দাম্পত্যে ‘অতীত-প্রেমের’ গল্প: আত্মমুগ্ধতা নাকি সম্পর্কের বিষ?
সংসার বা দাম্পত্য জীবন মানেই বিশ্বাস এবং বর্তমানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মজবুত ভিত্তি। কিন্তু অনেক সময় আমরা না বুঝেই এমন কিছু কাজ করি, যা এই ভিত্তিকে ভেতর থেকে নড়বড়ে করে দেয়। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে নিজের অতীত প্রেমের গল্প বা জনপ্রিয়তা নিয়ে বড়াই করার একটি প্রবণতা দেখা যায়। একে আমরা বীরত্ব মনে করলেও, আদতে এটি একটি ‘নিকৃষ্টতম আত্মমুগ্ধতা’।
১. কবি ওমরের উদাহরণ ও নার্সিসিজম
আরবি সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ওমর বিন আবি রাবিয়ার কবিতায় দেখা যায়, তিনি দাবি করতেন নারীরা হজে গিয়েও তাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতো। তিনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যেন তিনি নারী মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যদিও মৃত্যুশয্যায় তিনি স্বীকার করেছেন যে, এগুলো ছিল মূলত তার ভাষার কারুকার্য ও কল্পনা, বাস্তব নয়।
অনেকে নিজের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার কথা অন্যকে শুনিয়ে আনন্দ পান। কিন্তু যখন একজন বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীর সামনে নিজের অতীত প্রেমের বীরত্বগাথা শোনান, তখন তিনি ভুলে যান যে—এটি কোনো বীরত্ব নয়, বরং বর্তমান সম্পর্কের প্রতি এক ধরনের অসম্মান।

২. স্ত্রীর মনে এর নেতিবাচক প্রভাব
একজন পুরুষ যেমন চান তার স্ত্রী মানসিকভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে শুধু তারই হোক, একজন স্ত্রীও ঠিক তেমনটিই চান। যখন স্বামী তার অতীত নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, তখন স্ত্রীর মনে বেশ কিছু বিষাক্ত ধারণার জন্ম নেয়:
-
অনিরাপত্তা: স্ত্রী ভাবতে শুরু করেন যে, তিনি হয়তো তার স্বামীর জন্য পর্যাপ্ত নন।
-
ভুল ধারণা: স্ত্রীর মনে হতে থাকে স্বামীর অতীত বর্তমানের চেয়ে বেশি সুন্দর ছিল, তাই তিনি এখনো অতীতেই পড়ে আছেন।
-
ভবিষ্যতের শঙ্কা: স্বামী যখন বলেন তিনি অতীতে অনেক নারীকে আকৃষ্ট করতে পেরেছেন, তখন স্ত্রী একে বর্তমান সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার একটি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে গ্রহণ করেন।
৩. দ্বিমুখী আচরণ ও সংবেদনশীলতা
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে পুরুষ নিজের অতীত নিয়ে বড়াই করেন, তিনি কিন্তু তার স্ত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো গল্প শুনতে মোটেও প্রস্তুত নন। স্ত্রীর মুখে অতীতের কথা শুনলে যেখানে ‘তালাক’ বা বিচ্ছেদের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেখানে স্বামী কেন মনে করেন তার বলা কথাগুলো স্ত্রী হাসিমুখে মেনে নেবেন?
“আমরা যা সহ্য করতে পারি না, তা কেন অন্যকে শোনাই?”
৪. সুন্দর দাম্পত্যের মূলমন্ত্র
দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কেবল স্ত্রীর দায়িত্ব নয়। এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সমান দায়বদ্ধতা। মনে রাখা প্রয়োজন:
-
অতীতকে কবর দিন: অতীত যদি অপরাধবোধের হয়, তবে তা মাটিচাপা দিন। বড়াই করবেন না।
-
বর্তমানকে যাপন করুন: বিমান যেমন এক ডানায় উড়তে পারে না, তেমনি একতরফা ত্যাগে সংসার টিকে থাকে না।
-
কল্পনা পরিহার করুন: অনেক পুরুষ স্ত্রীকে আতঙ্কে রাখতে কাল্পনিক প্রেমের গল্প ফাঁদেন। এটি সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়।
নারীদের নিয়ে চ্যাট জিপিটি এসব কি বলে

পরিশেষ
অতীতের পৃষ্ঠাগুলো উল্টে বর্তমানের শান্তি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। মহানুভবতার দাবি হলো, বিয়ের পর স্ত্রীর সামনে নিজের অতীতের সব পর্দা টেনে দেওয়া। আপনার স্ত্রী আপনার সম্পদ। আপনার সন্তানের জননী এবং আপনার বর্তমান। তাই অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের এই সুন্দর উপহারকে বিষাক্ত করবেন না।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৬/০২/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেড।

