ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায় – ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এর প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায়

আমাদের শরীর হলো একটি হাইব্রিড গাড়ির মতো। যার দুটি ফুয়েল ট্যাংক আছে—একটি গ্লুকোজ (চিনি) এবং অন্যটি ফ্যাট (চর্বি)। সাধারণ অবস্থায় গাড়িটি শুধু গ্লুকোজ দিয়ে চলে। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো সেই চাবিকাঠি, যা গ্লুকোজের ট্যাংক খালি করে শরীরকে বাধ্য করে তার রিজার্ভ রাখা ‘ফ্যাট’ ট্যাংকের জ্বালানি ব্যবহার করতে। আসুন জেনে নেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থেকে বেরিয়ে ওজন কমানোর বিস্তারিত।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স 

ওজন কমানো বা সুস্থ থাকার জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বর্তমানে একটি জনপ্রিয় নাম। ফাস্টিং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করে সেনসিটিভিটি বাড়ায়। আপনার শরীরের ভেতরে আসলে কী ঘটে যখন দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন? ফাস্টিং-এর শুরু থেকে ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরের পরিবর্তনের ধাপগুলো।

১. ফিডিং ও পোস্ট-এবজর্পটিভ স্টেট

খাবার খাওয়ার পর শরীর প্রথমে গ্লুকোজ তৈরি করে। এরপর তা গ্লাইকোজেন ও ফ্যাট আকারে জমা করে। একে বলা হয় ‘ফিডিং ফেইজ’। খাওয়া শেষ করার ২৪-৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘পোস্ট-এবজর্পটিভ স্টেট’। এই সময়ে শরীর জমানো গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শুরু করে, ফলে ইনসুলিন লেভেল ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

২. গ্লুকোনিওজেনেসিস: নতুন শক্তির উৎস

ফাস্টিং-এর ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীর তার সব জমানো গ্লাইকোজেন শেষ করে ফেলে। তখন শরীর প্রোটিন ভেঙে নতুন গ্লুকোজ তৈরি করে। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় গ্লুকোনিওজেনেসিস বলে। এই ধাপে সামান্য মাসল লস হতে পারে।

৩ টি সহজ পদ্ধতিতে করতে পারেন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায়
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায়

৩. কিটোসিস: ফ্যাট পোড়ানোর আসল ধাপ

ইনসুলিন লেভেল যখন টানা কমতে থাকে। শরীর তখন ফ্যাট সেল ভেঙে ট্রাইগ্লিসারাইডস তৈরি করে। এই ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে শরীর তখন শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে গ্লুকোজের বদলে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার শুরু করে। এসময় বাড়ে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেনসিটিভিটি বাড়ানো খুব জরুরী। ফাস্টিং-এর ৪ দিন পর আমাদের মস্তিষ্ক তার প্রয়োজনীয় শক্তির ৭৫% এই কিটোন থেকে গ্রহণ করে।

৪. প্রোটিন কনজারভেশন ফেইজ

৫ দিন ফাস্টিং চলার পর শরীর গ্রোথ হরমোন বাড়ানো শুরু করে। এটি আমাদের হাড় ও পেশিকে রক্ষা করে। এই সময়ে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন মেরামত করে এবং পুরোপুরি মেদ বা ফ্যাটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। নর-এপিনেফ্রিন হরমোন বাড়ার কারণে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হারও কমে না।

৫. ফাস্টিং-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়

ফাস্টিং শুরুর প্রথম ২৪-৯৬ ঘণ্টা হলো সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল। এই সময়ে কোনোভাবেই ‘চিট মিল’ বা খাবার খাওয়া যাবে না। শরীর মূলত ৪৮ ঘণ্টার পর ফ্যাট পোড়ানো শুরু করে এবং ১২০ ঘণ্টা পর পুরোপুরি ফ্যাটের ওপর চলতে থাকে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করতে ডাঃ এরিক বারগের ভিডিওটি দেখুন 

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায়
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর কার্যকর উপায়

বিশেষ পরামর্শ: ফাস্টিং চলাকালীন লো-কার্ব (Low Carb) ডায়েট সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে যাদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স খুব বেশি, তাদের হুট করে নয় বরং ধীরে ধীরে কার্বোহাইড্রেট কমানো উচিত। যেমন—শুরুতে ৩০% কার্ব দিয়ে শুরু করে ক্রমান্বয়ে তা কমিয়ে আনা।

লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ০৩/০৩/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *