টাইফয়েড টিকা কেন দেবেন? প্রাকৃতিক বনাম কৃত্রিম সুরক্ষা: কোনটি সেরা?
স্কুলে বিনামুল্যে টাইফয়েড টিকা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন মহলে একটি বিতর্ক বেশ তুঙ্গে। টাইফয়েড টিকা কি শিশুদের দেওয়া উচিত, নাকি ঠিক নয়? একপক্ষ যখন সুরক্ষার কথা বলছেন, অন্যপক্ষ তখন প্রশ্ন তুলছেন টিকার দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা এবং শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম নিয়ে। আজকের ব্লগে আমরা এই দুই পক্ষের যুক্তি এবং সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি নিয়ে আলোচনা করব।
টাইফয়েড টিকার পক্ষে যুক্তি: বাড়তি সুরক্ষা
টিকার সমর্থকদের মতে, আজকের দিনে শিশুদের বাইরের খাবার থেকে দূরে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাদের প্রধান যুক্তিগুলো হলো:
-
অনিরাপদ খাবার: রাস্তার খাবার বা স্কুলের বাইরের খাবারে টাইফয়েডের জীবাণু থাকার ঝুঁকি অনেক বেশি।
-
ভোগান্তি এড়ানো: টাইফয়েড একটি যন্ত্রণাদায়ক রোগ। টিকা নিলে শিশু এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে পারে।
-
সহজলভ্যতা: সরকারিভাবে বা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই টিকা এখন বিনামূল্যেই পাওয়া যাচ্ছে।
বিপক্ষের যুক্তি: কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
অন্যদল মনে করেন, সবকিছুর সমাধান টিকা নয়। তাদের উদ্বেগের জায়গাগুলো হলো:
-
স্বল্পস্থায়ী সুরক্ষা: আইসিডিডিআরবি-র (২০১৮) গবেষণা অনুযায়ী, এই টিকার কার্যকারিতা মাত্র ৫ বছর। এমনকি কারও ক্ষেত্রে এটি ২ বছরেই শেষ হয়ে যায়।
-
আক্রান্তের হার: টাইফয়েডে আক্রান্তের হার খুব একটা বেশি নয়। তাই সারাজীবনের জন্য শরীরে বাইরের জীবাণু বহন করার যৌক্তিকতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।
-
ভিন্ন অভিজ্ঞতা: উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, আমেরিকায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী প্রায় ২৩টি টিকা নেয়। তবুও ২০১৯ সালের করোনায় সেখানে মৃত্যুহার ছিল অনেক বেশি (প্রায় ১২ লক্ষাধিক)।
ন্যাচারালি দ্রুত ওজন কমানোর উপায়

করোনা পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: একটি নতুন উদ্বেগ
ইদানিং চিকিৎসকদের কাছে অনেক রোগী আসছেন রহস্যময় চুলকানির সমস্যা নিয়ে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই রোগীদের প্রায় সবাই করোনার টিকা নিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি কারণ এখনো গবেষণাধীন। তবে এটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে, কৃত্রিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে? যে কারনে চুলকানি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
আসল রহস্য কি অন্ত্রে (Gut Health)?
আমরা ভুলে যাই যে, মানুষের শরীরের নিজস্ব একটি অসাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম রয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায়:
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ আসে অন্ত্র বা গাট (Gut) থেকে।
কেন আমাদের বাচ্চারা বারবার অসুস্থ হচ্ছে?
আমরা শিশুদের ভালোবেসে যা খাওয়াচ্ছি, তা-ই হয়তো তাদের অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যেমন:
-
সফট ড্রিঙ্কস ও প্যাকেটজাত জুস।
-
চিকেন ফ্রাই, বার্গার ও নুডলস।
-
চিপস, বিস্কুট ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কেক।
এই খাবারগুলো আমাদের অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়। ফলে অন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যায় এবং টাইফয়েডের মতো সাধারণ জীবাণুর সাথেও শরীর আর লড়াই করতে পারে না।
জেনে নিন ঔষধ ছাড়াই আজীবন সুস্থ থাকার উপায়

আমাদের করণীয় কী?
টিকা নেওয়া বা না নেওয়া একটি ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য আপনাকে নজর দিতে হবে প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।
১. শিশুদের অন্ত্রের যত্ন নিন: শিশুদের ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার এবং প্রো-বায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার দিন।
২. প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন: ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার অন্ত্রের সর্বনাশ ঘটায়।
৩. সতর্কতা: পানি ফুটিয়ে পান করা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস টাইফয়েড প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
৪. শারীরিক পরিশ্রম – শিশুদের খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের ব্যবস্থা করুন। বাসায় নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকবেন না, বাচ্চাদেরও স্মার্টফোন থেকে যতদূর দূরে রাখবেন।
শেষ কথা
অন্ত্র শক্তিশালী থাকলে শুধু টাইফয়েড নয়, শিশুর যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করতে পারবেন। শিশু সুস্থতার সাথে বেড়ে উঠবে। কৃত্রিম সুরক্ষার চেয়ে শরীরের নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।
শিশুর জরুরী পুষ্টি নিয়ে দেখুন ডাঃ এরিক বারগের ভিডিও

Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৬/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেটেড।









