প্রাইমারিতে পড়ার সময় স্যার আমাদের বলতেন, ভাগ্য নিজ হাতে লিখে নাও। আসলে কি ভাগ্য নিজ হাতে লেখা যায় ? নাকি আমাদের পূর্বপুরুষদের দেওয়া ডিএনএ কোড আমাদের জীবন পরিচালনা করে? ২০ লক্ষ যমজদের ওপর করা বিশ্বের অন্যতম বড় এক গবেষণা। সেখানে ফলাফলে দেখা গেছে, জেনেটিকস ও সফলতা নিয়ে এক রোমাঞ্চকর বিশ্লেষণ। জেনে নিন কে আপনার জীবন চালায়!
জেনেটিকস ও সফলতা কি আমাদের হাতে, নাকি জিনের হাতে?
মোটিভেশনাল স্পিকারারা বলেন, কঠোর পরিশ্রম কর। আপনিও তাই ভাবেন, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আর একটা সুযোগ পেলেই সফল হবেন। জীবন বদলে যাবে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার সাফল্যের পেছনে আপনার অজান্তেই কলকাঠি নাড়ছে আপনার পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া কিছু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জিন? সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা আমরা দেখব। যেখানে জীবনের সমীকরণ জেনেটিক্স অনেক টা বদলে দিয়েছে।
পূর্বপুরুষের ছায়া কতদূর?
একটু ভেবে দেখুন তো, আপনি আপনার বংশগত ধারার ঠিক কতটা কাছাকাছি? আপনার চেহারা, শরীরের গঠন বাবা মায়ের কাছাকাছি ? তাদের সাথে কণ্ঠস্বরেরও মিল আছে! তারপর দাদা-দাদি বা নানা-নানি। এই সাদৃশ্য বা মিলগুলো বড়জোর নয় পুরুষ পর্যন্ত স্পষ্ট থাকে।
এরপর তা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে যায়। কিন্তু আপনার ‘অ্যানসেস্ট্রি’ বা আদি বংশধারা কিন্তু হাজার হাজার বছর পুরনো এক বিশাল বটবৃক্ষ। আমরা মনে করি পরিবেশ আমাদের গড়ে তোলে। কিন্তু এই পরিবেশের ভেতরেও এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করে। তাহল হলো আপনার বংশগতি।
ছোট ছোট যে অভ্যাস গুলো আপনার সফলতা এনে দেয়

যমজদের নিয়ে সেই মহাউপাখ্যান
২০১৫ সালে ‘ন্যাচার জেনেটিকস জার্নাল’ একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এটি কোনো সাধারণ পরীক্ষা ছিল না। গত ৫০ বছরে প্রায় ২০ লক্ষাধিক যমজ দম্পতির ওপর করা ২০০০টি গবেষণা। এক বিশাল সারসংক্ষেপ ছিল এটি। বিজ্ঞানীরা এখানে দুই ধরনের যমজদের ওপর নজর দিয়েছিলেন:
১. আইডেন্টিক্যাল টুইন: যারা দেখতে হুবহু এক এবং যাদের জিনের গঠন প্রায় অভিন্ন।
২. ফ্র্যাটারনাল টুইন: যারা একই সাথে জন্ম নিয়েছে। কিন্ত সাধারণ ভাই-বোনের মতো আলাদা জিন বহন করে।
এই গবেষণার ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। দেখা গেছে, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, এমনকি চাকরির ক্ষেত্রে সফলতার হারও আইডেন্টিক্যাল টুইনদের মধ্যে অনেক বেশি মিল। যদিও এই মিল শতভাগ নয়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে আমাদের আচরণের পেছনে জিনের প্রভাব কতটা গভীর।
সফলতা কি কেবলই ভাগ্য?
মোটিভেশনাল স্পিকারারা বিভিন্ন সফল মানুষের উদাহরন দেন। চরম অভাবের মধ্যেও শুধু মেধা আর পরিশ্রমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এইসব মানুসেরা প্রচণ্ড জেদি ছিলেন। পরিশ্রম করার অসাধারন ক্ষমতা তাদের ছিল। আর এই দুই গুনের সাথে যোগ হয়েছিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধি। এসবই কোনো না কোনোভাবে বংশগতির প্রভাবের ফল।
ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা ও কর্মজীবন সামাজিক মর্যাদা ও আয়
এই চেইন বা শিকলটি একটির সাথে অন্যটি যুক্ত। যখন কারোর ব্যক্তিত্ব বা বুদ্ধিমত্তায় ঘাটতি থাকে, তার শিক্ষা বা কর্মজীবনে প্রভাব পড়ে। আর কর্মহীনতা বা অভাব থেকে জন্ম নেয় সামাজিক বিপর্যয় ও ডিপ্রেশন। এই ডিপ্রেশন বা মানসিক সমস্যাগুলোই শেষ পর্যন্ত মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কে ফাটল ধরায়। অর্থাৎ, আমাদের জীবনের বাহ্যিক ঘটনাগুলো আসলে আমাদের ভেতরের জেনেটিক ব্লু-প্রিন্টেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।
দুটো ঘটনা আপনার হতাশা দূর করবে

সামষ্টিক বনাম ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি
ছোটবেলায় গ্রামে প্রায় সব বাড়িতেই খড়ের গাদা দেখেছি। আপনি যখন খড়ের গাদার পাশে দাঁড়াবেন, তখন তা অনেক বড় দেখাবে। কিন্তু সেই একই গাদা যখন হেলিকপ্টার থেকে দেখবেন, তখন একটি বিন্দুর মত দেখাবে। জেনেটিকস বা বর্ণবাদের বিষয়টিও অনেকটা তেমন।
বর্ণবাদ বা রেসিজম ব্যক্তিগত আক্রোশের চেয়েও অনেক বেশি সামষ্টিক বিচারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যখন আমরা বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জেনেটিক তথ্য নিয়ে কাজ করি, তখন এক ধরনের ফলাফল পাওয়া যায়, কিন্তু ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করলে তা আলাদা হতে পারে।
শেষ কথা
কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: এক বিখ্যাত হাদিসে নবীজি (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেন, “জেনে রেখো, যদি সমস্ত সৃষ্টিজগত তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে তারা ততটুকুই করতে পারবে যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবে তারা ততটুকুই করতে পারবে যা আল্লাহ তোমার ভাগ্যে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং খাতা শুকিয়ে গেছে।” (তিরমিজি)
সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে: রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বেই মাখলুকাতের ভাগ্য লিখে রেখেছেন।” (সহিহ মুসলিম)
বিজ্ঞানিরা দেখছেন, সামাজিক সফলতা বা পদমর্যাদা কেবল পরিবেশের অবদান নয়, এর পেছনে জিনের অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের কাজ হল, নিজের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে পারা। জীবনব্যবস্থা যেহেতু ব্যক্তিত্ব ও বোধবুদ্ধির ওপর দাঁড়িয়ে। জীবন যুদ্ধে জিনের প্রভাবকে অবহেলা করার কোনো উপায় নেই।
সফল হতে ভিডিও টি আপনার চোখ খুলে দিবে

Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৮/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো পেক্সেলস এবং এআই জেনারেটেটেড।

