ছাগল ছাগল ঐ পাঁঠা: পুরান ঢাকার তিনটি ভোলার মতো না ভোলা গল্প
পুরান ঢাকা মানেই রসিকতা, আড্ডা আর চমৎকার সব কিচ্ছা। আজকের ব্লগে আমরা ফিরে যাব সেই সময়ে, যখন ঢাকার রাস্তা ছিল ফাঁকা আর মানুষের মনে ছিল অফুরন্ত কৌতুক। চলুন জেনে নিই মজার তিনটি সত্য ঘটনা।
গল্প ১: মজনু মিয়ার রিকশা বিলাস
সময়টা চল্লিশের দশক। ঢাকার রাস্তায় তখন ঘোড়ার গাড়ি আর রিকশার রাজত্ব। এক পরিপাটি ভদ্রলোক রিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। হঠাৎ পাশের রিকশায় চোখ পড়তেই তার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার যোগাড়! রিকশার হুড তোলা, সেখানে বসে আছেন এক অপূর্ব সুন্দরী যুবতী।
ভদ্রলোক তো মন্ত্রমুগ্ধ! কিন্তু মুশকিল হলো, সুন্দরীর রিকশাওয়ালা বয়স্ক হওয়ায় রিকশা চলছিল ধীরগতিতে, আর ভদ্রলোকের রিকশা হু হু করে এগিয়ে যাচ্ছিল। সুন্দরী পাছে হারিয়ে না যায়, তাই তিনি ফন্দি আঁটলেন। রিকশা থামিয়ে ড্রাইভারকে বললেন, “বড্ড বাতাস, একটু সিগারেট ধরাবো।”
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সুন্দরীর রিকশা পার হওয়া পর্যন্ত একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন তিনি। রূপের ঝলকে যেন সোনালি বিকেল আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। হাতের সিগারেট পুড়ে শেষ, কিন্তু তার হুঁশ নেই। রিকশাওয়ালা মিটিমিটি হেসে শেষমেশ বলেই ফেলল— “মোর জ্বালা! এই দেহি হালায় মজনুরে লইয়া পরছি। ছাব, বাতাস চইলা গেছে গা, এহন কি রিকশা চালামু?”
আমেরিকা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের দৌড় প্রতিযোগিতা। মজার কাহিনী।

গল্প ২: দুই আণ্ডাওয়ালা বাইজি!
সেকালে নবাবদের ঢাকা ছিল গীত-বাদ্য আর থিয়েটারে ভরপুর। আহসান মঞ্জিল বা রেসকোর্স ময়দানে নিয়মিত মেলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। একবার এক মহল্লায় নাচের আসর বসেছে। তখনকার দিনে বাইজিরা সাধারণত পতিতা পল্লী থেকে আসতেন। কিন্তু কোনো এক কারণে সেদিন কোনো বাইজি পাওয়া যায়নি।
আয়োজকরা বুদ্ধি খাটিয়ে এক ছেলেকে মেয়ে সাজিয়ে নাচের আসরে নামিয়ে দিলেন। সেই ছেলে জীবন বাজি রেখে এমন উম্মত্ত নাচ শুরু করল যাতে কেউ বুঝতে না পারে সে পুরুষ। কোমরের দুলুনি আর নাচের ভঙ্গি যখন মাত্রা ছাড়িয়ে গেল, তখন আসর থেকে এক পুরান ঢাকাইয়া রসিক চিৎকার করে উঠলেন— “ঐ হালায় দুই আণ্ডা ওয়ালা বাইজি, কোমর কম হিলা, মাথা ঘুরায়!”
ইঁদুর মদ খেলে কি করে ? গবেষণায় উঠে এল মজার ফলাফল।

গল্প ৩: ঐ পাঁঠা! ঐ পাঁঠা!
এক বেপারী নবাবপুর থেকে এক পাল ছাগল আর পাঁঠা নিয়ে গেন্ডারিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। ধুলো উড়িয়ে পাঁঠার পাল এগিয়ে চলেছে। রাস্তার ধারের চা দোকানে বসে থাকা এক লোক নিজের জন্য একটি পাঁঠা কিনতে চাইছিলেন। তিনি দূর থেকেই হাঁক দিলেন— “ঐ পাঁঠা! ঐ পাঁঠা!”
বেপারী বিরক্ত হয়ে থামলেন না। লোকটা এবার আরও জোরে চিৎকার করে বললেন— “ঐ পাঁঠা, এত ডাকি শুনতে পাওনা? ঠসা নাকি?”
বেপারীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তিনি রাগে গজগজ করতে করতে একটি হৃষ্টপুষ্ট পাঁঠার কান ধরে লোকটার সামনে নিয়ে এলেন। তারপর পাঁঠার কানে কষে দুই থাপ্পড় লাগিয়ে বললেন— “হালার পো হালা, কানে হুন না? তোর বাপে ‘ঐ পাঁঠা’ ডাকতে ডাকতে পেরেশান অইয়া গেল, আর তুই কানে তুলো দিয়া রইছস? গরুর লাহান চিল্লাইতেছে, আর তুই বিটলামি করস!”
ভদ্রলোক তো থ! পাঁঠার বদলে ঝাড়ি খেয়ে তিনি একেবারে চুপ হয়ে গেলেন।
বউকে গল্প বলে রুটি বেলা বেলুনের পিটুনি খেল অমিত।

লেখক: সেলিম হোসেন
তারিখ: ০৩/০২/২০২৪ ইং
(ছবিগুলো প্রতীকী)
কেমন লাগলো গল্পগুলো? আপনার জানাশোনা এমন কোনো মজার ঘটনা থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!

পড়ুন – ছাগল কেনার রম্য স্মৃতি নিয়ে অভিনেতা আবুল হায়াতের গল্প।

