পুতিন: এক লৌহমানবের উত্থান ও ক্ষমতায় টিকে থাকার আড়াই দশক
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯। পুরো বিশ্ব যখন নতুন সহস্রাব্দকে বরণ করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখনই রাশিয়ার রাজনীতিতে ঘটে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে পদত্যাগ করেন। ক্রেমলিন ত্যাগের সময় তিনি উত্তরাধিকারী ভ্লাদিমির পুতিনের কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার দিকে খেয়াল রাখবেন।’ সেই থেকে শুরু, আজ ২৫ বছর পেরিয়েও পুতিন রাশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা।

পুতিন কি মুসলিম সহানুভূতিশীল?
২০২৪ সালের ২১শে আগস্ট পুতিন দীর্ঘ ১১ বছর পর রাশিয়ার মুসলিম প্রধান অঞ্চল চেচনিয়া সফর করেন। এই সফরে কিছু বিরল দৃশ্য দেখা যায় যা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়:
-
তিনি রাজধানী গ্রোজনির ঈসা নবী মসজিদ পরিদর্শন করেন।
-
সেখানে পবিত্র কোরআনের একটি বিরল সংস্করণকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে চুম্বন করেন এবং বুকে জড়িয়ে ধরেন।
-
চেচনিয়ার নেতা ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রমজান কাদিরভ এই সফরে তার সঙ্গী ছিলেন।
তরুন তরুণীদের জন্য কেন বিপদজনক সহিংস মুভি।

পুতিনের ব্যক্তিগত জীবন ও লাইফস্টাইল
বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এই ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল কিন্তু কিছুটা রহস্যময়:
-
দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা: রাত জেগে কাজ করার অভ্যাসের কারণে তিনি সকালে কিছুটা দেরিতে ওঠেন।
-
ব্যায়াম ও সাঁতার: দিন শুরু করেন জিমে ওজন নিয়ে কসরত করে, এরপর দীর্ঘ সময় নিয়ে সাঁতার কাটেন।
-
আইসক্রিম প্রীতি: তীব্র ঠান্ডার মাঝেও পুতিন আইসক্রিম খেতে ভালোবাসেন। পিসটাশিও বাদামের আইসক্রিম তার সবচেয়ে প্রিয়। তিনি সি চিন পিং এবং এরদোয়ানকেও আইসক্রিম উপহার দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন।
-
খাদ্যাভ্যাস: তিনি সাধারণত অ্যালকোহল পান করেন না। তার খাদ্যতালিকায় থাকে টমেটো, শসা, লেটুস এবং দুধের তৈরি পানীয় ‘কেফির’।

এক কেজিবির এজেন্ট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের প্রেমকাহিনি
পুতিনকে কঠোর হৃদয়ের মানুষ মনে করা হলেও তার জীবনেও ছিল এক রোমান্টিক প্রেমকাহিনি।
-
পরিচয়: যখন তিনি সেইন্ট পিটার্সবার্গে কেজিবি (KGB) কর্মকর্তা ছিলেন, তখন এক বন্ধুর মাধ্যমে বিমানে কর্মরত লুডমিলা স্কেরিবেনভার সাথে তার পরিচয় হয়।
-
প্রথম ডেট: টানা তিন দিন থিয়েটারে নাটক দেখে তাদের সখ্যতা শুরু হয়। লুডমিলার ভাষ্যমতে, তিন-চার মাসের মধ্যেই তিনি বুঝেছিলেন পুতিনই তার জীবনের আদর্শ পুরুষ।
-
বিয়ে ও বিচ্ছেদ: ১৯৮৩ সালের ২৮ জুলাই তারা বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে ২০১৩ সালে দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটিয়ে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ করেন।
পড়ুন – নিষেধাজ্ঞার শিকার পুতিনের দুই মেয়ে সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে।

শেষ কথা
ভ্লাদিমির পুতিন কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, বরং সমসাময়িক ভূ-রাজনীতির এক জটিল রহস্য। কেজিবি এজেন্ট থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার এই যাত্রা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি তা আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
লিখেছেন: সেলিম হোসেন
তারিখ: ১৮ আগস্ট, ২০২২
(ছবি কৃতজ্ঞতা: পেক্সেলস)



