OMAD ডায়েট: দিনে একবেলা খাবার কি সত্যিই কার্যকর?
আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন মহলে একটি শব্দ খুব শোনা যাচ্ছে— OMAD (ওম্যাড)। শব্দটির পূর্ণরূপ হলো ‘One Meal A Day’ অর্থাৎ দিনে মাত্র একবার খাওয়া। অনেকের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। যেখানে আমরা দিনে ৫-৬ বার খাওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত, সেখানে দিনে মাত্র একবার খেয়ে থাকা কি সম্ভব? বা এটি কি বিজ্ঞানসম্মত?
আজকের ব্লগে আমরা ওম্যাড ডায়েটের আদি-অন্ত এবং এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করব।
OMAD কী?
ওম্যাড মূলত ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা না খেয়ে থেকে শরীর কে সুস্থতার পথে নেয়া। এখানে আপনি দিনে ২৩/২৪ ঘণ্টা উপবাস থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ে দিনের সমস্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করেন। এটি সাধারণত ২৩:১ নিয়ম মেনে চলে।
ঐতিহাসিকভাবে OMAD: ইবনে বতুতার অভিজ্ঞতা
দিনে একবার খাওয়ার বিষয়টি আধুনিক কোনো আবিষ্কার নয়। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগে তার “রিহলাহ ইবনে বতুতা” বইয়ে মক্কাবাসীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে লিখেছিলেন:
“মক্কার অধিবাসীরা আসর নামাজের পরে দিনে মাত্র একবারই আহার করে… এ জন্যই তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত।”
বর্তমানে মক্কায় খাদ্যাভ্যাস বদলালেও, ঐতিহাসিকভাবে এই নিয়মটি মানুষকে দীর্ঘজীবী ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করত।
ঔষধ ছাড়াই আজীবন সুস্থ থাকার উপায়

OMAD ডায়েটের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা
১. অটোফেজি (Autophagy): এটি শরীরের একটি প্রাকৃতিক পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো নিজেকে পরিষ্কার করতে শুরু করে। যা ক্যান্সার ও আলঝেইমার প্রতিরোধে সহায়ক।
২. দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘক্ষণ উপবাসের ফলে শরীর জমানো চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। যাকে ‘ফ্যাট বার্নিং’ মোড বলা হয়।
৩. ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ: ওম্যাড ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ২০১৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ১-২ বার খেলে বিএমআই (BMI) দ্রুত কমে।
৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: উপবাসের ফলে মস্তিষ্কে BDNF নামক প্রোটিন বাড়ে। যা নতুন নিউরন তৈরিতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কিডনি ডিটক্সের সহজ এবং ন্যাচারাল উপায়

ওম্যাড কি সবার জন্য? (সতর্কতা)
ওম্যাড যতটা কার্যকর, ততটাই এটি সবার জন্য উপযোগী নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক দিক থাকতে পারে:
-
অতিরিক্ত ক্ষুধা ও দুর্বলতা: শুরুর দিকে মাথা ঘোরা বা মেজাজ খিটখিটে হতে পারে।
-
সবার জন্য নয়: অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, কিশোর এবং যাদের ইটিং ডিজঅর্ডার আছে, তাদের জন্য এই ডায়েট নিষিদ্ধ।
-
রক্তে শর্করার ঝুঁকি: টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে গিয়ে বিপদ হতে পারে।
শুরু করবেন কীভাবে?
আপনি যদি ওম্যাড শুরু করতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- ধীরে ধীরে শুরু করুন: সরাসরি ওম্যাডে না গিয়ে প্রথমে ১৬:৮ (১৬ ঘণ্টা উপবাস থাকবেন, ৮ ঘণ্টার মাঝে খাওয়া দাওয়া করবেন) পদ্ধতি শুরু করুন।
- পর্যাপ্ত পানি: উপবাসের সময় পর্যাপ্ত পানি, চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি বা গ্রিন টি পান করুন।
- পুষ্টিকর খাবার: আপনার ওই একবেলার খাবারে যেন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ওম্যাড ডায়েটের বেনিফিট নিয়ে ডাঃ নিকের ভিডিও দেখুন

উপসংহার
ওম্যাড কেবল একটি ডায়েট নয়, এটি একটি জীবনধারা। এটি আপনাকে খাবারের প্রতি আপনার মানসিক আসক্তি থেকে মুক্তি দেয়। শরীরকে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ মেরামতের সুযোগ দেয়। তবে মনে রাখবেন, শরীরের কথা শোনা সবথেকে জরুরি। যদি ওম্যাড করে আপনি খুব বেশি দুর্বল বোধ করেন, তবে নিয়ম কিছুটা শিথিল করুন।
আপনি কি কখনও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং চেষ্টা করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের কমেন্টে জানান!
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৯/১২/২০২৫ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেটেড।
Reference: Dr Eric Berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.









