আমাকে বাঁচতে দিন ! এই আকুতি জানিয়েছেন তাহসান খান। জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তার প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী মিথিলা ডিভোর্স হয়েছে কয়েক বছর আগেই। খুবই অল্প সময়ের মাঝে দ্বিতীয় স্ত্রী রোজার বিচ্ছেদ হওয়ার পরেই এমন আকুতি জানিয়েছেন। মানুষ কেন অসুখী হয় ? আজেকের লেখায় অসুখী মানুষের ১০টি সাধারণ অভ্যাস এবং একটি গল্প বলব। পাবেন সুখী হওয়ার উপায়।
মানুষ কেন অসুখী হয়: আপনার জীবন কি ভুল পথে চলছে?
দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো টানাপোড়েন থাকবেই। কিন্তু কিছু অভ্যাস এবং নেতিবাচক মানসিকতা জীবনকে নরকে পরিণত করতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি ঘটনা পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নরেশ ভাট তার স্ত্রী মমতা কাফল নিখোঁজ হন। তিনি গুগলে সার্চ করেছিলেন, “স্ত্রীর মৃত্যুর কতদিন পর বিয়ে করা যায়?”
এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং চরম অসুখী ও বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আমাদের এমন অনেক অভ্যাস আছে যা মনের অজান্তেই অসুখী করে তোলে। সুখী হতে চাইলে এই ১০টি ক্ষতিকারক অভ্যাস আজই ত্যাগ করা প্রয়োজন।
স্ত্রীকে যেভাবে সুখী করবেন সুখে থাকবেন

১. ভবিষ্যৎ নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তিত হওয়া
ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা ভালো। কিন্তু কেবল “কী ভুল হতে পারে” তা ভেবে বর্তমান নষ্ট করা বোকামি। আমি তখন খুশি হবো যখন অনেক টাকা হবে। এই মানসিকতা আপনাকে কখনোই বর্তমানের সুখ উপভোগ করতে দেবে না।
-
সমাধান: বর্তমান নিয়ে বাঁচুন। আজকের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোতে আনন্দ খুঁজে নিন।
২. অতীতের ভুল ও অনুশোচনায় আটকে থাকা
অতীতে খারাপ কিছু ঘটেছে ? তা নিয়ে ভাবলে হতাশা বাড়বে। দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হবে। যা ঘটে গেছে তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই।
-
সমাধান: অতীত থেকে শিক্ষা নিন, কিন্তু তাকে বয়ে বেড়াবেন না। পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব না হলে তা মেনে নিয়ে এগিয়ে যান।
৩. জীবনকে ‘নিখুঁত’ বা পারফেক্ট করার চেষ্টা
কোন মানুষ নিখুত হয়। আমাদের জীবনও ভালো মন্দে চলাই বাস্তবতা। আপনি যদি সবসময় নিখুঁত ফলাফল আশা করেন, তবে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারাবেন।
-
সমাধান: ‘নিখুঁত’ হওয়ার চেয়ে ‘যথেষ্ট ভালো’ হওয়ার চেষ্টা করুন। কোন কাজে আপনার সেরা সামর্থ্য প্রয়োগ করেছেন, এটাই সম্মানের বিষয়।
৪. নিজের ও অন্যদের প্রতি অতি-সমালোচনামূলক হওয়া
পাশের বাসার ভাবীদের দুটো ফ্লাট। আপনার একটাও নেই। এমন ভাবনা শুধু দুঃখ বাড়ায়। আবার নিজের খুঁত নিয়ে সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা বলা আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়।
-
সমাধান: নিজের প্রতি সদয় হোন। অন্যের কি আছে না আছে এগুলো কখনো ভাববেন না।
যেভাবে শারীরিক মিলনে স্ত্রীকে সুখী করবেন

৫. সারাক্ষণ অভিযোগ করা
অভিযোগ করা একটি সংক্রামক ব্যাধি। ধরুন খেতে বসে বললেন, ‘ তরকারি ঝাল হয়েছে, রুটি পুড়ে গেছে’। এমন অভিযোগে স্ত্রীর মন খারাপ হবে। আপনার মেজাজটাও নষ্ট হবে। ক্রমাগত অভিযোগ স্বামী বা স্ত্রীকেই শুধু নয়, অফিসের কলিগদেরও বিরক্ত করে।
-
সমাধান: অভিযোগ করবেন না। সমস্যা দেখলে সময় নিয়ে ইতিবাচক কথা বলুন। উৎসাহ দিন, প্রেরনামুলক কথা বলুন।
৬. সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচকতা খোঁজা (হতাশাবাদ)
অসুখী মানুষ সবসময় বিশ্বাস করে যে খারাপ কিছু ঘটবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আপনার জীবনকে আরও জটিল করে তোলে।
-
সমাধান: নেতিবাচক চিন্তাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করুন। পৃথিবীটা যতটা খারাপ ভাবছেন, ততটা নয়।
৭. নেতিবাচক মানুষের সঙ্গ
আপনার চারপাশের মানুষ যদি সারাক্ষণ ভয়, উদ্বেগ এবং অভিযোগ ছড়ায়, তবে আপনার পক্ষে ইতিবাচক থাকা কঠিন।
-
সমাধান: ইতিবাচক মানসিকতার বন্ধু তৈরি করুন। যারা আপনাকে অনুপ্রেরণা দেয়, তাদের সাথে সময় কাটান।
৮. সমস্যা সমাধানের বদলে এড়িয়ে যাওয়া
অনেকে ভুল করলে তা স্বীকার না করে ‘বিছানার নিচে’ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই এড়িয়ে চলার অভ্যাস সমস্যাকে আরও বড় করে তোলে।
-
সমাধান: নিজের কাজের দায়বদ্ধতা নিতে শিখুন। ভুল হলে তা সংশোধন করুন, লুকাবেন না।
৯. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
চিনিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের সাথে সাথে মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এটি মেজাজ খারাপ করে দেয়। কেউ কেউ অলস এবং বিষণ্ণ হয়ে পরে। যে বাচ্চারা ফাস্টফুড এবং মিষ্টি জাতীয় বেশী খায়, তারা প্রায় সময় উত্তেজিত অবস্থায় থাকে।
-
সমাধান: ফলমূল ও শাকসবজিযুক্ত সুষম খাবার খান। সুস্থ শরীর সুখী মনের চাবিকাঠি।
১০. ভয় ও উদ্বেগ দ্বারা চালিত হওয়া
ভবিষ্যতে কি হবে এটা নিয়ে ভয়ে আছেন। সমাজে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন। এসব ভাবনা আপনাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এটি একটি মানসিক কষ্টের চক্র যা থেকে বের হওয়া জরুরি।
-
সমাধান: বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন। মনে রাখবেন, আপনি আপনার ভয় বা উদ্বেগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

জালালুদ্দিন রুমি ও তিতির পাখি
বিস্তীর্ণ বনের সরু পথ। হেঁটে চলেছেন জালালউদ্দিন রুমি। প্রকৃতির নীরবতা তার চিন্তাকে গভীরে নিয়েছে। হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে উড়ে এল একটি বড় কালো তিতির পাখি। দক্ষ হাতে পাখিটিকে ধরে ফেললেন রুমি।
তিনি ভাবতে লাগলেন, একে আগুনে ঝলসাবেন, নাকি সুস্বাদু তরকারি হিসেবে রান্না করবেন!
ঠিক তখনই পাখিটি রুমির হাতের ভেতর নড়েচড়ে বসল। কণ্ঠ ছেড়ে বলল,
“রুমি! জীবনে এত মাংস খেয়েও তোমার লোভ ফুরোয়নি! যদি তুমি আমাকে মুক্ত করে দাও, আমি তোমাকে তিনটি মূল্যবান পরামর্শ দেবো। যা তোমার জীবনকে শান্তি ও আনন্দে ভরিয়ে দেবে।”
রুমি একটু বিস্মিত হলেন, তারপর বললেন,
“আচ্ছা, তাহলে প্রথম পরামর্শ এখানেই দাও। যদি মূল্যহীন মনে হয়, তবে সাথে সাথেই তোমাকে জবাই করব।”
পাখিটি বলল,
“তুমি সবসময় অন্যের কথায় বিচলিত হয়ে পড়ো। অপ্রয়োজনীয় আলোচনায় জড়ানো তোমার স্বভাব। অথচ মানুষকে তাদের মতো থাকতে দিলে, তোমার জীবন আরও শান্ত হবে।”
রুমি চিন্তা করলেন, এতে সত্যিই গভীর এক জ্ঞান আছে!
তিনি বললেন, “তাহলে দ্বিতীয় পরামর্শ বলো।”
পাখিটি বলল, “আমি গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শ দেবো। আগে আমাকে মুক্ত করো।”
রুমি কিছুটা দ্বিধান্বিত হলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে পাখিটিকে ছেড়ে দিলেন। পাখিটি উড়ে গিয়ে একটি গাছের ডালে বসল।
পাখিটি গাছের ডাল থেকে বলল,
“রুমি! অতীতকে কখনো বদলানো যায় না। তাই বর্তমানকে উপভোগ করো এবং ভবিষ্যতের জন্য বেঁচে থাকো।”
রুমি ভাবলেন, আসলেই তো ! পাখিটি ঠিকই বলেছে।
কিন্তু তখনই পাখিটি হঠাৎ হেসে বলল,
“যাই হোক, তুমি বড় বোকামি করেছো! আমার পেটে তিন কেজি হীরা ছিল। যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে, তবে সেই হীরা পেয়ে তোমার তিন পুরুষ আরাম করে কাটাতে পারতো।”
এই কথা শুনে রুমি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন! তার বুক ধক করে উঠল। হতভম্ব হয়ে তিনি পাখিটিকে ধরতে দৌড় দিলেন।
পাখিটি তখন উঁচু ডালে উঠে গিয়ে বলল,
“রুমি! তুমি দেখছি আমার দ্বিতীয় পরামর্শের কথাই ভুলে গেলে! আমি তো বলেছিলাম, অতীতকে বদলানো যায় না। আর ভাবো তো, আমি যেখানে মাত্র দুই কেজির, সেখানে কীভাবে আমার পেটে তিন কেজি হীরা থাকবে?”
রুমি থমকে দাঁড়ালেন। বুঝতে পারলেন, তিনি আবারও ভুল করেছেন।
‘মুফতি মেঙ্কের’ এই ভিডিওটি সুখী হতে আপনার কাজে লাগবে

এবার রুমি তিতিরকে অনুরোধ করলেন, “তোমার তৃতীয় পরামর্শটা দাও। এবার আমি সত্যিই মনোযোগ দিয়ে শুনবো।”
পাখিটি বলল,
“সবার কাছে উপদেশ দিতে যেও না। শুধু তাদের উপদেশ দাও, যারা তা গ্রহণ করতে চায়। মনে রেখো, কিছু কাপড় এতটাই পুরোনো ও জীর্ণ হয়ে যায় যে, তা আর কখনো সেলাই করা যায় না।”
রুমি এবার সম্পূর্ণ নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, পাখিটির প্রতিটি পরামর্শই জীবন বদলে দেওয়ার মতো!
গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে তিনি বনের পথ ধরে এগিয়ে গেলেন, কিন্তু এবার তার চিন্তাধারা আগের চেয়ে অনেক পরিণত ও শান্ত।
লেখক – সেলিম হোসেন – তাং – ২২/০১/২০২৬ ইং – প্রতীকী ছবি গুলো এআই জেনারেটেটেড।









