ভিটামিন কী? কেন এটি শরীরের জন্য অপরিহার্য এবং অভাব বোঝার ৭টি লক্ষণ
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ হলো এমন এক জৈব উপাদান যা আমাদের খাদ্যে খুব সামান্য পরিমাণে থাকে, কিন্তু শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে এর বিকল্প নেই। একে ‘ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত’ একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয় কারণ এর অভাবে মানবদেহে নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।
ভিটামিনের আবিষ্কার ও গুরুত্ব
১৯১২ সালে পোলিশ বিজ্ঞানী ক্যাসিমির ফাঙ্ক প্রথম প্রমাণ করেন যে খাবারে ভিটামিন নামক উপাদান থাকে। তার এই আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভিটামিন আমাদের শরীরে যা যা করে:
-
চোখের জ্যোতি বজায় রাখে।
-
শর্করা ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে।
-
শরীরের কোষের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।
-
কোলাজেন উৎপন্ন করে হাড় ও ত্বক সুস্থ রাখে।
লন্ডনের লিস্টার ইনস্টিটিউট, প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট এবং আমেরিকার রকফেলার ইনস্টিটিউটের মতো বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ভিটামিনের গুরুত্ব ক্লিনিক্যালি প্রমাণ করেছে।
চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে থাকলে কোলাজেনের অভাব পুরনে খান Plant-Based Collagen Builder

আপনার শরীরে কি ভিটামিনের অভাব রয়েছে? ৭টি প্রধান লক্ষণ
শরীর যখন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, তখন সে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক ইঙ্গিতের মাধ্যমে তা জানান দেয়। হেলথ জার্নালগুলোর তথ্যানুযায়ী ৭টি প্রধান লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. সব ঋতুতে ঠোঁট ফাটা
শীতকালে ঠোঁট ফাটা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি সারা বছরই আপনার ঠোঁট ফাটে বা শুকিয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন বি-১২ (B12) এর অভাব রয়েছে। হাঁস-মুরগির মাংস বা সাপ্লিমেন্ট এই অভাব পূরণ করতে পারে।
২. অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া
বয়সের আগে চুল সাদা হয়ে যাওয়া শরীরে কপারের অভাবের সংকেত। এই অভাব মেটাতে নিয়মিত মাশরুম, তিলের বীজ এবং কাজুবাদাম জাতীয় খাবার খান।
৩. খুশকির সমস্যা
মাথার ত্বকে অতিরিক্ত খুশকি হওয়ার অর্থ হলো শরীরে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি। ডিমের কুসুম, তিসির দানা, আখরোট এবং চিয়া সিড এই সমস্যা সমাধানে দারুণ কার্যকর।
৪. প্রাণহীন ও ফ্যাকাশে চুল
চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়া এবং চুল দুর্বল হয়ে যাওয়া মূলত ভিটামিন বি-এর অভাবের লক্ষণ। খাদ্যতালিকায় ডিম ও মাংস যোগ করলে সুফল পাওয়া যায়।
৫. শুষ্ক ও মলিন ত্বক
ত্বক যদি অতিরিক্ত খসখসে বা প্রদাহযুক্ত হয়, তবে শরীরে ভিটামিন এ এবং ই-এর অভাব থাকতে পারে। গাজর, কলা, মিষ্টি কুমড়া, কাঠবাদাম এবং পালংশাক এর ভালো উৎস।
৬. ঘনঘন ঠান্ডা লাগা ও ক্ষত না শুকানো
শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় (শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হতে পারে না)। সামান্য কাটলে যদি সহজে রক্তপাত বন্ধ না হয় বা শুকাতে দেরি হয়, তবে আমলকী, লেবু, পেয়ারা ও ব্রকোলি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
৭. সবসময় অবসাদ বা ক্লান্তি
যথেষ্ট বিশ্রামের পরেও যদি শরীর ম্যাজম্যাজ করে বা ক্লান্তি লাগে, তবে এটি ভিটামিন ডি-এর অভাবের বড় লক্ষণ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে অন্তত ২০ মিনিট রোদে থাকার চেষ্টা করুন।
ভিটামিন আবিষ্কারক: ক্যাসিমির ফাঙ্ক (Casimir Funk)
১৮৮৪ সালে পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই মহান বিজ্ঞানী ভিটামিন নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে ফেলোশিপ প্রাপ্ত এই বিজ্ঞানী সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং আমেরিকায় তার গবেষণার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্কে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
যখন ভিটামিন এবং সাপ্লিমেনট নিবেন।

আমাদের পরামর্শ
ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রাকৃতিক উৎসগুলোকে প্রাধান্য দিন। সুষম খাদ্য এবং সুস্থ জীবনযাপনই দীর্ঘায়ু হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
লেখক: সেলিম হোসেন তারিখ: ১৭/০৬/২০২৩ ইং তথ্যের উৎস: Dr. Eric Berg, Dr. Jahangir Kabir, Dr. Sten Ekberg এবং বিভিন্ন মেডিকেল হেলথ জার্নাল।




