প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি ? ৫ টি প্রোবায়োটিক শারীরিক মানসিক সুস্থতায়। 5 Probiotics for Wellness Fitness

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার: সুস্থ অন্ত্র ও সবল শরীরের চাবিকাঠি

সুস্থতা আল্লাহর এক অশেষ নেয়ামত। আমরা সুস্থ থাকার জন্য প্রার্থনা করি, কিন্তু পাশাপাশি আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সুস্থ থাকতে আমাদের অন্ত্রে ‘ভালো ব্যাকটেরিয়ার’ উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর এই ভালো ব্যাকটেরিয়ার প্রধান উৎস হলো প্রোবায়োটিক

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি
প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি

কেন প্রোবায়োটিক আমাদের জন্য জরুরি?

আমরা প্রতিদিন যে খাবারই খাই না কেন, তার সাথে কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। আমাদের পেটে যদি উপকারী বা ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি থাকে, তবেই খাবার থেকে পুষ্টি শরীরে শোষিত হয় এবং আমাদের হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে। অন্যথায় পেট খারাপ, গ্যাস বা হজমহীনতার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

আশ্চর্যের বিষয়: ২০ শতকের শুরুতে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী এলি মেচনিকফ আবিষ্কার করেন যে, বুলগেরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ অতি দারিদ্র্যের মধ্যেও দীর্ঘকাল সুস্থ থাকেন কারণ তারা নিয়মিত টক দই খান। সেখান থেকেই আধুনিক প্রোবায়োটিক ধারণার যাত্রা শুরু।

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি
প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কিমচি

সেরা ৫টি প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার

প্রোবায়োটিকের সেরা উৎস হিসেবে জাপান, কোরিয়া এবং রাশিয়া বিশ্বে পরিচিত। নিচে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:

১. কিমচি (Kimchi)

কিমচি একটি ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান খাবার যা গাজন বা ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়।

  • উপকারিতা: এতে থাকা ‘ল্যাকটোব্যাসিলি’ নামক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

  • পুষ্টিগুণ: এটি ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

২. সাউয়ার ক্রাউট (Sauerkraut)

এটি মূলত ফারমেন্টেড বা গাঁজন করা বাঁধাকপি। জার্মানি এবং রাশিয়ায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

  • কেন খাবেন: এতে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে যা হজমে সাহায্য করে।

  • বিশেষত্ব: এতে ভিটামিন K পাওয়া যায়, যা রক্ত জমাট বাঁধতে এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম পৌঁছাতে অপরিহার্য। এটি আপনি সহজেই ঘরে তৈরি করতে পারেন।

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি
প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার পনির

৩. টক দই (Yogurt)

বাঙালি সংস্কৃতিতে হজম প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে টক দইয়ের ব্যবহার শত বছরের পুরনো।

  • কার্যকারিতা: টক দই অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য রক্ষা করে।

  • টিপস: বাজারজাত মিষ্টি দইয়ের চেয়ে ঘরে পাতা চিনিহীন টক দই প্রোবায়োটিকের সবচেয়ে ভালো উৎস।

৪. পনির (Cheese)

সব পনিরে প্রোবায়োটিক থাকে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু পনির অন্ত্রের জন্য খুব উপকারী।

  • সেরা উৎস: কটেজ চিজ (C पनीर), মোজারেলা এবং কিছু নির্দিষ্ট সুইস পনির প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস।

  • সতর্কতা: যে পনিরগুলো তৈরির পর আর গরম করা হয় না, সেগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার গুণাগুণ বজায় থাকে।

প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার কি কি
প্রোবায়োটিক যুক্ত খাবার ডার্ক চকলেট

৫. ডার্ক চকলেট (Dark Chocolate)

মিষ্টি চকলেটের ভিড়ে ৭০-৮৫ শতাংশ কোকোয়া সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ।

  • উপকারিতা: এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা শরীরের টক্সিন বের করে দেয়।

  • কেন খাবেন: ডার্ক চকলেট প্রোবায়োটিক সরবরাহ করার পাশাপাশি হার্ট ভালো রাখতে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সুস্থতা ফিটনেস

আপনার জন্য পরামর্শ

যদি আপনার কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যা না থাকে, তবে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমেই প্রোবায়োটিকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বিশেষ প্রয়োজনে ফার্মেসি থেকে সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকতে আজই আপনার খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো যুক্ত করুন। আমরা নিজের এবং পরিবারের সবার সুস্থতা কামনা করি।

লেখক: সেলিম হোসেন

তথ্যসূত্র: ডা. এরিক বার্গ, ডা. মজিবুল হক, ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ডা. মজিবুর রহমান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *