হৃদয়ের ইঞ্জিন কি ভুল জ্বালানিতে চলছে? শূন্যতা পূরণের এক আধ্যাত্মিক সমাধান
জেন জিরা দৌড়াচ্ছে ক্যারিয়ারের পিছনে। কারন জীবনে সুখ আর প্রশান্তি দরকার। আদতে আমরা সবাই সুখ আর হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজি। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, সবকিছু থাকার পরও মাঝেমধ্যে আমাদের ভেতরে এক বিশাল ‘শূন্যতা’ কাজ করে। কেন এমন হয়? উত্তরটা লুকিয়ে আছে আমাদের হৃদয়ের গঠনের ভেতরেই।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আমাদের হৃদয়কে কলুষতা থেকে মুক্ত রাখা যায় এবং কেন মাঝে মাঝে জীবনে আসা দুঃখ-কষ্টগুলো আসলে আমাদের জন্য এক প্রকার আশীর্বাদ।
১. পাইনগাছ নাকি নরম ঘাস: আপনি কোনটি?
বিপদে পড়লে আমরা অনেকেই নিজেকে অনেক ‘শক্ত’ বা ‘কঠিন’ করে ফেলি। আমরা ভাবি শক্ত হলে বোধহয় আঘাত কম লাগবে। কিন্তু রাসূল (সা.) এর একটি চমৎকার উদাহরণ আমাদের চোখ খুলে দেয় – তিনি বলেছেন শক্ত পাইনগাছের মত নয় বিপদে চারাগাছের মত হও।
-
শক্ত পাইনগাছ: ঝড়ে মাথা নোয়ায় না ঠিকই, কিন্তু প্রচণ্ড বাতাসে একসময় মট করে ভেঙে যায় বা উপড়ে পড়ে।
-
নরম চারাগাছ: বাতাসের ঝাপটায় হেলে পড়ে, কিন্তু ঝড় থামলে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়।
শিক্ষা: নিজের হৃদয়কে পাথরের মতো শক্ত করবেন না। আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে কোমল রাখুন। কোমল হৃদয়েই সহনশীলতা বেশি থাকে।
কিভাবে শান্তি আনে পুরুষের নীরবতা

২. হৃদয়ের ‘গ্যাস ট্যাঙ্ক’ ও কমলার রস
কল্পনা করুন, আপনার দামি গাড়িটির ফুয়েল ট্যাঙ্কে পেট্রোলের বদলে কেউ যদি কমলার রস ভরে দেয়, তবে কি গাড়িটি চলবে? অবশ্যই না। উল্টো ইঞ্জিনটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
আমাদের হৃদয়ের অবস্থা ঠিক সেরকম।
“হৃদয় সৃষ্টি হয়েছে শুধু স্রষ্টার জন্য, সৃষ্টির জন্য নয়।”
আমরা যখন এই হৃদয়ে আল্লাহর পরিবর্তে অতিরিক্ত অর্থ, ক্যারিয়ার, পদমর্যাদা বা এমনকি কোনো মানুষকে স্থান দিই। অর্থাৎ যাকে আল্লাহর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিই, তখনই আমাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। কারণ আমাদের ‘হৃদয়-ইঞ্জিন’ এই জিনিসগুলো দিয়ে চলার জন্য তৈরি করা হয়নি।
৩. দুঃখ-কষ্ট কি তবে আশীর্বাদ?
মাঝে মাঝে আল্লাহ আমাদের জীবনে দুঃখ-কষ্ট পাঠান। কেন জানেন? আমাদের হৃদয় যখন দুনিয়ার মোহে বা ‘মিথ্যা মূর্তিতে’ পূর্ণ হয়ে যায়, তখন সেই স্পঞ্জসদৃশ হৃদয়কে আল্লাহ কষ্টের মাধ্যমে ‘চিপে ধরেন’। যেন ভেতরের জমে থাকা ভুল ভালোবাসা বা ‘কমলার রস’ (ভুল জ্বালানি) বের হয়ে যায় এবং আমরা আবার সঠিক পথে ফিরে আসি।
৪. ভালোবাসার প্রতিদ্বন্দ্বী ” আন্দাদ ”
কোরআনের একটি আয়াতে (সূরা বাকারা: ১৬৫) ‘আন্দাদ’ শব্দটির উল্লেখ আছে। যার অর্থ ‘আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী’। যখন আমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বা কোনো কিছুকে অন্ধভাবে ভালোবাসি, তখন সেই প্রিয় বস্তুটিই আমাদের আর সৃষ্টিকর্তার মাঝে পর্দা হয়ে দাঁড়ায়। আর মজার ব্যাপার হলো, আপনি যাকে আল্লাহর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন, সেই জিনিসটিই একদিন আপনার সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে মনোযোগ দিয়ে ভিডিও টি দেখুন

উপসংহার: প্রশান্তির চাবিকাঠি
হৃদয়কে সুরক্ষিত রাখার একমাত্র উপায় হলো এর চারপাশে একটি মজবুত দুর্গ গড়ে তোলা। আর সেই দুর্গের দেয়াল তৈরি হয়:
-
নিয়মিত কোরআন পাঠে।
-
মনোযোগ দিয়ে জামাতে নামাজ আদায়।
-
এবং দৈনন্দিন জিকির-আজকারের মাধ্যমে।
আপনার হৃদয়ে আজ কোন জ্বালানিটি বেশি? দুনিয়ার মোহ নাকি স্রষ্টার প্রেম? কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং ২৬/০২/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

