বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সহজ Marriage Fear: 5 Reasons to Restore Confidence is Easy

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে Health oxide dizfuel suppliment

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

২০২৩ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ‘খো গ্যায়ে হাম কাহা’। মুলত জেন–জিদের সম্পর্কের সংকট নিয়ে মুভিটি। অনন্যা পান্ডে, সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী, আদর্শ গৌরব অভিনীত এই মুভির মূল চরিত্র তিন বন্ধু। মুভিতে সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী পেশায় স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান। তার নাম ইমাদ। সে কিছুতেই কোনো সম্পর্কে থিতু হতে পারে না। ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ তাঁর সম্পর্কের শেষ কথা।

একটা প্রামান্য চিত্র তৈরির দায়িত্ব পায় সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী। কাজে গিয়ে পরিচয় হয় সিমরন নামে এক নারীর সাথে। সিমরনের সাথে প্রেম হয়ে যায়। কিন্তু ইমাদ যেন সম্পর্কে থেকেও নেই। সম্পর্কটাকে সে ঠিক মেনে নিতে পারছিল না। সিমরন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না, ইমাদের সমস্যাটা কী।  একসময় সিমরন আর ইমাদ ব্রেকআপ করে। সিমরনকে হারিয়ে এবার নিজের ভুল বুঝতে পারে ইমাদ।

ইমাদের একটি বাজে অতীত আছে ছোট বেলার। যেটা সে কখনো কাউকে বলেনি। সেই ঘটনা এক শোতে তাঁর শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। সে তাঁর বাবার ব্যবসার অংশীদারের মাধ্যমে ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বলতে পেরে, বহু বছর ধরে বয়ে বেড়ানো নিকষ অতীতের ভারমুক্ত হয়। ধীরে ধীরে ইমাদ ছোটবেলার ট্রমা থেকে বের হয়ে আসে। আবার সম্পর্কে মিলিত হয় সিমরনের সাথে।

ডিভোর্স এবং শাহরুখ খানের ছেলেকে নিয়ে কি দুশ্চিন্তা !! 

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

বিয়ে ভীতি কাটে ইমাদের

ইমাদের মত সম্পর্কে থিতু হতে পারছে না অনেক জেন জি। আবার সম্পর্ক বিয়েতে গড়ালেও ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। তাই তারা বিয়েতে ভয় পাচ্ছে।  অন্যান্য ‘ফোবিয়া’র মতোই বিয়ে বা সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিতে চাওয়ার যে ভয়, এর নাম গ্যামোফোবিয়া। 

পরস্পর দিব্যি সম্পর্কের মধ্যে আছে। কিন্তু বিয়ের কথা শুনলেই আঁতকে ওঠে। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বেলায় পিছিয়ে যায়। এমন মানুষদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সম্পর্কের সব নিয়মই কমবেশি পালন করছে। কিন্তু সম্পর্কটাকে পরিনতি দিতে নারাজ। স্বীকৃতি দেওয়ার বেলায় দে ছুট ! এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্কটাই টিকিয়ে রাখা বা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে অপর পক্ষের জন্য।

আবার অনেক সময় অপর পক্ষ এহেন আচরণে রীতিমত বিরক্ত হয়। ভাবে, এভাবে আর কত ? হাল ছেড়ে দেয়। মানুষের সহ্যের তো একটা সীমা আছে ! অথচ জানাই নেই, অপর পক্ষ বিশেষ একটা রোগে ভুগছেন। তাঁর প্রয়োজন চিকিৎসা আর কাছের মানুষের সহযোগিতা,সহমর্মিতা।

আধুনিক জীবনে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক মধুময় করার উপায় 

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

বিয়ে ভীতি বা গ্যামোফোবিয়ার লক্ষন 

আপনি যদি গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে বিয়ের কথা শুনলেই বা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রস্তাবে অন্যান্য ফোবিয়ার মতোই আপনার ভেতর কিছু শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন

  • অস্থিরতা, বুকে ব্যথা
  • নিশ্বাস নিতে না পারার অনুভূতি
  • ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • আতঙ্কে, ভয়ে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে না পারা
  • ঠিকভাবে কথা বলতে না পারা
  • মাথাব্যথা
  • হুট করে রেগে যাওয়া
  • ঘামা, পানির পিপাসা লাগা
  • কাঁপাকাঁপি
  • ওপরের লক্ষণগুলো ছাড়াও গ্যামোফোবিয়ার আরও লক্ষন আছে। তারা বিয়ের কথা শুনলেই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় পরেন। অস্বাভাবিক আচরণ করেন। অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। ওই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার জন্য উদ্যোগী হতে পারেন। মোদ্দাকথা হলো, ‘প্যানিক অ্যাটাক’ থেকে নানা নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে ছয় মাস পর্যন্ত হতাশা আর বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন ওই ব্যক্তি।

চারিদিকে স্ত্রী কর্তৃক পুরুষাঙ্গ কাটার খবরে আতঙ্কিত স্বামীরা  !!

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

গ্যামোফোবিয়া কেন হয় 

গ্যামোফোবিয়ার পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। কী সেগুলো? আসুন আমরা একসাথে দেখি –

১. অতীতের ট্রমা

বিশ্বব্যাপী গ্যামোফোবিয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ইমাদের বেলায় যেমন টি দেখা গেছে ঠিক তেমন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। অনেক সময় সম্পর্কের প্রতারনা। একটা সম্পর্কে প্রতারিত হয়ে নতুন সম্পর্কে প্রতারিত হবার ভয় ঢুকে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে মা বাবার বিচ্ছেদের কষ্ট বা বিষাক্ত সম্পর্ক। এটা দেখেও সন্তানের মনে একধরনের নেতিবাচকতা বা ভয়ের অনুভূতি তৈরি হয়।

এমনও হয়, সে হয়তো কাছ থেকে কোনো বন্ধু বা আত্মীয়কে দেখেছে। যারা সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করে রীতিমত ভুগছে। সেও একই অনুভূতির ভেতর দিয়ে যেতে চায় না। একই কারণে অনেকে একবার বিচ্ছেদের পর নতুন করে বিয়ে করতে চান না।

২. সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতা

জেন জি’রা ৬০ সেকেন্ডের ভিডিও দেখে। ব্রেইন অভ্যস্ত হয়ে যায়। অল্প সময়েই সব পেতে চায়। তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্থির। ৩০ বছর আগেও এমনটা দেখা যেত না। এর অন্যতম প্রধান কারণ যোগাযোগের সহজলভ্যতা। এর ফলে তৈরি হয়েছে ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ডাবলিং’, ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’, ‘ঘোস্টিং’, ‘বেঞ্চিং’, ‘ব্রেডক্রাম্বিং’ আরও কত কী! একটা সম্পর্কে তারা নিরাপদ বোধ করছে না। অনিশ্চয়তার অনুভূতি থেকে অনেকের ভেতর তৈরি হচ্ছে গ্যামোফোবিয়া।

একটি গল্প এবং ভায়েগ্রা আবিস্কারের কাহিনী 

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

৩. পরিবারের সঙ্গে বন্ধনহীনতা

গবেষণা বলছে, গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্তদের বেশির ভাগেরই পারিবারিক বন্ধন ততটা দৃঢ় নয়। যাঁরা নিজেরা পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ নন। তাঁদের পারিবারিক বন্ধনে আবন্ধ হওয়ার বিষয়ে একধরনের উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ভয়, নেতিবাচকতা কাজ করে।

৪. জিনগত কারণ

বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়ার পেছনে জিনগত কারণও রয়েছে। হয়তো তাঁর মা–বাবা পরিবারের কাছের কেই গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ছিল। সেটিই জিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মে।

৫. বাড়ছে সামাজিক চাপ 

আমাদের সমাজে একটা সম্পর্ক ভাঙাকে স্বাভাবিক চোখে দেখা হয় না। এর ফলে অনেকে সম্পর্ক ভেঙে গেলে কী করবেন, কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, লোকে কী বলবে এমন সব চিন্তা পেয়ে বসে। তাই প্রতিশ্রুতি দিতে বা বিয়ে করতে ভয় পান।

আমাদের দাদা দাদীদের বিয়ে হত যেভাবে 

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

কিভাবে নিজে সুস্থ করবেন 

আশার কথা হলো, বিয়ে ভীতির সুচিকিৎসা রয়েছে। একজন সাইকোলোজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট এ রকম পেশাদারদের সাথে পরামর্শ করুন। তাদের থেরাপি আপনাকে সহজেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সম্পর্কে থিতু হওয়ার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে পারেন। অনেক সময় আপনজনেরা, বিশেষ করে যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে আছেন, তিনিও গ্যামোফোবিয়া কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এই রোগ থেকে সেরে উঠতে আপনার আন্তরিকতা, ইতিবাচকতা ও নিরন্তর প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

গ্যামোফোবিয়া নিয়ে বলছেন ডাঃ কারলেস 

বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে
বিয়ে ভীতি ৫ টি কারনে

সেলিম হোসেন – তাং ০৬/১১/২০২৫ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো পেক্সেলস থেকে নেয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *