বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কেন চলছে গণহারে কর্মী ছাঁটাই? জানুন গুগল, মেটা ও টুইটারের ছাঁটাই পরিস্থিতি এবং চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের অদ্ভুত ‘পাহাড়ি টেকনিক’ সম্পর্কে। কর্মীদের অধিকার ও বর্তমান শ্রমবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিশেষ এই ব্লগটি পড়ুন।
বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের মিছিল: প্রযুক্তি থেকে পাহাড়ের দুর্গম পথ
বর্তমান বিশ্বে শ্রমবাজারে এক অস্থির সময় পার হচ্ছে। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কবলে পড়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো গণহারে কর্মী ছাঁটাই করছে। একদিকে প্রযুক্তির জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর যান্ত্রিক ছাঁটাই, অন্যদিকে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের অদ্ভুত ‘ফন্দি’—সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
১. বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের চালচিত্র
২০২২ সালের শেষভাগ থেকে গুগল, মেটা, এবং টুইটারের মতো বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে যে ছাঁটাইয়ের ঢল নেমেছিল, তা এখনো থামেনি।
-
২০২৩ সালের ভয়াবহতা: ‘লেঅফস ডট ফাই’-এর তথ্যমতে, শুধু ২০২৩ সালের জানুয়ারিতেই সারা বিশ্বে প্রযুক্তি খাত থেকে ১ লাখের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
-
তুলনামূলক চিত্র: যেখানে ২০২২ সালের পুরো বছরে চাকরি হারিয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মী, সেখানে ২০২৩-এর শুরুতেই সেই রেকর্ড ভাঙার উপক্রম হয়।
-
ছাঁটাইয়ের মাধ্যম: অধিকাংশ কর্মী তাদের ছাঁটাইয়ের খবর জানতে পারছেন ই-মেইল বা জুম ভিডিও কলের মাধ্যমে, যা অনেক ক্ষেত্রে সহমর্মিতার অভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোবাইল ছাড়া কি চলে, হ্যা চলে। জেনে নিন অনুভুতি কেমন, সমস্যা কি ।

২. চীনের সেই অদ্ভুত ‘চায়না টেকনিক’
কর্মী ছাঁটাইয়ের খরচ বাঁচাতে চীনের শানসি প্রদেশের একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা যে পথ বেছে নিয়েছিল, তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ে অফিস স্থানান্তর
প্রতিষ্ঠানটিতে ২০ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন। তাদের ছাঁটাই করলে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তাই মালিক পক্ষ এক অভিনব বুদ্ধি আঁটলেন। তারা অফিসটি সরিয়ে নিলেন অত্যন্ত দুর্গম কুইনলিং পর্বতমালায়।
সেই অফিসের পরিবেশ কেমন ছিল?
-
যাতায়াত: শহর থেকে যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগত। বাস সার্ভিস ছিল ৩ ঘণ্টা পরপর। বাস থেকে নামার পর আরও ৩ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে অফিসে পৌঁছাতে হতো।
-
টয়লেট সুবিধা: নারী কর্মীদের জন্য কোনো টয়লেট ছিল না; তাদের অনেকটা পথ হেঁটে গ্রামের টয়লেট ব্যবহার করতে হতো।
-
নিরাপত্তা: দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাতে ফেরার পথে কুকুরের আক্রমণের ভয় ছিল।
পড়ুন – মদ খাওয়ার পর শরীরে কি কি প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ফলাফল ও মালিকের কৌশল
এই প্রতিকূলতার মুখে টিকতে না পেরে ২০ জনের মধ্যে ১৪ জনই একসাথে পদত্যাগ করেন। মজার ব্যাপার হলো, কর্মীরা চাকরি ছাড়ার মাত্র ৪ দিন পরেই প্রতিষ্ঠানটি আবার আগের অফিসের জায়গায় ফিরে আসে এবং নতুন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়!
সাবেক কর্মীদের অভিযোগ: “আমাদের বলা হয়েছিল দীর্ঘদিন পাহাড়ে কাজ করতে হবে। আমরা যদি জানতাম এটা মাত্র কয়েকদিনের নাটক, তবে আমরা চাকরি ছাড়তাম না।”
পড়ুন – ইঁদুর মদ খায়। কেমন করে খায়।
৩. শ্রম অধিকার ও একটি ঐতিহাসিক কৌতুক
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে একসময় রাশিয়া ও চীনের কমিউনিস্ট আন্দোলন বিশ্ব কাঁপিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে একটি প্রচলিত মজার গল্প রয়েছে:
শ্রম দিবসের প্যারেডে কারখানার প্রবীণ শ্রমিক রাবিনোভিচকে বলা হলো তৎকালীন নেতা চেরনেনকোর ছবি বহন করতে। রাবিনোভিচ বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন:
“না কমরেড, আমাকে এই দায়িত্ব দেবেন না। আমি যার ছবি বহন করি, সেই মারা যায়! আমি লেনিনের ছবি নিয়েছি, তিনি মারা গেছেন। স্তালিন, ক্রুশ্চেভ, ব্রেঝনেভ, আন্দ্রোপভ—সবার ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটেছে।”
পাশ থেকে অন্য এক শ্রমিক তখন টিপ্পনী কেটে বললেন, “তাহলে রাবিনোভিচকে শুধু চেরনেনকোর ছবি নয়, কমিউনিজমের লাল পতাকাও বইতে দেওয়া হোক!”
ঔষধ ছাড়াই সারাজীবন কিভাবে সুস্থ থাকবেন, জেনে নিন উপায়।

৪. উপসংহার
ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বড় বড় সিইও-রা যখন অর্থনৈতিক যুক্তি দেন, তখন সাধারণ কর্মীদের জীবন ও জীবিকা পড়ে যায় ঝুঁকির মুখে। প্রযুক্তির এই যুগে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বাজারের এই অস্থিরতা সম্পর্কে সচেতন থাকা এখন সময়ের দাবি।
লিখেছেন: সেলিম হোসেন
তারিখ: ২০/১২/২০২৩
(ছবিগুলো প্রতীকী হিসেবে ব্যবহৃত)

