দি আলকেমিস্ট বুক রিভিউ পাওলো কোয়েল হো। The Alchemist – Book Review 1 – Paulo Coelho

দি আলকেমিস্ট

বুক রিভিউ: দি আলকেমিস্ট — স্বপ্ন জয়ের এক অমর মহাকাব্য

আমরা সবাই জীবনে স্বপ্ন দেখি, কিন্তু বাধার মুখে পড়ে অনেকেই হাল ছেড়ে দিই। যারা জীবনের চাওয়া আর স্বপ্ন পূরণের পথে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন, তাদের জন্য এক সঞ্জীবনী সুধা হলো পাওলো কোয়েলহোর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘দি আলকেমিস্ট’

লেখক ও বইয়ের পেছনের নাটকীয় গল্প

ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহোর লেখক হওয়ার ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু পারিবারিক চাপে তা সম্ভব হয়নি। যাযাবর বা ভবঘুরে জীবন কাটিয়ে অবশেষে ৪১ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে তিনি লিখে ফেললেন তার মাস্টারপিস ‘দি আলকেমিস্ট’।

তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না:

  • প্রথম সপ্তাহ: বিক্রি হলো মাত্র ১ কপি।

  • ছয় মাস পর: বিক্রি হলো দ্বিতীয় কপি (যিনি প্রথম কপি কিনেছিলেন তিনিই আবার কিনলেন!)।

  • চুক্তি বাতিল: প্রকাশক বিরক্ত হয়ে বললেন, “আপনার বই সেলফ দখল করে আছে, বই নিয়ে বিদায় হন।”

কিন্তু পাওলো দমে যাননি। তিনি অন্য একজন প্রকাশকের দ্বারস্থ হলেন। ধীরে ধীরে ৩০০, ৩০০০ এবং তারপর ১০,০০০ কপি বিক্রি হলো। অবশেষে এক আমেরিকানের নজরে আসার পর এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় এবং ইতিহাস তৈরি হয়।

পড়ুন ‘বাদশা নামদার’ উপন্যাস, থ্রিলার মুভিকেও হার মানাবে। 

দি আলকেমিস্ট

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন

বইটি আমেরিকায় যাওয়ার পর বিল ক্লিনটন, উইল স্মিথ, ম্যাডোনা এবং জুলিয়া রবার্টসের মতো সেলিব্রিটিরা এটি লুফে নেন।

  • রেকর্ড: নিউইয়র্ক টাইমসে টানা ৩০০ সপ্তাহ বেস্ট সেলার ছিল।

  • অনুবাদ: এখন পর্যন্ত বইটি প্রায় ৮০টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।

  • মর্যাদা: একে বিংশ শতাব্দীর সেরা দশটি বইয়ের একটি বলা হয়।

জেনে নিন – ওজন কমানোর সবচে সহজ উপায়। 

দি আলকেমিস্ট 

আলকেমিস্ট কারা এবং কেন এই নাম?

ঐতিহাসিকভাবে, ‘আলকেমিস্ট’ তারাই যারা সাধারণ ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করতে পারেন। তাদের কাছে থাকে ‘ফিলোসফারস স্টোন’ বা পরশ পাথর এবং ‘এলিক্সির’ বা অমৃত সুধা, যা খেলে মানুষ চিরতরুণ থাকে।

বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটনও পরশ পাথর তৈরির রেসিপি নিয়ে ১০ লক্ষেরও বেশি শব্দ লিখে গেছেন। কিন্তু লেখক আধুনিক যুগে কেন এই পুরনো বিষয় নিয়ে লিখলেন?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে বইটির মূল দর্শনে। লেখক বুঝিয়েছেন: আমরা প্রত্যেকেই একেকজন আলকেমিস্ট। আমরা যখন আমাদের স্বপ্নের পেছনে ছোটার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, তখন আমরা নিজেই এক ‘পরশ পাথর’ হয়ে উঠি এবং আমাদের স্বপ্নগুলো ‘সোনায়’ পরিণত হয়।

জেনে নিন – কেন বই পড়বেন ?

দি আলকেমিস্ট

বইটির মূল দর্শন (The Core Philosophy)

বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী কথাটি হলো:

“যখন মানুষ সর্বান্তকরণে কোন কিছু পেতে চায়, তখন মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা লেগে পড়ে সেই চাহিদা মেটাবার যোগসাজশে।”

এটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং জীবনের কঠিন বাধা ডিঙিয়ে স্বপ্নকে আলিঙ্গন করার এক দিকনির্দেশনা।

বইয়ের একটি হৃদয়স্পর্শী অংশ

দোকানদার এবং বালকের সেই কথোপকথন আমাদের অনেকের জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। দোকানদার যখন বলে, “আমি যেমন আছি তেমনি ভালো, পরিবর্তন চাই না,” তখন পাঠক বুঝতে পারে ভয় কীভাবে আমাদের আটকে রাখে। কিন্তু পরক্ষণেই সে স্বীকার করে— “তুমি আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছ। আজ বুঝতে পারছি, যেসব আশীর্বাদকে মানুষ অমান্য করে, সেগুলো অভিশাপ হয়ে যায়।”

বইটি নিয়ে রিভিউ দেখুন ১০ টি বিষয় শিখে নিন। 

দি আলকেমিস্ট

কেন পড়বেন এই বইটি?

আপনি যদি জীবনের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিধায় থাকেন বা বারবার ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, তবে এই বইটি আপনার জন্য। এটি আপনাকে শেখাবে কী করে নিজের মনের কথা শুনতে হয় এবং প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে যেতে হয়।

পরামর্শ: সবসময় ‘ন্যাচারাল’ বা মূল স্বাদের গ্রিন টি পান করার মতো, সবসময় ভালো ও অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ার অভ্যাস করুন।

লেখক: সেলিম হোসেন | তারিখ: ১১.০৭.২০২৪ ইং

আপনার সেই সব বন্ধুদের সাথে এই পোস্টটি শেয়ার করুন যারা বারবার কাজে ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *