রহস্যময় নিখোঁজ থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: এমপি আনারের শেষ কয়েক দিন
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে ভারতে তাঁর খণ্ডিত দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি দেশজুড়ে শোক ও স্তব্ধতা নামিয়ে এনেছে। ১২ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত চলা এই রহস্যময় ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
📅 ঘটনার শুরু: ভারতে প্রবেশ ও বন্ধু গোপালের বাসা
গত ১২ মে ২০২৪, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেন আনোয়ারুল আজিম আনার। কলকাতায় গিয়ে তিনি ওঠেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে (১৭/৩ মন্ডলপাড়া, বরাহনগর)।
১৩ মে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তিনি সেই বাড়ি থেকে বের হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি হাস্যোজ্জ্বল মুখে বিধানপার্ক কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে উঠছেন। এটিই ছিল তাঁর শেষবারের মতো সুস্থ অবস্থায় দেখা যাওয়া কোনো দৃশ্য।
পড়ুন – ভাইরাল নিউজ মাতৃত্বের বিজয় ইরানে

📱 বিভ্রান্তিকর হোয়্যাটসঅ্যাপ বার্তা ও নিখোঁজ রহস্য
গোপাল বিশ্বাসকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে তাঁর ফোন থেকে রহস্যময় বার্তা আসতে শুরু করে:
-
১৩ মে সন্ধ্যা: হোয়্যাটসঅ্যাপে বার্তা আসে যে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং রাতে ফিরবেন না। ফোন করতে নিষেধ করা হয়।
-
১৫ মে সকাল: শেষ মেসেজ আসে— “আমি দিল্লি পৌঁছে গেছি, সাথে ভিআইপিরা আছেন।”
পরিবার ও বন্ধুদের বিভ্রান্ত করতে এই মেসেজগুলো পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তখন তিনি সম্ভবত আর বেঁচে ছিলেন না।
পড়ুন – ভাইরাল নিউজ বেইলি রোডে আগুন

🚨 তদন্ত ও ভয়াবহ সত্যের উন্মোচন
টানা কয়েকদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ১৭ মে আনারের মেয়ে ডরিন বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করেন। ১৮ মে বরাহনগর থানায় একটি ‘মিসিং ডায়েরি’ করা হয়।
পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। ঢাকায় আটককৃত সন্দেহভাজনদের তথ্যের ভিত্তিতে ২২ মে কলকাতার নিউটাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেন-এর একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় টেকনোসিটি থানার পুলিশ। সেখানে পাওয়া যায় খণ্ডিত দেহাবশেষ।
পড়ুন – ভাইরাল নিউজ প্রবাসীর করুন কাহিনী

হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বিবরণ:
-
পৈশাচিকতা: পুলিশ জানায়, এমপি আনারকে হত্যার পর তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। দেহের মূল অংশ ট্রলিতে ভরে সরিয়ে ফেলা হলেও কিছু দেহাবশেষ ফ্ল্যাটে রয়ে যায়।
-
সন্দেহভাজন: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই ফ্ল্যাটে এক নারীসহ তিনজন প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের বের হওয়ার চিত্র মেলেনি।
-
হত্যাকারীদের পরিচয়: তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। পাঁচজন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে এবং একজন বিদেশে পাড়ি দিয়েছে।
পড়ুন – ভাইরাল নিউজ সাগরিকা পারুলের মদের

👨👩👧 পরিবারের আর্তনাদ
নিখোঁজ আনারের মেয়ে মিজ ডরিন জানান, বাবার কানে গুরুতর সমস্যা ছিল এবং একটি কান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই চিকিৎসার জন্যই তিনি নিয়মিত ভারতে যেতেন। কিন্তু এবারের যাত্রা যে এমন করুণ হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
🔍 বর্তমান অবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়া
ডিবি পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মানব শ্রিংলা নিশ্চিত করেছেন যে, ক্যাব চালকের স্বীকারোক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ এই মামলার মূল ভিত্তি। জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
🖋 প্রতিবেদক: সেলিম হোসেন
📅 তারিখ: ২৩-০৫-২০২৪
📢 জনস্বার্থে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে পোস্টটি শেয়ার করুন। সকল তথ্য সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে সংগৃহীত।

