ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং ফাস্টিং-এর এক অবাক করা গল্প!
ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আভিজাত্যের এক প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই আধুনিক ফাইভ স্টার হোটেলের ইতিহাসের সাথে শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ‘ফাস্টিং’ বা ‘অটোফেজি’র এক অদ্ভুত মিল রয়েছে? আজ জানাবো সেই অজানা ইতিহাস এবং ফাস্টিং-এর গুরুত্ব।
ঢাকার প্রথম ফাইভ স্টার: হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
১৯৬৬ সালে ঢাকার পরিবাগে যখন এই হোটেলটি চালু হয়, তখন ইংরেজিতে ঢাকার বানান ছিল ‘Dacca’। এটিই ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ফাইভ স্টার হোটেল। প্রখ্যাত স্থপতি উইলিয়াম বি. ট্যাবলার এটি ডিজাইন করেছিলেন। সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, গ্র্যান্ড বলরুম থেকে শুরু করে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধায় ঘেরা এই হোটেলটি যেন ছিল একটি ছোট আধুনিক শহর।
ভিডিওতে দেখুন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।

নাম পরিবর্তনের দীর্ঘ পথচলা
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই পরিচিত ছিল। এরপর:
-
১৯৮৩ – ২০১১: স্টারউড কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এর নাম হয় ‘ঢাকা শেরাটন হোটেল’।
-
২০১১ – ২০১৪: সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটি ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে পরিচালিত হয়।
-
২০১৪ – বর্তমান: সংস্কারের পর পুনরায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর বর্তমানে এর কক্ষ সংখ্যা ২৩১টি।
দ্রুত ন্যাচারাল উপায়ে শরীরের চর্বি ঝরিয়ে ফিট হয়ে উঠুন।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ইন্টারকন্টিনেন্টাল
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে, তখন এই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি, সাইমন ড্রিং এবং আর্নল্ড জেইটলিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা সেই বর্বরতার ছবি ও সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন, যা বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের আসল পরিস্থিতি জানাতে সাহায্য করেছিল।
অপহরনের এই ঘটনা জানলে আপনি অবাক হবেন।

হোটেলের সংকট ও সেই ‘ফাস্টিং’ করা গরুর গল্প!
পুরানো ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশি অতিথিদের প্রধান চাহিদা ছিল ‘বিফ স্টেক’। নিউইয়র্ক থেকে আনা বিফের স্টক যখন ফুরিয়ে গেল, তখন দেখা দিল বিপত্তি। সরকারি বিধিনিষেধের কারণে নতুন করে মাংস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিল না।
দেশি গরুর মাংস দিয়ে স্টেক বানানোর চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। কারণ দেশি গরু ঘাস খায় বলে মাংসে আঁশ বেশি থাকে। অন্যদিকে, ভুট্টা খাওয়া গরুর মাংস দিয়েই কেবল ভালো মানের স্টেক হয়। কিন্তু তৎকালীন সময়ে এ দেশে ভুট্টা খাওয়া গরু মিলত না।

ফরিদপুরের সেই মিশনারি প্রতিষ্ঠানের সমাধান: বিপদ কাটাতে এগিয়ে এল ফরিদপুরের একটি মিশনারি প্রতিষ্ঠান। তারা বাজার থেকে সুস্থ গরু কিনে আনল। এরপর শুরু হলো এক বিচিত্র প্রক্রিয়া—ফাস্টিং (Fasting)। ১. গরুগুলোকে এক থেকে তিন দিন অনাহারে রাখা হতো। ২. প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাদের সামনে ভুট্টা দেওয়া হতো। ৩. ক্ষুধার তাড়নায় গরুগুলো ভুট্টা খেতে শুরু করল এবং ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেল।
ফাস্টিং করানোর ফলে গরুর শরীরের গঠন বদলে গেল এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল পেল বিশ্বমানের স্টেক তৈরির প্রয়োজনীয় মাংস। অর্থাৎ, ফাস্টিং-এর মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান হয়েছিল!
অটোফেজি নিয়ে আরও জানতে পড়ুন এখানে ক্লিক করুন।

আপনার শরীরের জন্য ফাস্টিং বা অটোফেজি কেন জরুরি?
ফরিদপুরের সেই গরুদের মতো আমরাও যদি ফাস্টিং বা রোজা রাখি, তবে আমাদের শরীরে ‘অটোফেজি’ (Autophagy) প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অটোফেজি কী? এটি শরীরের এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যেখানে কোষগুলো নিজেদের আবর্জনা ও রোগাক্রান্ত অংশ নিজেরাই পরিষ্কার করে ফেলে।
২০১৬ সালে জাপানি বিজ্ঞানী ইউশিনোরি ওসুমি এই অটোফেজি আবিষ্কার করে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নির্দিষ্ট সময় উপবাস থাকলে শরীর নিজেই নিজের চিকিৎসা করে এবং মারাত্মক সব রোগ থেকে মুক্তি পায়।
শরীরের কোথায় চুলকাচ্ছে আপনার ? কি হতে যাচ্ছে জেনে নিন।
উপসংহার: প্রকৃতি ও ইতিহাস আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এবং পরিমিত আহারই সুস্থতার চাবিকাঠি। শরীরকে ফিট রাখতে এবং ন্যাচারাল উপায়ে চর্বি ঝরাতে ফাস্টিং-এর কোনো বিকল্প নেই।
লিখনী: সেলিম হোসেন | তারিখ: ২২/০৯/২০২৩
(ছবিগুলো প্রতীকী)

