প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া উচিত? ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা – ডিম নিয়ে মজার গল্প

ডিম খাওয়ার নিয়ম

প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? ডিমে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন এবং ওমেগা-৩ এর অবিশ্বাস্য উপকারিতা সম্পর্কে জানুন। হার্ট, লিভার এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে সাজানো আমাদের আজকের এই ব্লগ। 

প্রতিদিন কয়টি ডিম খাবেন এবং কেন? জেনে নিন ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম

এক সময় ডিমকে বলা হতো ‘গরিবের প্রোটিন’। কিন্তু বর্তমান বাজারে এর দাম বাড়লেও পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এর জনপ্রিয়তা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার কাছে তুঙ্গে। প্রাণিজ প্রোটিনের সবচেয়ে সহজলভ্য এবং কার্যকর উৎস হলো ডিম। আজ আমরা জানবো কেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা জরুরি।

ছোট গোলাকার এই খাদ্য টিকে বলা হত, গরীবের প্রোটিন। কিন্ত দামের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গেছে ডিম! তাই এই খাবার টি গরীবের প্রোটিনে সীমাবদ্ধ নেই। এটা কিনতে হলে বেশ পয়সা গুনতে হয়। আর এই প্রাণীজ খাবারের পুষ্টিগুন নিয়ে অনেকেই অবগত। তাই এটির চাহিদা এখন ধনী, গরীব, মধ্যবিত্ত সবার কাছে সমান। ব্যাপক চাহিদার কারনে দাম সমসময়ই ঊর্ধ্বমুখী। 

ডিম

কেন প্রতিদিন ডিম খাবেন? (ডিমের উপকারিতা)

ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। এর প্রতিটি উপাদান আমাদের শরীরের ভিন্ন ভিন্ন উপকারে আসে:

  • তাত্ক্ষণিক এনার্জি: ডিমে থাকা ভিটামিন-বি খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে, যা আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম রাখে।

  • দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে: এতে থাকা ভিটামিন-এ, কেরোটিনয়েড এবং ল্যুটেন বয়সের কারণে চোখের সমস্যা (ম্যাকুলার ডিজেনারেশন) প্রতিরোধ করে।

  • ক্যানসার প্রতিরোধ ও কোষ গঠন: ভিটামিন-ই শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, বিশেষ করে নারীদের ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

  • হাড় ও পেশি মজবুত করে: ভিটামিন-ডি এবং ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের পেশি গঠনে এটি অপরিহার্য।

  • হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডিম খেলে রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে না, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

  • মস্তিষ্ক ও লিভারের সুরক্ষা: ডিমে থাকা ‘কোলাইন’ লিভার সুস্থ রাখে এবং নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা স্নায়বিক সমস্যা দূর করে।

ভ্রান্ত ধারণা বনাম সত্য: অনেকেই মনে করেন ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায়। আসলে ডিমে থাকা ওমেগা-৩ এবং এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল) আপনার হার্টকে আরও সুরক্ষিত রাখে।

ওজন কমিয়ে আজীবন কিভাবে সুস্থ থাকবেন উপায় গুলো জেনে নিন।

ডিম

ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

পুষ্টির পূর্ণ সুবিধা পেতে ডিম খাওয়ার পদ্ধতিতে সচেতন হওয়া জরুরি:

১. রান্নার পদ্ধতি: পুষ্টি বজায় রাখতে কম তাপে অল্প সময়ে রান্না করুন। সবচেয়ে ভালো হয় ঘি বা নারকেল তেল দিয়ে ‘পোঁচ’ করে খেলে (সাদা অংশ সেদ্ধ কিন্তু কুসুম কাঁচা)।

২. তেল নির্বাচন: রান্নার জন্য অ্যাভোকাডো তেল, নারকেল তেল বা খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করা উত্তম।

৩. ফাইবারের সমন্বয়: ডিমে কোনো ফাইবার বা আঁশ থাকে না। তাই এর সাথে পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকলি বা ক্যাপসিকাম মিশিয়ে খেলে হজম ভালো হয়।

৪. দেশি বনাম ফার্ম: সম্ভব হলে ফার্মের মুরগির বদলে দেশি হাঁস বা মুরগির ডিম বেছে নিন। প্রাকৃতিক পরিবেশে চড়া মুরগির ডিমে ভিটামিন এ, ই এবং ওমেগা-৩ তিনগুণ বেশি থাকে।

হু হু করে বাড়ছে কিডনি রোগী। কিভাবে সুস্থ রাখবেন কিডনিকে জেনে উপায় গুলো। 

ডিম

প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ?

এটি নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রার ওপর।

  • সাধারণত: একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন ১-২টি ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন।

  • হেলদি লাইফস্টাইল: যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট (যেমন: কিটো বা লো-কার্ব) অনুসরণ করেন, তারা দৈনিক ৪টি এমনকি প্রয়োজনভেদে ৬-৮টিও খেতে পারেন।

ডাঃ মজিবর রহমানের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস থাকলে একসাথে ৪টি ডিম একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মিল’ (Meal) হিসেবে গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আপনার একটি বদ অভ্যাসে রাতে ঘুম আসে না, দেখুন কোন সেই বদ অভ্যাস। 

ডিম

রক্তাল্পতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় ডিম

নারী ও শিশুদের রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে ডিমের আয়রন দারুণ কার্যকর। এছাড়া ডিমে থাকা সালফার নখ ভাঙা রোধ করে এবং নখকে সুন্দর ও মজবুত রাখে। যারা ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে ভোগেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডিমে থাকা জিঙ্ক ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

একটি মজার গল্প

একবার এক লম্বা ভদ্রলোক বাজারে গিয়ে দোকানিকে জিজ্ঞেস করলেন, “ডিমগুলো এত ছোট কেন?” চটপটে ঢাকাইয়া দোকানদার উত্তর দিলেন, “ডিম তো ঠিকই আছে ভাইসাব! আপনি তালগাছের মতো লম্বা তো, অনেক উপর থেইকা দেখতেছেন, তাই ছোট মালুম হইতাছে!”

ডিম

উপসংহার: ডিম শুধু একটি খাবার নয়, এটি সুস্থ থাকার একটি সহজ সমাধান। তবে মনে রাখবেন, শুধু ডিম খেলেই হবে না, সাথে চিনি ও প্রসেসড খাবার বর্জন করে একটি ‘হেলদি লাইফস্টাইল’ গড়ে তুলতে হবে।

লেখক: সেলিম হোসেন

তারিখ: ১২/০১/২০২৪ ইং

তথ্যসূত্র: Dr. Eric Berg, Dr. Jahangir Kabir, Dr. Mujibur Rahman ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সাময়িকী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *