শাসকের দায়িত্ব: খলিফা মনসুরকে ইমাম আওযায়ির কালজয়ী উপদেশ
ইসলামি ইতিহাসের পাতায় শাসক এবং আলিমদের মধ্যকার সম্পর্ক সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বিশেষ করে যখন কোনো সত্যনিষ্ঠ আলিম কোনো প্রতাপশালী শাসককে মহান আল্লাহর ভয় এবং জনগণের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন। তখন তা হয়ে ওঠে ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আজ আমরা জানবো খলিফা আবু জাফর মনসুর এবং প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আওযায়ি (রাহ.)-এর মধ্যকার এমনই এক কথোপকথন।
শাসকের দরবারে সত্যের কণ্ঠস্বর
একবার খলিফা আবু জাফর মনসুর ইমাম আওযায়িকে ডেকে পাঠান। খলিফার তলব পেয়ে তিনি যখন দরবারে পৌঁছালেন। খলিফা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার আসতে দেরি হলো কেন?” ইমাম আওযায়ি অত্যন্ত নির্ভীকভাবে জানালেন, তিনি খলিফার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চান। খলিফা বললেন যে, তিনি জ্ঞান অর্জন এবং শিখতে চান।
ইমাম আওযায়ি তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন— “আপনি যদি কথা শোনেন কিন্তু সেই অনুযায়ী আমল না করেন, তবে সেই জ্ঞানের কী মূল্য?” এই নির্ভীক উক্তিতে খলিফার দেহরক্ষী ক্ষুব্ধ হয়ে তলোয়ার উঁচিয়ে ধরলেও খলিফা তাকে থামিয়ে দেন এবং বলেন, এটি শাস্তির নয়, বরং পুরস্কার ও শেখার বৈঠক।
পৃথিবীর সেরা ধনী কে ? ইলন মাস্ক নাকি মানসা মুসা

প্রজাদের প্রতি শাসকের দায়িত্ব ও জান্নাতের সুসংবাদ
ইমাম আওযায়ি (রাহ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে খলিফাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন:
-
প্রজাদের ধোঁকা দেওয়ার পরিণাম: রাসূল (সা.) বলেছেন, যে শাসক তার প্রজাদের ধোঁকা দেয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন।
-
ইনসাফভিত্তিক শাসন: মহান আল্লাহ শাসকদের সাধারণ জনগণের ওপর কর্তৃত্ব দিয়েছেন। তাই প্রজাদের সুখে শাসক খুশি হবেন এবং তাদের কষ্টে ব্যথিত হবেন।এটাই ইসলামের শিক্ষা।
-
ন্যায়বিচারের অধিকার: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক শাসকের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। কিয়ামতের দিন যদি কোনো নাগরিক শাসকের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ আনে, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

অহংকার বনাম বিনয়: নবীজির (সা.) জীবনাদর্শ
কথোপকথনের এক পর্যায়ে ইমাম আওযায়ি রাসূল (সা.)-এর জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। একবার অনিচ্ছাকৃতভাবে এক বেদুইনের শরীরে নবীজির হাতের আঁচড় লাগে। সেই বেদুইন যখন বদলা চাইল, তখন আল্লাহর নির্দেশে নবীজি নিজেকে বদলা নেওয়ার জন্য পেশ করেন। এতে বোঝা যায়, ইসলামে শাসক বা নেতা হওয়ার অর্থ অত্যাচারী হওয়া নয়, বরং বিনয়ী হওয়া।
“আল্লাহ আপনাকে অত্যাচারী এবং অহঙ্কারী বানিয়ে পাঠাননি।” — (জিবরাঈল আ. এর উক্তি রাসূল (সা.) এর প্রতি)
ব্লগ পোস্টের সারসংক্ষেপ (Key Takeaways)
১. জবাবদিহিতা: পরকালে প্রত্যেক শাসককে তার অধীনস্থদের বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।
২. মানবিকতা: ক্ষমতা মানেই শাসন নয়, বরং মানুষের সেবা এবং তাদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. ন্যায়বিচার: ইনসাফ কায়েম করা একজন শাসকের জন্য জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
আয়তুল কুরসি নিয়ে যে আলোচনা কখনো শোনেননি

উপসংহার
ইমাম আওযায়ির এই উপদেশগুলো কেবল তৎকালীন খলিফার জন্যই ছিল না, বরং কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল নেতা ও দায়িত্বশীলদের জন্য এক অনন্য গাইডলাইন। আমরা যদি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তবে ইনসাফ ও বিনয়ের এই আদর্শগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য।
আপনার মন্তব্য জানান: এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে? শাসকের দায়িত্ব সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী? কমেন্টে আমাদের জানান এবং পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
সেলিম হোসেন – তাং – ২৭/১২/২০২৫ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেটেড।
তথ্য সুত্র – সোনালি যুগের গল্প গুলো। ইমাম ইবনুল জাওযি









