সন্ধ্যার পর থেকেই প্রচণ্ড ভিড় হয় ঔষধের দোকান গুলোতে। কাঁচাবাজারের মত ঠেলাঠেলি করে আমরা ঔষধ কিনি। ঔষধ খাই, কিন্ত অসুখ সারে না। ডাক্তার বলেছে আজীবন খেতে হবে। অথচ একটু সচেতন হলেই আমরা স্থায়ী রোগ নিরাময় করতে পারি। আজকে আমরা জানব পরিপূর্ণ সুস্থতার গাইড লাইন। খুবই সহজ এই গাইড লাইন, পড়তে থাকুন।
স্থায়ী রোগ নিরাময়: একটি সুস্থ জীবনযাত্রার শুরু হোক আজই।
আমরা অনেকেই মনে করি রোগ মানেই কেবল কিছু উপসর্গ। ট্র্যাডিশনাল ডাক্তাররা সেভাবেই বলেন। আর চিকিৎসা হিসেবে দেন মুঠো মুঠো ঔষধ। এই ব্যবস্থাপত্রে রোগ দমনে থাকে। কিন্তু প্রকৃত সুস্থতা আসে না। তাই প্রতিদিন ঔষধ খেয়েই জীবন চলে।
সুস্থতা কেবল বাইরে থেকে রোগ দমানো নয় বরং শরীরকে ভেতর থেকে পুনর্গঠন করা। যা করতে প্রয়োজন সঠিক খাবার, শারীরিক মুভমেন্ট এবং চিকিৎসার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। পরিবর্তিত হেলদি লাইফস্টাইল আমাদের আজীবন সুস্থ রাখতে পারে।
স্ট্রেস এবং হজম শক্তির গোপন যোগাযোগ জানতেই হবে

১. শরীরকে দেখুন পূর্ণাঙ্গভাবে (Holistic Approach)
গতানুগতিক মেডিসিনাল চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক সময় নির্দিষ্ট একটি অঙ্গ বা উপসর্গকে আলাদা করে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু মানবদেহ একটি একক কাঠামোর মতো। যেখানে প্রতিটি সিস্টেম একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। যেমন, আপনার মানসিক দুশ্চিন্তা যেমন হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তেমনি পেটে বাজে ব্যাকটেরিয়া বেড়ে গেলে তার প্রভাব পরে মস্তিষ্কে। তাই সুস্থ হতে হলে কেবল একটি সমস্যার সমাধান নয়। পুরো শরীরকে সামগ্রিকভাবে সুস্থ করার দিকে নজর দিতে হবে।
২. উপসর্গ দমানো বনাম স্থায়ী নিরাময়
পেইনকিলার বা সাময়িক ওষুধ আমাদের আরাম দেয়। অনেক সময় ল্যাব রিপোর্ট ভালো আসে। কিন্ত রোগের মূল কারণটি দূর করে না। উপসর্গ হলো শরীরের দেওয়া একটি ‘সংকেত’ বা অ্যালার্ম। যখন আমরা কারণ না খুঁজে শুধু উপসর্গ চেপে রাখি, আমাদের অসুখ শরীরের ভিতরে বাড়তেই থাকে।সমস্যাটি ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করে। অতএব স্থায়ী সুস্থতার জন্য উপসর্গের পেছনে থাকা প্রকৃত কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি।
৩. খাবারই যখন পরম ঔষধ
প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারে ভালোভাবে পেট ভরে। এটি আমাদের জিনের কার্যকারিতা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড ফুড ইনফ্লামেটরি খাবার। এ খাবার গ্রহণ করলে শরীরের কোষীয় স্তর ভারসাম্য হারায়। আর প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারে ভারসাম্য বজায় থাকে। মনে রাখবেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ক্ষতি কেবল সাপ্লিমেন্ট দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
সঠিক খাবারই আপনার শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঔষধ। প্রকৃতি থেকে আসা খাবার গ্রহন করুন, যেমন – সালাদ, শাকসবজি, নদীর মাছ, সামুদ্রিক মাছ, নারিকেল তেল, অলিভ ওয়েল, ঘি, মাখন, বাদাম ইত্যাদি। আজীবন সুস্থ থাকার এটাই উপায়।
ডাঃ বিমল জর্জের হেলদি লাইফস্টাইলের ভিডিওটি দেখতে পারেন

৪. শারীরিক মুভমেন্ট: জীবনীশক্তির চাবিকাঠি
সুস্থতার জন্য কেবল কঠিন জিম বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়। মাঝে মধ্যেই বডি বিল্ডার দের, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকে মৃত্যুর খবর শোনা যায়। তাই প্রয়োজন প্রসেসড খাবার, নেশা জাতীয় খাবার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। তারাতারি ঘুমাতে যাওয়া, ভোরে ঘুম থেকে উঠা।
শুয়ে বসে সারাক্ষন মোবাইল স্ক্রলিং সাস্থ্যের বারোটা বাজায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যত কম সময় কাটাবেন, ততই মানসিক আর শারীরিক সাস্থ্যের জন্য ভাল। নিয়মিত চলাফেরা বা ‘মুভমেন্ট’ অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত হাঁটাচলা করলে:
-
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কোষে অক্সিজেন ঠিকমত পৌঁছালেই শক্তি উৎপন্ন হয়। বাস থেকে নেমে ১০ মিনিটের পথ রিক্সায় নয়, হেঁটে বাসায় যান।
-
এনডোরফিন (Endorphins) হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমে। সকালে হাঁটাহাঁটি করলে এই হরমোন প্রচুর পরিমানে নিঃসৃত হয়।
-
নিয়মিত হাঁটলে বা মুভ করলে ব্লাড সুগার এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। একটি সক্রিয় শরীর সুস্থতার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। যা অলস শরীরের পক্ষে সম্ভব নয়।
উপসংহার:
সুস্থতা কোনো গন্তব্য নয় বরং একটি নিয়মিত অভ্যাস। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত নড়াচড়া এবং রোগের মূল কারণ বুঝে চিকিৎসা গ্রহণ করলেই আপনি দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা অর্জন করতে পারবেন।
সুস্থ থাকতে যে খাবার কখনো খাবেন না

Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ১৭/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেটেড এবং পেক্সেলস থেকে নেয়া।









