দ্য সাইকোলজি অব মানি। একটি বিখ্যাত বই। টাকা কেন আয় করেও রাখতে পারেন না। কেন অর্থনৈতিকে বিপদ ধেয়ে আসে। সে ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা হয়েছে এই বইয়ে। সেখান থেকে দারুন দুটো শিক্ষণীয় সত্য ঘটনা আপনাদের জন্য তুলে ধরছি।
ধনী হওয়া সহজ, কিন্তু ধনী থাকা কেন কঠিন? জে এস লিভারমোর ও আব্রাহাম জার্মানস্কির গল্প
ইন্টারনেটে হাজারও পরামর্শ পাবেন। কিভাবে অনেক টাকা আয় করা যায়। কিভাবে ধনী হতে পারবেন ! কেউ বলে স্টকে বিনিয়োগ করুন, কেউ বলে রিয়েল এস্টেট। কিন্তু আমাদের মধ্যে কয়জন জানি যে, ধনী হওয়া এবং ধনী থাকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়?
বিখ্যাত লেখক মর্গান হাউজেল তার ‘দ্য সাইকোলজি অব মানি’ বইয়ের ৫ম অধ্যায়ে এই বিষয়টি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আজ আমরা ১৯২৯ সালের শেয়ার বাজার ধসের সময়কার দুজন ভিন্ন মানুষের গল্প শুনব। শিখব কীভাবে বিনিয়োগের মানসিকতা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে।
পৃথিবীর সেরা ধনী কে ইলন মাস্ক নাকি মানসা মুসা

১. জে এস লিভারমোর: মুদ্রার এক পিঠ
জে এস লিভারমোর ছিলেন তার সময়ের অন্যতম সেরা শেয়ার ব্যবসায়ী। ১৯২৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহামন্দা শুরু হয়। শেয়ার বাজারে ধস নামে। প্রায় প্রতিটি শেয়ারের দাম এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। চারদিকে হাহাকার। অনেক বিনিয়োগকারী দেউলিয়া হয়ে আত্মহত্যার করছিলেন।
কিন্তু লিভারমোর ছিলেন ব্যতিক্রম। যখন সবাই লোকসান দিচ্ছিল, তখন তিনি তার বুদ্ধিমত্তা ও রণকৌশল দিয়ে মাত্র একদিনেই ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেন। সেই সংকটের সময়েই তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার পরিবার যখন এই অবিশ্বাস্য সাফল্য উদযাপন করছিল, তখন শহরের অন্য প্রান্তে ঘটছিল ঠিক তার উল্টো ঘটনা।
২. আব্রাহাম জার্মানস্কি: মুদ্রার অন্য পিঠ
আব্রাহাম জার্মানস্কি ছিলেন একজন সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার। ১৯২০-এর দশকে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। কিন্তু শেয়ার বাজারের সেই কালো সময়ে তিনি বাজারের গতিবিধি বুঝতে ভুল করেন। ভুল জায়গায় বড় অঙ্কের বাজি ধরেন।
ফলাফল ছিল ভয়াবহ। যে বাজার লিভারমোরকে অঢেল সম্পদ দিয়েছিল, সেই একই বাজার জার্মানস্কিকে পথে বসিয়ে দেয়। ১৯২৯ সালের ২৬ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসে খবর আসে, জার্মানস্কি নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে শেষবার ওয়াল স্ট্রিটে দেখা গিয়েছিল। তিনি ক্ষোভে দুঃখে ব্যবসায়িক কাগজপত্র রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলছিলেন।
ধনী সুন্দরী এবং বেকার যুবকের ঐতিহাসিক প্রেমের গল্প

৩. করুণ পরিণতি ও মিলের জায়গা
গল্পটা এখানে শেষ হতে পারত যে—লিভারমোর সফল আর জার্মানস্কি ব্যর্থ। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস দেখুন, ১৯৩৩ সালে লিভারমোরও নিখোঁজ হন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
কী ছিল তাদের পতনের কারণ? লিভারমোর এবং জার্মানস্কি দুজনের মধ্যেই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল: তারা শেয়ার বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেপরোয়া ছিলেন। তারা ধনী হতে জানতেন, কিন্তু সেই সম্পদকে কীভাবে স্থিতিশীল রাখতে হয় বা ‘ধনী থাকতে হয়’, সেই সূক্ষ্ম চিন্তাভাবনা তাদের ছিল না।
ধনী থাকার একমাত্র উপায়: মিতব্যয়িতা ও অসহায়দের দান করা
বইটির শিক্ষা অনুযায়ী, ধনী হওয়ার এক মিলিয়ন উপায় থাকতে পারে। কিন্তু ধনী থাকার উপায় মাত্র একটি, তাহল মিতব্যয়িতা (Frugality) এবং বেঁচে থাকার মানসিকতা (Survival Instinct)। মনে রাখবেন যতই আয় হোক অযথা খরচ করবেন না। অসহায়দের দান করুন, মনে তৃপ্তি পাবেন। যতই ঝড় আসুক জীবন কে সুন্দর মনে হবে। বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করবে।
ব্লগ থেকে মূল শিক্ষা:
-
বিনিয়োগে অতি-আত্মবিশ্বাস বিপজ্জনক: বাজার সবসময় আপনার পক্ষে থাকবে না।
-
টিকে থাকা জরুরি: বড় লাভের চেয়ে বাজারে টিকে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
-
ধনী হওয়া বনাম ধনী থাকা: সম্পদ অর্জন করার জন্য ঝুঁকি নিতে হয়। কিন্তু সম্পদ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন নম্রতা এবং ভয় (যে কোনো সময় সব হারিয়ে যেতে পারে এই বোধ)।
উপসংহার: আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই স্বাধীনতা বজায় রাখা। আপনি যদি কেবল উপার্জনের দিকে মনোযোগ দেন এবং ব্যয়ের বা ঝুঁকির লাগাম টেনে না ধরেন, তবে ইতিহাস আপনার ক্ষেত্রেও লিভারমোর বা জার্মানস্কির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
সাইকোলজি অফ মানি বইয়ের রিভিউ দেখতে পারেন ভিডিওতে

আপনি কি ব্যক্তিগত অর্থায়ন (Personal Finance) নিয়ে আরও এমন বাস্তবধর্মী গল্প ও টিপস জানতে চান? নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান!
লেখক – সেলিম হোসেন – ১৫/০৪/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেটেড।

