আম খেলে কেন ঘুম হয়? ঘুমের জন্য ‘ন্যাচারাল ঔষধ’ এবং কিছু ঘরোয়া টিপস
অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, আম খাওয়ার পর শরীর একটু ম্যাজম্যাজ করে বা ঘুম পায়। কেন এমন হয়? আম কি আসলেই ঘুমের প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে কাজ করে? আজ আমরা জানবো আম খেলে ঘুম হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ এবং ভালো আম চেনার উপায়।
জেনে নিন – আজ থেকেই ঔষধ ছাড়াই রাতে ঘুম আসবে।

১. আম খেলে ঘুম হয় কেন? (বৈজ্ঞানিক কারণ)
সুস্বাদু এই ফলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ যা আমাদের মস্তিষ্ক ও পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে:
-
সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন: আমে আছে ভিটামিন বি-৬ বা পাইরোডক্সিন। এটি শরীরে ‘সেরোটোনিন’ তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে সাহায্য করে।
-
পেশি শিথিলতা: আমে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শরীরের পেশি রিলাক্স করে এবং দুশ্চিন্তা কমায়।
-
ট্রিপ্টোফ্যান: এতে থাকা ট্রিপ্টোফ্যান নামক অ্যামাইনো এসিড আমাদের দ্রুত ঘুমের দেশে নিয়ে যেতে কার্যকর।
ভিডিও দেখুন – হেলদি লাইফ স্টাইলে মিষ্টি ফল কিভাবে খাবেন। ডাঃ জাহাঙ্গির কবির।

২. ভালো আম বনাম কেমিক্যালে পাকা আম: চেনার ৫ উপায়
বাজারে এখন কেমিক্যালে পাকানো আম বেশি দেখা যায়। নিরাপদ আম কিনতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
| বৈশিষ্ট্য | ন্যাচারালি পাকা আম | কেমিক্যালি পাকা আম |
| রঙের মিশ্রণ | হলুদ ও সবুজের সুন্দর মিশ্রণ থাকে। | উজ্জ্বল হলুদ রঙ হয়, তবে মাঝে মাঝে সবুজ ছোপ থাকে। |
| ভেতরের অংশ | পাল্প উজ্জ্বল লাল-হলুদ হয়। | পাল্প হালকা হলুদ বা সাদাটে ভাব থাকে। |
| স্বাদ | অত্যন্ত রসালো ও স্বর্গীয় মিষ্টি স্বাদ। | রস ও মিষ্টিভাব—দুটোই বেশ কম থাকে। |
| শারীরিক প্রতিক্রিয়া | কোনো অস্বস্তি হয় না। | মুখে জ্বালা, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। |
| ঘ্রাণ | মিষ্টি ও তীব্র সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। | ঘ্রাণ খুব একটা থাকে না। |
মোবাইল ছাড়া ১৩৪ দিন কিভাবে কাটলো ‘ইয়াং হাওয়ের’।

৩. ঘুমের আরও কিছু ‘ন্যাচারাল ঔষধ’
ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিকল্প হিসেবে এই খাবারগুলো নিয়মিত খেতে পারেন:
-
পাকা কলা: এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করে এবং মেলাটোনিন নিঃসরণ বাড়ায়।
-
মধু: ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেলে মস্তিষ্কে ‘ওরেক্সিন’ উৎপাদন বন্ধ হয়, ফলে দ্রুত ঘুম আসে।
-
বাদাম: রাতের গভীর ঘুমের জন্য এক মুঠো বাদাম জাদুর মতো কাজ করে।
-
ওটমিল: ওটমিল ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরে ঘুমের মেলাটোনিন বাড়াতে সাহায্য করে।
-
সিদ্ধ আলু: এটি ট্রাইপটোফানের মাধ্যমে মস্তিষ্কে ঘুমের সংকেত পাঠাতে সাহায্য করে।

৪. লাইফস্টাইল পরিবর্তন: রোদ ও নিঃশ্বাসের ব্যায়াম
শুধুমাত্র খাবার নয়, ঘুমের জন্য সঠিক লাইফস্টাইলও জরুরি:
১. রোদে থাকা: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে অন্তত ৩০ মিনিট রোদে থাকুন। এতে শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়বে।
২. নিঃশ্বাসের ব্যায়াম: দুশ্চিন্তা কমাতে “4-7-8 Breathing” টেকনিক ব্যবহার করুন। ঘুমানোর আগে এটি করলে মন শান্ত হয়।
৩. গ্যাজেট মুক্ত জীবন: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।

বিশেষ পরামর্শ: আপনার যদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ওজনের সমস্যা না থাকে, তবে রাতে ডিনার হিসেবে শুধুমাত্র কয়েকটি পাকা আম খেয়ে দেখতে পারেন। আশা করি দারুণ ঘুম হবে!
তথ্যসূত্র: ড. এরিক বার্গ, ড. জাহাঙ্গীর কবির, ড. মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য জার্নাল।
সেলিম হোসেন – ২৯/০১/২০২২ ইং
Reference : Dr Eric berg, Dr Mujibul Haque, Dr Jahangir Kabir, Dr Mujibur Rahman, Dr Mandell, Dr Jason Faung, Dr Sten Ekberg and many medical health journals.

