সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ – ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম যখন অশান্তির কারণ: সুখী দাম্পত্যের ৫টি টিপস

সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ

দাম্পত্য সুখ কমে যাচ্ছে,অশান্তি বাড়ছে। কারন কি সোশ্যাল মিডিয়া ? আজকে এ বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব। কিভাবে ডিজিটাল আসক্তি ও অনলাইন রিলেশনশিপ বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় কি। আপনার সংসার বাঁচাতে পড়তে শুরু করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য: ভার্চুয়াল জগত কি আপনার সংসার ভাঙছে?

আমাদের লাইফস্টাইলে যোগ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এর গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। এটি আমাদের তথ্য শেয়ারিং এবং সহজ যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্ত নিঃশব্দে ফাটল ধরাচ্ছে অনেক সাজানো সংসারে। আধুনিক সমাজে দাম্পত্য কলহের এক নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ‘ডিজিটাল আসক্তি’।

সোশ্যাল মিডিয়া যখন বিচ্ছেদের কারণ

মেইল অনলাইন পত্রিকার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে কোনো না কোনোভাবে সোশ্যাল মিডিয়া দায়ী। ‘ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা’, ‘অনলাইন অ্যাফেয়ার্স’ কিংবা সবসময় ফোনে বুঁদ হয়ে থাকার মতো বিষয়গুলো এখন বিচ্ছেদের সাধারণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি অনলাইন ডিভোর্স বিশেষজ্ঞ সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় ১,৫৪৯টি তালাক মামলার মধ্যে ৩০ শতাংশই ছিল সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে করা এক বিশ্লেষণে করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে,দম্পতিদের সমস্যার মূলে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক ঈর্ষা। পুরনো প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে যোগাযোগ। ডিজিটাল ডিভাইসের কারনে একে অন্যের প্রতি মনোযোগ না দেয়া।

স্বামী স্ত্রীর একান্ত সময় যেভাবে আনন্দে ভরিয়ে তুলবেন 

সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ
সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ

যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরায়

  • অবাস্তব প্রত্যাশা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবন একেবারে সাজানো গোছানো !  যেমন তাহসান, রোজার ডিভোর্স না হলে আমরা জানতেই পারতাম না, কি ভয়াবহ সমস্যা তাদের দাম্পত্যে। মিডিয়াতে ইনফ্লুয়েন্সারদের সাজানো জীবন আমরা দেখি। নিজেদের জীবনের সাথে তুলনা করতে শুরু করি। যা দম্পতির মধ্যে হীনম্মন্যতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে।

  • ভার্চুয়াল সম্পর্ক বনাম বাস্তব মুহূর্ত: স্বামী বা স্ত্রী হয়ত আপনাকে একটি উপহার দিল। আপনি কোন কথা না বলে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন উপহার বিষয়ে পোস্ট ফেসবুকে আপলোড দিতে। কিন্ত আপনার স্বামী হয়ত কিছু বলতে চেয়েছিল, আপনি সেটা অনুভবই করলেন না। এতে স্বামীর মনে অহেতুক কষ্ট তৈরি হয়।

  • গোপনে ফোন চেক করা: স্বামী বা স্ত্রীর ফোন চেক করার প্রবণতা সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বাস নষ্ট হলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

  • অন্যের লাইক-কমেন্ট নিয়ে ঈর্ষা: স্বামী বা স্ত্রীর পোস্টে কে লাইক দিল বা কেন দিল, এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করে।

সুখী হতে তিতির পাখির যে গল্প আপনাকে অবাক করবে 

সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ
সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ

সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ

আপনার ভার্চুয়াল জীবন যেন বাস্তব জীবনকে গিলে না খায়। সেজন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

১. ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখুন: সংসারের খুঁটিনাটি বা স্বামী-স্ত্রীর কলহ কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না। আপনার বিপদে কেউ সমব্যথী হবে না, বরং অনেকেই আড়ালে মজা নেবে।

২. সঙ্গীকে গুরুত্ব দিন: সারাদিন অন্যের পোস্টে লাইক-কমেন্ট না করে সঙ্গীর সাথে গুণগত সময় কাটান। বাসায় ফিরে সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ করুন। স্বামী বা স্ত্রীর সাথে গল্প করুন। এতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব অনুভব করবেন। নিজেদের আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব ছাড়া স্ত্রীর ছবি ওয়েব দুনিয়ায় শেয়ার করবেন না।

৩. সীমানা নির্ধারণ করুন: দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর ফোন দূরে রাখুন। বিশেষ করে খাওয়ার টেবিলে বা শোবার ঘরে ফোনের ব্যবহার যত কমাবেন তত ভালো।

৪. তৃতীয় পক্ষকে দূরে রাখুন: নিজেদের সমস্যা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে সব শেয়ার করলে তারা আপনার সঙ্গীকে ভিন্ন চোখে দেখতে পারে। যা পরে আর ঠিক করা সম্ভব হয় না।

৫. দাম্পত্য জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন। উভয়ের দেহ মনকে তৃপ্ত রাখতে, চাহিদাকে সামর্থ্যকে মধ্যে রাখতে এবং নিজেদের চোখকে হেফাজত ধর্মীয় অনুশাসন খুব জরুরী।

সোশ্যাল মিডিয়া দাম্পত্যে কি বিপদ তৈরি করছে, দেখুন সাইমন সাইনেকের ভিডিও 

সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ
সোশ্যাল মিডিয়া ও দাম্পত্য কলহ

শেষ কথা

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের সুবিধার জন্য, ক্ষতি করার জন্য নয়। মনে রাখবেন, স্ক্রিনের পেছনের মানুষগুলো অভিনেতা অভিনেত্রী। তাদের চেয়ে আপনার পাশে থাকা মানুষটি অনেক বেশি বাস্তব এবং মূল্যবান। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে আমরা যদি সচেতন না হই, তবে এই ডিজিটাল স্বাধীনতা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আসুন, ভার্চুয়াল জগতের মোহ কাটিয়ে বাস্তব সম্পর্ককে আরও বেশি সময় ও ভালোবাসা দেই।

আপনি কি আপনার দাম্পত্য জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করেছেন? কমেন্টে আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন। 

লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২৯/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এ আই জেনারেটেটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *