ডিম্বাণুর মান বাড়ানোর উপায়? জেনে নিন আশার আলো ও করণীয়
অনেকেরই মাসিক নিয়মিত হয়। শরীরে আপাতদৃষ্টিতে কোনো বড় সমস্যা নেই। তবুও দীর্ঘদিনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে যখন কোলজুড়ে সন্তান আসে না। তখন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানা যায় এক নতুন শব্দ— AMH (Anti-Müllerian Hormone)। আর যখন রিপোর্ট বলে আপনার AMH লেভেল কম, তখন মুহূর্তেই পাহাড়সম হতাশা আর দুশ্চিন্তা গ্রাস করে নেয়।
কিন্তু আসলেই কি AMH কম হওয়া মানে সব শেষ ? চলুন আজকের ব্লগে জেনে নিই এর আদ্যোপান্ত।
একটি ছোট গল্প: ছায়া ও তার অদম্য যুদ্ধ
ছায়া ও আকাশের বিয়ের ছয় বছর পার হয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী—সবার মুখে একই প্রশ্ন, “খবর কবে আসবে?” ছায়া মনে মনে হাসত, কারণ ওর মাসিক তো একদম ঘড়ির কাঁটার মতো নিয়মিত। ও ভেবেছিল সমস্যা হয়তো বড় কিছু না। কিন্তু যখন পরীক্ষা করা হলো, ডাক্তার জানালেন ছায়ার AMH লেভেল মাত্র ০.৫। সাতাশ বছর বয়সী ছায়ার জন্য এটা ছিল এক বজ্রপাত।
কান্নাভেজা চোখে ছায়া যখন আকাশকে বলল, “আমি হয়তো কোনোদিন মা হতে পারব না,” আকাশ তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “ডাক্তার তো বলেছে ডিম্বাণুর সংখ্যা কম, কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের দরকার তো মাত্র একটা সুস্থ ডিম্বাণু।”
এরপর মাত্র ছয় মাস। বদলে গেল ছায়ার জীবন। পিৎজা-বার্জার বাদ দিয়ে পাতে জায়গা পেল সবুজ শাকসবজি আর ফল। দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রোজ সকালে পার্কে হাঁটতে শুরু করল সে। রোদের ভিটামিন-ডি আর চিকিৎসকের দেওয়া কিছু সঠিক সাপ্লিমেন্ট ছায়া শরীরকে আবার তৈরি করল। ঠিক সাত মাস পর, ছায়ার সেই বহুল প্রতীক্ষিত রিপোর্টের পাতায় লেখা এল ‘পজিটিভ’। ছায়া বুঝেছিল, AMH কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। লড়াইটা আসলে কোয়ালিটি বা মানের।
মাত্র একমাসেই শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলুন !

AMH আসলে কী? কেন এটি কমে যায়?
AMH হলো এমন একটি হরমোন যা জানায়, একজন নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর রিজার্ভ বা মজুদ ঠিক কতটা আছে।
-
প্রকৃতির নিয়ম: একজন নারী নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মান। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সংখ্যা কমতে থাকে এবং মেনোপজের দিকে এগিয়ে যায়।
-
অকাল হ্রাসের কারণ: বর্তমানে অনেক কম বয়সী নারীরও AMH কমে যাচ্ছে। এর পেছনে দায়ী:
-
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ।
-
পুষ্টির অভাব: বিশেষ করে ভিটামিন-ডি এর অভাব সরাসরি এর ওপর প্রভাব ফেলে।
-
মানসিক চাপ: ক্রনিক স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
-
অসুখ: এন্ডোমেট্রিওসিস, ইনসুলিন রেসিস্টেন্স বা ওভারিয়ান সার্জারি।
-
আশার কথা: সংখ্যা নয় মান বড় কথা
অনেকেই মনে করেন AMH একবার কমে গেলে আর বাড়ানো যায় না। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, সঠিক নিউট্রিওশনাল সাপোর্ট এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এই মান উন্নত করা সম্ভব।
মনে রাখবেন, গর্ভধারণের জন্য আপনার হাজার হাজার ডিম্বাণুর প্রয়োজন নেই। দরকার মাত্র একটি সুস্থ ও সুপুষ্ট ডিম্বাণু। তাই ডিম্বাণুর সংখ্যার (Quantity) চেয়ে সেটির মানের (Quality) দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
ন্যাচারালি আজীবন সুস্থ থাকার উপায় জেনে নিন

আপনার করণীয় কী?
যদি আপনার রিপোর্টে AMH কম আসে, তবে ভেঙে না পড়ে এই পদক্ষেপগুলো নিন:
১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রসেসড খাবার ও চিনি পুরোপুরি বাদ দিন। ডায়েটে রাখুন হেলদি ফ্যাট ( ঘি, নারিকেল তেল, মাখন, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার।
২. সূর্যের আলো ও ভিটামিন-ডি: প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। লো-ভিটামিন ডি এগ রিজার্ভের বড় শত্রু।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও ব্যায়াম: দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
৪. সঠিক সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী CoQ10, ভিটামিন-ই, বা আরজিনিন-এর মতো সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন যা ডিম্বাণুর মান বাড়াতে সাহায্য করে।
AMH কমে গেলে কি করবেন, জেনে নিন
শেষ কথা
AMH রিপোর্ট দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। সঠিক চিকিৎসা ও সুস্থ জীবনধারার মাধ্যমে এখনও আপনার মাতৃত্বের স্বপ্ন পূরণ হওয়া সম্ভব। হতাশ না হয়ে নিজের শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ শরীরই সুস্থ আগামীর চাবিকাঠি।
লেখক: সেলিম হোসেন
তারিখ: ০৭/০১/২০২৬ ইং (প্রতীকী ছবিগুলো এ আই জেনারেটেটেড)
Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.

