ক্রেতা কাকে বলে। বিরক্তিকর ক্রেতা রসিক দোকানদার। একটি মজার ঘটনা 1. Buyer and shopkeeper funny debate

ক্রেতা কাকে বলে

ক্রেতা কাকে বলে: ক্রেতাই কি সবসময় সঠিক?

ক্রেতা ভ্যালু কি? সন্তুষ্টি কি? ক্রেতা কাকে বলে?—এইসব নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনার শেষ নেই। বড় বড় ব্র্যান্ডের শোরুমে লেখা থাকে “কাস্টমার ফার্স্ট” (Customer First), আবার সাধারণ দোকানিরাও ভক্তিভরে বলেন, “কাস্টমার হলো লক্ষ্মী”। কিন্তু দিনশেষে যখন লেনদেন শুরু হয়, তখনই বাধে বিপত্তি। আর সেই বিপত্তি থেকেই জন্ম নেয় নানান রসময় ও ঐতিহাসিক সব কাহিনী।

ক্রেতাকে কিভাবে প্রভাবিত করবেন। 

ক্রেতা কাকে বলে
ক্রেতা কাকে বলে

কাস্টমার ও বিক্রেতার মনস্তত্ত্ব

কিছু কাস্টমার আছেন যারা ডিমের দোকানে গিয়ে প্রতিটি ডিম আলাদা করে বাছেন। মাছের দোকানে গিয়ে চলে অন্তহীন দামাদামি। আবার পোশাকের দোকানে গিয়ে “এটা দেখান, ওটা না ওই কালারটা দেখান”—এমন ফরমায়েশ চলতেই থাকে। অনেক সময় এসব আচরণে দোকানিরা মহাবিরক্ত হন, কিন্তু ব্যবসার খাতিরেই তা হজম করতে হয়।

তাহলে প্রশ্ন জাগে, এই ধরনের ক্রেতাদের মন জয় করবেন কীভাবে বা তাদের সামলাবেন কীভাবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের ঢাকা শহরের পুরনো এক গল্পে।

পড়ুন – শিখ নারী এবং মুসলিম যুবকের প্রেম, বিয়ে এবং ডিভোর্স নিয়ে। 

ক্রেতা কাকে বলে

ঐতিহাসিক এক স্মৃতি: ইসলামপুরের ফলের দোকান

চল্লিশের দশকের কথা। তখন ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র ছিল ইসলামপুর, পাটুয়াটুলি, সদরঘাট আর চকবাজার। বর্তমানে ঢাকার অলিগলিতে ফলের দোকান থাকলেও, তখন ফল কিনতে হলে যেতে হতো ইসলামপুরে। সেখানে ফল বিক্রি করতেন বোম্বাইয়া, পেশোয়ারি এবং আদি ঢাকাইয়ারা।

একটি মজার ঘটনা: এক ভদ্রলোক ফল কিনতে গিয়েছেন এক ঢাকাইয়ার দোকানে। তখন জিনিসপত্রের দাম ছিল অনেক কম, আর কাগজের নোটের পাশাপাশি কয়েনের প্রচলন ছিল প্রচুর। ভদ্রলোক ফল কিনে দাম পরিশোধ করলেন।

দোকানি তাকে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার সময় একমুঠো খুচরো কয়েন দিলেন। কিন্তু ভদ্রলোক নাছোড়বান্দা! তিনি কয়েন নেবেন না, তার চাই কাগজের নোট। এদিকে দোকানির ক্যাশেও কয়েন জমে পাহাড় হয়ে আছে, তিনিও কয়েনই দিতে চান। এ নিয়ে চলল তুমুল তর্কাতর্কি।

পড়ুন – সফলতার পথে ফোকাস গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক ঘটনা। 

ক্রেতা কাকে বলে
ক্রেতা কাকে বলে

ঢাকাইয়া দোকানদারের রসবোধ

ভদ্রলোকের জেদ দেখে দোকানি মহা বিরক্ত হলেন। শেষমেশ তিনি তার কর্মচারী ইখতিয়ারকে ডেকে নিজের স্বভাবজাত ঢাকাইয়া ভাষায় বললেন:

“ঐ হালা ইতাইরা! বান্দির পোলা তুই কি উজবুক নিহি? কিছুই বুঝবার পারছ না! হেতে (ক্রেতা) হাওয়াই জাহাজে চইরা যাইব। কয়েন দিলে পকেটের ওজন বাইরা যাইব না? তখন পাইলট যে বেশি ভাড়া চাইব, হেইডা কি তুই তোর বাপের জমিদারি বেইচা দিবি? ছাবরে জলদি কাগজের টাকা দে। বহুত বড় আদমি, ছাবে হাওয়াই জাহাজে উইড়া যাইবেন!”

দোকানদারের এই রসময় খোঁচা আর উপস্থিত বুদ্ধি পরিস্থিতিকে হালকা করে দিল।

শেষ কথা

ক্রেতা যেমনই হোক না কেন, তাদের সাথে সঠিক আচরণ এবং মাঝে মাঝে একটু রসবোধ ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও সহজ করে তোলে। এই “বিরক্তিকর কাস্টমার ও রসিক দোকানদার” কাহিনীটি আপনার কেমন লাগলো? ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!

লেখক: সেলিম হোসেন

তারিখ: ১৫/০২/২০২৪ ইং

(দ্রষ্টব্য: ব্যবহৃত ছবিগুলো প্রতীকী)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *