সুস্থ থাকা এখন আরও সহজ! ১০ ট্রিলিয়ন কোষের সমষ্টি আমাদের এই শরীরকে সুস্থ রাখতে ১১টি কার্যকরী টিপস জানুন। ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের রেফারেন্সে তৈরি এই গাইড আপনার জীবন বদলে দেবে।
শরীর নামক বাড়ির যত্ন: আজীবন সুস্থ থাকার ১১টি অব্যর্থ উপায়
একটি সুন্দর বাড়ি বানাতে আমরা কত কিছুই না করি! সেরা ইঞ্জিনিয়ার, বিএসআরএম রড, হোলসিম সিমেন্ট আর নামী রাজমিস্ত্রি খুঁজি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই শরীরটাও একটা বিশাল অট্টালিকা?
আমাদের শরীর প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন কোষের সমষ্টি। প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন কোষ ঝরে যাচ্ছে আর নতুন কোষ তৈরি হচ্ছে। বাড়ি তৈরিতে যেমন ভালো উপকরণ লাগে, শরীরের নতুন কোষ তৈরিতেও প্রয়োজন সঠিক প্রোটিন, ভালো ফ্যাট এবং মিনারেল। আপনি যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, তবে আপনার শরীরের “ইট-পাথর” তথা কোষগুলো দুর্বল হবে, আর আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
ওজন কমানো সহজ কাজ। সুস্থ থাকা আরও সহজ। দেখুন ভিডিও

সুস্থ থাকার ১১টি কার্যকরী ধাপ
সুস্থ থাকা কোনো কঠিন কাজ নয়, এটি কেবল কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন। নিচে আজীবন সুস্থ থাকার ১১টি নিয়ম আলোচনা করা হলো:
১. হাঁটাহাঁটির অভ্যাস গড়ে তুলুন
লিফট আর গাড়ির যুগে আমরা হাঁটতে ভুলে গেছি। সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ৬ হাজার স্টেপ হাঁটুন। খাবারের পর ৮০ কদম হাঁটা রাসুলের (সা.) সুন্নত। সকালে বা সন্ধ্যায় অন্তত ৩০ মিনিট জোর কদমে হাঁটুন।
২. পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান
শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এবং টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে ৫-৭ মগ পানি পান করুন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কিডনি ভালো রাখে।
জেনে নিন – দ্রুত সহজে হেলদি উপায়ে ওজন কমানোর উপায়।

৩. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent Fasting)
নিয়মিত ফাস্টিং বা রোজা শরীরের ‘অটোফেজি’ প্রক্রিয়া সচল করে। অর্থাৎ শরীরের মরা কোষগুলো রিসাইকেল হয়ে নতুন কোষ তৈরি হয়। সন্ধ্যা ৭টায় খেয়ে পরের দিন সকাল ১১টায় ব্রেকফাস্ট করলে সহজেই ১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং করা সম্ভব।
৪. রাতের খাবার তাড়াতাড়ি শেষ করুন
সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাতের খাবার আসরের পর বা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করা। এতে ঘুমানোর আগে শরীর খাবার হজম করার পর্যাপ্ত সময় পায়।
৫. চা ও কফির পরিমাণ নির্দিষ্ট করুন
চা বা কফি পান করলে চিনি ও দুধ ছাড়া পান করুন। দিনে সর্বোচ্চ ৪ কাপ পর্যন্ত পান করতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
পুরান ঢাকা এবং এক ছাগল বেপারির গল্প।

৩. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং – নিয়মিত ফাস্টিং করবেন। ধরুন রাতের খাবার সন্ধ্যা ৭ টায় খেলেন, তাহলে ব্রেকফাস্ট করবেন সকাল ১১ টায়। তাহলে ১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং হয়ে যাবে। এতে শরীরে অটোফেজি হবে। অর্থাৎ শরীরে মরা কোষ গুলো রিসাইকেল হয়ে যাবে। যদি ফাস্টিং এর সময় আরও বাড়াতে পারেন তাহলে আরও বেশি উপকার পাবেন।
৪. খাবার দেরিতে নয় – রাতের খাবার আসরের নামাজের পর অথবা সন্ধ্যা ৭ টার আগেই শেষ করবেন। । তাহলে শরীর খাবার হজম করার জন্য যথেষ্ট সময় পাবে। যা সুস্থ থাকার জন্য আবশ্যক।
৫. কয় কাপ খাবেন – চা ও কফি পরিমান মত পান করলে শরীর সুস্থ থাকে। অনেকেই অভ্যেসবশত চা ও কফি পান করে থাকেন। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে এঁদের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখুন। বেশি পান করলে শরীরের ক্ষতি হয়। চা বা কফি সবসময়ই দুধ, চিনি ছাড়া খাবেন। প্রতিদিন চা, কফি মিলিয়ে মোট চার কাপ খেতে পারেন।
ঔষধ ছাড়া আজীবন সুস্থ থাকার উপায়।

৬. গ্রিন টি-এর জাদুকরী গুণ
সাধারণ চা-কফির চেয়ে গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ওজন কমাতে বেশি কার্যকর। দিনে অন্তত দুই কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস করুন।
৭. ফাস্টফুড ও বাইরের খাবার বর্জন
অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত প্রসেসড ফুড বা ফাস্টফুড আমাদের শরীরের প্রধান শত্রু। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।
৮. মাদক ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
মাদক বা ধূমপান শুধু ফুসফুস ও লিভারই নষ্ট করে না, এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরও চরম ক্ষতি করে। সুস্থ থাকতে যেকোনো নেশা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
৯. নিয়মিত যোগাসন বা ব্যায়াম
শরীরকে নমনীয় রাখতে এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগব্যায়াম বা ইয়োগা অতুলনীয়। এটি মাথাব্যথা থেকে শুরু করে জটিল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
১০. চিনি যুক্ত খাবারকে ‘না’ বলুন
সাদা চিনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। চিনিযুক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চললে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিস ও ওজনের ভয় থাকে না।
১১. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
মস্তিষ্ক ও শরীরের রিচার্জের জন্য ভালো ঘুম অপরিহার্য। অনিদ্রা কাটাতে ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন করুন। অবসাদমুক্ত জীবনই সুস্থতার চাবিকাঠি।
স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেন কেটে ফেললেন স্ত্রী ?

আমার আজকের ডিনার মেনু (উদাহরণ)
সুস্থ ডায়েট কেমন হতে পারে তার একটি নমুনা:
-
ব্রকলি ও গাজরের সবজি
-
মিষ্টি কুমড়ার স্যুপ
-
সাউয়ার ক্রাউট (প্রোবায়োটিক)
-
কিছু বাদাম ও একটি ডিম
-
খাবারের আগে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশ্রিত পানি।
উপসংহার: ওজন কমানো যেমন সহজ, নিয়ম মেনে চললে আজীবন সুস্থ থাকা তার চেয়েও সহজ। আজই শুরু করুন আপনার সুস্থতার যাত্রা।
লিখন: সেলিম হোসেন (১৩/০১/২০২৪) রেফারেন্স: ডা. এরিক বার্গ, ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ডা. মুজিবুল হক, ডা. জেসন ফাং এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল।

