শাহরুখ খানের ফিটনেস রহস্য: কিং খানের চিরযৌবনের নেপথ্যে কী?
পর্দায় মেয়ের বয়সী নায়িকাদের সাথে রোমান্স হোক বা অ্যাকশন দৃশ্যে দুর্দান্ত মারপিট—সবখানেই শাহরুখ খান অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ৫৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও ক্রিকেট মাঠের গ্যালারিতে কিশোরের মতো লাফালাফি কিংবা তরুণদের মতো ফিটনেস দেখে ভক্তরা মুগ্ধ না হয়ে পারেন না।
কিন্তু কিং খানের এই ফিটনেসের নেপথ্যে আসলে কী? মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমগুলো একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে পাঠকদের বিভ্রান্ত করে। চলুন আজ জেনে নেই শাহরুখের ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ এবং আসল বিজ্ঞান কী বলে।
পড়ুন নায়কের ফিটনেস নিয়ে আনন্দবাজারের রিপোর্ট।

শাহরুখ খানের ডায়েট: ভিন্ন ভিন্ন মত
শাহরুখ খানের ফিটনেস এখন একটি ‘হট কেক’ নিউজ। ফলে বিভিন্ন পত্রিকা তাদের মতো করে তথ্য পরিবেশন করে:
-
আনন্দবাজারের রিপোর্ট: শাহরুখ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি দিনে মাত্র দু’বার খান—দুপুরে আর রাতে। তার ডায়েটে থাকে অঙ্কুরিত ছোলা, গ্রিলড চিকেন, ব্রকোলি আর ডাল। তিনি অতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাপারে খুবই কড়া।
-
জাগো নিউজের রিপোর্ট: তাদের মতে, মেটাবলিজম ঠিক রাখতে তিনি সারাদিনে অল্প অল্প করে অনেকবার ক্যালোরি গ্রহণ করেন।
-
মজার কথা: শাহরুখ যদি নিজেই দেখেন তাকে নিয়ে এত রকম পরস্পরবিরোধী নিউজ হচ্ছে, তবে তিনি হয়তো হো হো করে হেসে ফেলবেন! আসলে ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি ঠিক কী করেন, তা তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন।

ফিটনেস আসলে কী?
সহজ কথায়, দৈনন্দিন কাজ, হাঁটাচলা বা খেলাধুলায় কোনো ক্লান্তি বা অস্বস্তি বোধ না করাই হলো শারীরিক ফিটনেস। এটি শুধু শরীর গঠন নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়স বাড়লে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর প্রধান অস্ত্র।
আজীবন সুস্থ থাকতে হেলদি খাবার গুলো চিনে নিন।

ফিটনেস ধরে রাখার ৯টি কার্যকর উপায়
সুস্থ থাকতে শাহরুখ খানের মতো কঠোর ডায়েট সবার জন্য সম্ভব না হলেও, নিচের ৯টি ধাপ অনুসরণ করলে আপনিও দীর্ঘকাল কর্মক্ষম থাকতে পারবেন:
১. ব্যায়ামের নিয়ম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতিতে অথবা ৭৫ মিনিট জোরে অ্যারোবিক ব্যায়াম (হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো) করুন। পেশি বাড়াতে সপ্তাহে ২-৩ দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
২. হাঁটার সঠিক পদ্ধতি: টানা ২০-৩০ মিনিট এমন গতিতে হাঁটুন যেন শরীর ঘামায়। হার্ট রেট যেন আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৩. অ্যারোবিক রেট ক্যালকুলেশন: আপনার অ্যারোবিক হার্ট রেট বের করতে ১৮০ থেকে নিজের বয়স বিয়োগ করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার বয়স ৫৫ হলে হার্ট রেট ১২৫-এর উপরে নেওয়া ঠিক হবে না।
৪. স্ট্রেচিং: হাঁটা বা দৌড়ানোর আগে শরীর নমনীয় করতে স্ট্রেচিং করে নিন। এতে পেশির আঘাতের ঝুঁকি কমে।
৫. পেশি গঠন: জিমের সরঞ্জাম অথবা নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে (পুশ-আপ, প্ল্যাঙ্ক, স্কোয়াট) পেশি মজবুত করুন। বয়স্করা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি করবেন।
বিনা ঔষধে আজীবন সুস্থ থাকার উপায়।

৬. সুরের তালে ব্যায়াম: আজকাল সুরের তালে অ্যারোবিক ও ব্যালেন্সিং করার নতুন ধারা চালু হয়েছে যা বেশ কার্যকর।
৭. জুম্বা ও ইউটিউব: ফিটনেস ভালো থাকলে ইউটিউব দেখে বাড়িতেই ‘জুম্বা’ ড্যান্স করতে পারেন। এটি শরীর ও মন দুই-ই ভালো রাখে।
৮. ইয়োগা: যারা কঠোর ব্যায়ামে অক্ষম, তারা ইয়োগা বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এটি সব বয়সের জন্য উপযোগী।
৯. মানসিক প্রশান্তি ও ঘুম: শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মেডিটেশন এবং ‘উইম হফ মেথড’ (Wim Hof Method) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং হেলদি খাবারের কোনো বিকল্প নেই।
জেনে নিন – সরিষার তেল হার্টের জন্য ভালো নাকি খারাপ।

শেষ কথা: এক জায়গায় টানা বসে না থেকে সচল থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ফিটনেস কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি জীবনযাত্রা।
লেখক: সেলিম হোসেন
তারিখ: ০৯/০২/২০২৪ ইং
(ছবি কৃতজ্ঞতা: পেক্সেল ও ইন্টারনেট)

