জীবন কি কেন কিভাবে – লেখক তৌহিদুর রহমান বুক রিভিউ এবং ১ মজার গল্প What is life, why is it so? – Author Touhidur Rahman Book Review and 1 Funny Story

জীবন কি কেন কিভাবে
হজম শক্তি বাড়াতে খাবেন Digestive enzymes

জীবন কি কেন কিভাবে এবং জগৎ ও সুখের রহস্য

কখনো কি ভেবেছেন, আমাদের এই চলমান শরীরটা আসলে কী দিয়ে তৈরি? রক্ত, মাংস, হাড়—সব মিলিয়ে যদি আপনার ওজন হয় ৬৭ কেজি, তবে আপনি মূলতঃ প্রায় ৪৭ কেজি পানি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! আমাদের শরীরের শতকরা ৭০ ভাগই পানি। প্রশ্ন হলো, এত পানি কোথায় থাকে?

আসুন, জীবনকে একবার অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখি, আর একবার অনুভূতির দৃষ্টিতে।

পর্ব ১: জীবনের মৌলিক একক – কোষের ভেতরের রসায়ন

জীবনের সূচনা হয় একটি মৌলিক একক থেকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। একটি কোষের আকৃতি মাত্র ৫-২০ মাইক্রোমিটার। এই ক্ষুদ্রতম ঘটনাই হলো আমাদের জীবন।

কোষের আবিষ্কার ও জীবনের ভিত্তি

বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সরল মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে প্রথম মৃত উদ্ভিদের কোষ চিহ্নিত করেন। কোষকে বলা হয় জীবনের মৌলিক একক। এই ক্ষুদ্র এককের অভ্যন্তর থেকে বাহির পর্যন্ত শুধুই রসায়নের খেলা। এর গঠন, এর শক্তি উৎপাদন, একে অপরের সাথে যোগাযোগ—সবই চলে রসায়নের অভিন্ন নীতি মেনে।

জীবনে সফল হতে চাইলে যে বইটি অবশ্যই পড়বেন 

জীবন কি কেন কিভাবে
জীবন কি কেন কিভাবে

মানব কোষের প্রধান ৩টি অংশ

যে কোষ খালি চোখে দেখা যায় না, তার ভিতরে রয়েছে একটি সম্পূর্ণ “মিনি সিস্টেম”:

১. কোষ ঝিল্লি (Cell Membrane): এটি কোষের বাইরের সুরক্ষা স্তর। আমাদের শরীরের চামড়ার মতো এটি কোষকে ঘিরে রাখে এবং ভেতরের জিনিসপত্রকে বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা করে রাখে। একই সাথে পদার্থের প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।

২. নিউক্লিয়াস (Nucleus): কোষের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা “মস্তিষ্ক”। কোষে সংগঠিত সব কাজ এটি নিয়ন্ত্রণ করে। যে DNA আমাদের জিনগত তথ্য ধারণ করে, তা এখানেই থাকে।

৩. সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm): এটি কোষ ঝিল্লি এবং নিউক্লিয়াসের মাঝখানে অবস্থিত একটি জেলির মতো তরল পদার্থ। এখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু ভাসমান থাকে: * মাইটোকন্ড্রিয়া: কোষের “পাওয়ার হাউস”, যা শক্তি উৎপন্ন করে। * রাইবোসোম: প্রোটিন তৈরি করে। * এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম: প্রোটিন এবং লিপিড তৈরিতে সাহায্য করে।

পুরো কোষটা বর্ণহীন এবং ৭০ শতাংশ পানি দিয়ে পূর্ণ। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে, আপনি যে ‘৪৭ কেজি পানি’ নিয়ে ঘুরছেন, তা আসলে কোষের অভ্যন্তরে নিপুণভাবে সাজানো আছে। এই বিস্ময়কর গঠন বিধাতার শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে!

থ্রিলার মুভির থেকেও থ্রিলিং এই মোঘল সম্রাটের কাহিনী 

জীবন কি কেন কিভাবে
জীবন কি কেন কিভাবে

পর্ব ২: জীবন কি কেন এবং সুখের আপেক্ষিক গল্প

জীবনের বৈজ্ঞানিক দিকটি যেমন জটিল, এর মানবিক বা দার্শনিক দিকটিও তেমনই রহস্যময়। জীবন মানে শুধু কোষের রাসায়নিক কাজ নয়, জীবন মানে চাওয়া, পাওয়া আর অনুভব। সুখ বা ‘সুখী হওয়া’ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে একটি ভিন্ন ধরনের গল্প শোনা যাক।

গল্পটি তখনকার, যখন রাশিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেখানে কমিউনিস্ট শাসন জারি ছিল, ছিল অভাব, অনটন এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি (KGB)-এর ভয়াবহ নিপীড়ন।

ভিন্ন দেশে সুখের সংজ্ঞা

  • জার্মান: কাজের শেষে ঘরে ফিরে বউয়ের হাতে ঝলসানো মাংস আর বিয়ার খেয়ে বউকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। তারা সুখী।
  • ব্রিটিশ: কাজ সেরে সন্ধ্যায় ফিরে স্ত্রীর সাথে ডিনার সারল। এরপর পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বেরোল। ফিরে এসে বউকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল। তারা সুখী।
  • ফরাসি: হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফিরল। বউকে ঘরে না পেয়ে এক বোতল শ্যাম্পেন নিয়ে চলল প্রেমিকার কাছে। তারা সুখী।

মুহাম্মদ ( সঃ ) এর অফাতের পর কি ঘটেছিল মুসলিম দুনিয়ায় 

জীবন কি কেন কিভাবে
জীবন কি কেন কিভাবে

সোভিয়েত ইউনিয়নে সুখের সন্ধান

কাজের শেষে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডায় বাধ্যতামূলক হাজিরা দিয়ে বাড়িতে ফিরল ইভানভ আর ইভানভা। ঘরে খাওয়ার মতো কিছু নেই, তাই একচোট ঝগড়া হলো দুজনের মধ্যে। পরস্পরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে তারা শুয়ে পড়ল।

মাঝরাতে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। “কে?” “আমরা কেজিবি থেকে এসেছি, দরজা খুলুন।”

দরজা খুলতে জনা দশেক লোক ঢুকল। নেতা গোছের একজন প্রশ্ন করল, “আপনারা পেত্রভ আর পেত্রভা তো? আপনাদের গ্রেফতার করা হলো।” ইভানভ বলল, “ভুল করছেন, আমরা ইভানভ আর ইভানভা। পেত্রভরা থাকেন উপরের ফ্ল্যাটে।”

দুঃখিত বলে কেজিবির লোকজন চলে গেল। একটু পরে ইভানভ আর ইভানভা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখল, পেত্রভ আর তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে কেজিবি। গাড়ির দরজা বন্ধ হতেই ফের শুয়ে পড়ল ইভানভ আর ইভানভা। তারা সুখী।

ম্যাজিক দেখিয়ে সবাইকে চমকে দিন 

জীবন কি কেন কিভাবে
জীবন কি কেন কিভাবে

জীবন কি কেন এবং সুখের আপেক্ষিকতা

১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার সময় আমরা দেখেছি, কমিউনিস্টরা সেখানে নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছিল। সব মানুষ কে সমান করে দেওয়ার দর্শন অসার প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু এই গল্পটি দেখায় যে, চরম অভাব আর নিপীড়নের মুখে, গ্রেফতার না হওয়া বা বেঁচে থাকাটাই কখনও কখনও সবচেয়ে বড় সুখ।

সুখ হলো একটি আপেক্ষিক অনুভূতি, যা শুধুমাত্র রাসায়নিক উপাদানের ফল নয়, বরং নির্ভর করে আমাদের মানসিক অবস্থা ও পরিস্থিতির উপর।

লেখক: সেলিম হোসেন তাং: ১১/১১/২০২৫ ইং প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *