প্রেমের বিয়ে, ঝগড়া লেগেই আছে। পারিবারিক বিয়ে সেখানেও অশান্তি। দুঃখজনক ভাবে ডিভোর্স বেড়ে যাচ্ছে। কারন কি ? এর অন্যতম কারন নারী ও পুরুষের স্বভাব আলাদা। দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে চাইলে ব্লগ লেখাটি পড়ুন। সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে নারী-পুরুষের মানসিক ও চারিত্রিক ভিন্নতার এক চমৎকার বিশ্লেষণ জানতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ
নারী ও পুরুষের পার্থক্য: রহস্যটা আসলে কোথায়?
স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টিই রহস্যময় এবং অর্থবহ। মানবজাতির দুই প্রধান অংশ নারী এবং পুরুষ। পুরুষেরা প্রায়ই ভাবি, কেন তাদের চিন্তা-ভাবনা, আবেগ এবং কাজের ধরণ একে আমাদের থেকে এত আলাদা ? অনেকে এই পার্থক্যের সমাধান খুঁজতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। আসুন ইতিহাসের একেবারে শুরুতে ফিরে যাই। এই ভিন্নতার এক গভীর ও সুন্দর ব্যাখ্যা খুঁজে পাব।
সৃষ্টির মূল উপাদানেই কি লুকিয়ে আছে পার্থক্য?
বলা হয়ে থাকে, ‘সৃষ্টির উৎস’-ই হলো নারী ও পুরুষের স্বভাবগত পার্থক্যের প্রধান চাবিকাঠি। মানুষের সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে যদি আমরা লক্ষ্য করি:
-
পুরুষের সৃষ্টি: আদি পিতা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে সরাসরি ভেজা মাটি থেকে। মাটি হলো কর্মমুখরতা এবং উৎপাদনশীলতার প্রতীক। মাটির স্বভাব হলো উদার হওয়া এবং সঠিক পরিচর্যায় ফসল দেওয়া। মাটিতে পুঁতে রাখা হয় মরদেহ, যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। জীবাণুমুক্ত থাকে পরিবেশ।
-
নারীর সৃষ্টি: আদি মাতা হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভিন্ন এক অলৌকিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। তাকে সরাসরি মাটি থেকে নয়, বরং আদমের বাম পাঁজরের হাড় (কলবের নিকটবর্তী অংশ) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
জেনে স্ত্রীকে খুশি করার ৮ টি ম্যাজিক

কেন এই ভিন্ন পদ্ধতি?
স্রষ্টা চাইলে দুজনকেই আলাদা আলাদা মাটি থেকে তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি চাইলেন তাদের মধ্যে এমন এক সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি হোক। তারা যেন চিরকাল একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকে। আদম (আ.) যেন অনুভব করেন হাওয়া তার দেহেরই অংশ। আর হাওয়া যেন বুঝতে পারেন তিনি আদমের জন্য এবং আদমের মাধ্যমে অস্তিত্ব পেয়েছেন। যেমন একটি বৃক্ষের সাথে তার ডালপালার সম্পর্ক।
স্বভাবের ওপর এর প্রভাব
সৃষ্টির এই ভিন্ন উৎস আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে:
১. কর্মমুখরতা বনাম কোমলতা: মাটি থেকে সৃষ্টি হওয়ার কারণে পুরুষের মধ্যে মাটির গুণাগুণ। অর্থাৎ কঠোর পরিশ্রম, উদ্যোগ গ্রহণ এবং সফল হওয়ার তাড়না বেশি থাকে। একজন পুরুষ সাধারণত ঘরে বসে অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকা পছন্দ করেন না। কারণ তা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।
২. আবেগ ও মমতা: যেহেতু নারী সৃষ্টির উৎস হলো হৃদয়ের কাছের একটি অংশ। তাই নারীরা স্বাভাবিকভাবেই বেশি কোমল এবং আবেগপ্রবণ হন। পুরুষের রুক্ষ মাটির স্বভাবের বিপরীতে নারীর মধ্যে বিরাজ করে মমতা এবং নমনীয়তা।
ভিন্নতাকে স্বীকার করে সুখে থাকা
আমরা অনেক সময় সঙ্গিনীর আবেগ বা ছোটখাটো চাওয়াকে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে যাই। যা প্রায়ই মনোমালিন্যের সৃষ্টি করে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে:
-
নারী ও পুরুষ আলাদা বলেই তারা একে অপরের পরিপূরক।
-
স্ত্রীর অতিরিক্ত আবেগ বা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টাকে অহেতুক মনে করবেন না। সৃষ্টির উৎসের দিকে তাকান। আপনার অভিযোগ আর অভিযোগ থাকবে না, ভালোবাসায় রূপ নিবে।
বিছানায় স্ত্রীকে সুখী করার উপায়

একটা ছোট উদাহরন দেই। ধরুন, অফিসে বসে আছেন। দারুন একটা টেনশন মাথায় অফিসের কোন কাজে। এমন সময় স্ত্রী ফোন করে বলল – আজ কি রান্না করব ?
আপনি প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন। ভাবলেন, রান্নার মত এত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে, জিজ্ঞেস করার কি আছে ! স্ত্রীকে গুরুত্ব দিলেন না। বাসায় ফিরলেন, পরিবেশে গুমোট ভাব। এক পর্যায়ে অকারনে বিরাট ঝগড়া।
জানেন, কেন এমন হল ? কারন হল, আপনার কাছে অফিসের কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, স্ত্রীর কাছে ঘরের কাজ ঠিক তেমনি। এমন আরও অনেক কাজ আছে, যা আপনার কাছে গুরুত্বহীন। কিন্ত স্ত্রীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তরিকতা নিয়ে কথা বলুন। এতে করে সংসারে অনেক কঠিন কাজ সহজ মনে হবে। আপনার প্রতি স্ত্রীর আদর যত্ন অনেক বেড়ে যাবে।
নারী এবং পুরুষের ব্রেইনের পার্থক্য বুঝতে ভিডিও টি দেখতে পারেন।
পরিশেষে, আমাদের এই ভিন্নতাকে মুছে ফেলার চেষ্টা না করে বরং একে স্বীকার করে নিতে হবে। যখনই সম্পর্কে কোনো দূরত্ব তৈরি হবে, তখনই মনে রাখা প্রয়োজন— পুরুষ সৃষ্টি হয়েছে মাটি থেকে, আর নারী সৃষ্টি হয়েছে সেই পুরুষেরই একটি অংশ থেকে। এই সত্যটি অনুধাবন করলেই সংসারে শান্তি ও পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা সম্ভব।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১১/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেটেড।

