেলে।
অতিরিক্ত চিনি ও এসব কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা লিভারের ওপর চাপ তৈরি করে এবং শরীরে ক্রনিক রোগ সৃষ্টি করে।
২. কমার্শিয়াল সিড অয়েল বা ভোজ্য তেলের মরণফাঁদ
সয়াবিন, ক্যানোলা, পাম, সূর্যমুখী বা ভুট্টার তেলের মতো বাণিজ্যিক তেলগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এগুলো শরীরে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ এর ভারসাম্য নষ্ট করে। কোষের ক্ষতি করে। বর্তমান সময়ের হৃদরোগ এবং মস্তিষ্কের রোগের অন্যতম বড় কারণ এই অক্সিডাইজড তেল।
৩. হরমোনযুক্ত প্রাণিজ পণ্য
বাণিজ্যিক খামারে লালিত ব্রয়লার মুরগি, পশুর মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্ট্রেস হরমোন থাকে। তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় ৮০% পশুপালনে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই। এসব খাবার আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৪. রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম উপাদান
খাবারের স্বাদ বাড়াতে বা দীর্ঘস্থায়ী করতে ব্যবহৃত MSG বা কৃত্রিম রং। যা দেহের জন্য ‘ফরেন পার্টিকেল’ হিসেবে কাজ করে। এগুলো কেবল অ্যালার্জি বা মাথাব্যথা নয়, বরং শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশেও বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিউ ইয়র্কে প্রতি ৩ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান শিশুর মধ্যে ১ জনের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যার পেছনে এসব রাসায়নিকের ভূমিকা থাকতে পারে।
৫. জিএমও ফুড (GMO) এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি
অধিক ফলনের আশায় জিনগত পরিবর্তন করা ফসল বা জিএমও খাবারের পুষ্টিগুণ খুবই কম। এগুলো আমাদের অন্ত্রের দেওয়ালে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। গত ৫০ বছরে ক্যান্সারে মৃত্যুর হার ২% থেকে বেড়ে ২০% হওয়ার পেছনে এই জেনেটিক্যালি মোডিফাইড খাবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। ময়দা বা আটার তৈরি যত খাবার আছে, সবই জিএমও ফুড। যেমন – পিজা, কেক, বার্গার, চানাচুর, বিস্কুট ইত্যাদি।
প্রসেসড ফুডের সাস্থ্য ক্ষতির বিষয় নিয়ে ব্রিটিশ রিসার্চ দেখুন

উপসংহার:
সুস্থ থাকতে হলে আমাদের প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে হবে। খাবারের বেশিরভাগ অংশ থাকবে প্রাকৃতিক খাবার। ল্যাবে তৈরি খাবারের বদলে ঋতুভিত্তিক ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবার গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার মূলমন্ত্র।
মনে রাখবেন, আজকের ভুল খাদ্যাভ্যাস আগামীকালের বড় অসুস্থতার কারণ।
সেলিম হোসেন – তাং ০৫/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি এআই জেনারেটেটেড।
Reference: Dr Eric Berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.

