অগোছালো ঘরের মতোই আমাদের শরীরে জমে থাকে মরা কোষ ও টক্সিন। জানুন কীভাবে ১৭ ঘণ্টার ফাস্টিং বা অটোফ্যাজি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ আবর্জনা পরিষ্কার করে আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য সচেতনতা? শরীরের ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করে ফাস্টিং
আমরা যখনই দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করি, ঠিক তখনই যেন অফিসের কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে হয়তো স্বামী-স্ত্রী মিলে সাত দিনের একটি ছুটি ম্যানেজ করলেন। কিন্তু যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। একদিকে অফিসের ডেডলাইন, অন্যদিকে ঘরের গোছগাছ—বাচ্চারা এখানে-সেখানে জামাকাপড় ছুড়ে ফেলছে, বিস্কুটের প্যাকেট বা ছেঁড়া কাগজে ঘর একাকার, কিচেনের অবস্থা শোচনীয়।
এই অগোছালো অবস্থাতেই আপনারা ট্যুরে বেরিয়ে পড়লেন। সাত দিন পর যখন ফিরে এলেন, তখন ক্লান্ত শরীর আর মন নিয়ে ঘরের দরজা খুলতেই এক ভ্যাপসা গন্ধ আপনাকে স্বাগত জানাল। রান্নাঘরে মরা তেলাপোকা, ডাস্টবিনে পোকা ধরছে—পুরো বাসা যেন একটা ডাস্টবিন!
লিভার ডিটক্সের সহজ এবং ন্যাচারাল উপায় জেনে নিন

এখন আপনার সামনে দুটো পথ খোলা আছে:
১. দায়সারা সমাধান (ঝুঁকিপূর্ণ পথ)
আপনি ক্লান্ত শরীরে দ্রুত ঘর গোছাতে চাইলেন। ময়লাগুলো কোনোমতে কোণায় জড়ো করলেন, আলমারিতে অগোছালো কাপড় ঠেসে দিলেন আর দুর্গন্ধ ঢাকতে রুম স্প্রে ছিটিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন।
ফলাফল: সকালে উঠে দেখবেন ধুলোবালি আর জীবাণুর কারণে বাচ্চাদের শরীরে অ্যালার্জি বা র্যাশ দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা দূর হয়নি, বরং ঢাকা পড়েছে।
২. সঠিক পরিষ্কার পদ্ধতি এবং সুস্থতার পথ
আপনি জানালা খুলে দিলেন, বিছানার চাদর ও সোফার কভার বদলে ফেললেন। রান্নাঘর থেকে শুরু করে ডাস্টবিন পর্যন্ত জীবাণুনাশক দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেন। এরপর পুরো বাসাটা মুছে যখন সোফায় বসলেন—সে এক স্বর্গীয় শান্তি!
আপনার শরীর এবং ‘অটোফ্যাজি’ (Autophagy)
আমাদের শরীরটাও ঠিক ওই ঘরটির মতো। সারা বছর আমরা যা খাই, যে পরিবেশে থাকি, তাতে শরীরের ভেতরেও প্রচুর ‘উচ্ছিষ্ট’ বা মরা কোষ জমে যায়। ঠিক এই দ্বিতীয় পদ্ধতির মতো আপনার শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে ‘ফাস্টিং’ বা রোজা।
বিজ্ঞান বলছে, যখন আমরা টানা ১৭ ঘণ্টা বা তার বেশি না খেয়ে থাকি (ফাস্টিং করি), তখন শরীরের সুস্থ ও জীবিত কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা শরীরের ভেতরে থাকা সব মরা কোষ, টক্সিন এবং আবর্জনা খুঁজে খুঁজে খেয়ে ফেলে এবং সেগুলোকে রিসাইকেল করে শক্তিতে রূপান্তর করে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অটোফ্যাজি।
বিজ্ঞাপনের ধোঁকায় না পরে ন্যাচারালি কিডনি ডিটক্স করুন

সুস্থ থাকার সহজ উপায়:
-
রিসাইক্লিং: ফাস্টিং করলে আপনার শরীর ভেতর থেকে নিজেকে মেরামত করে।
-
রোগমুক্তি: নিয়মিত ফাস্টিং দীর্ঘমেয়াদী অনেক জটিল অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়ার অত্যন্ত কার্যকর উপায়।
-
শুরুটা হোক আজই: আপনার যদি ফাস্টিংয়ের অভ্যাস না থাকে, তবে অল্প সময় (যেমন ১২-১৪ ঘণ্টা) দিয়ে শুরু করুন। আর যারা অভ্যস্ত, তারা আজ একটি দীর্ঘ ফাস্টিং (Long Fasting) করার চেষ্টা করুন।
১৭ ঘণ্টার ফাস্টিং নিয়ে আরও জানতে ডাঃ মুজিবুর রহমানের ভিডিও দেখুন

মনে রাখবেন: ঘর যেমন মাঝে মাঝে গভীর পরিষ্কার (Deep Clean) প্রয়োজন হয়, আপনার শরীরকেও সুস্থ রাখতে নিয়মিত বিরতি বা ফাস্টিংয়ের প্রয়োজন।
আপনি কি আজ ফাস্টিং করছেন? কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন!
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ০৬/০২/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেড।

