ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পিনাট বাটার: রেসিপি, উপকারিতা ও সতর্কতা
মিষ্টি চকলেট বা অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিমের বদলে আপনার শিশুকে দিতে পারেন পুষ্টিকর পিনাট বাটার। এটি কেবল সুস্বাদু নয়, বরং নিয়মিত সেবনে শরীর ও মস্তিষ্ক গঠনে এটি জাদুর মতো কাজ করে। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান বা হার্ট ও হাড় সুস্থ রাখতে চান, তাদের জন্য পিনাট বাটার একটি আদর্শ খাবার।
পিনাট বাটারের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা
পিনাট বাটার কেন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা উচিত, তার কিছু প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- স্মৃতিভ্রম ও টিউমার প্রতিরোধ: এতে থাকা রেসভেরাট্রল (Resveratrol) নামক উপাদান আলঝেইমার এবং স্নায়ুর অবক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- হাড় ও রক্ত সঞ্চালন: এটি আয়রন ও ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস, যা রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ায় এবং হাড়কে করে শক্তিশালী।
- মস্তিষ্ক বিকাশ: শিশুদের বুদ্ধি ও মস্তিষ্ক বিকাশে পিনাট বাটার বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- হজম প্রক্রিয়া: মাত্র এক টেবিল চামচ পিনাট বাটারে ১ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: এটি রক্তে শর্করার শোষণ কমিয়ে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
দুধের চেয়ে ৮ গুন বেশী ক্যালসিয়াম থাকে স্পিরুলিনায়।

শিশুদের কেন পিনাট বাটার খাওয়াবেন?
আমেরিকান ও ব্রিটিশ হেলথ গাইডলাইন অনুযায়ী, শিশুদের ৪ থেকে ৬ মাস বয়স থেকেই বাদাম-ভিত্তিক খাবার দেওয়া উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে:
-
এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুদের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কমে।
-
আগে ধারণা করা হতো ১ বছরের আগে বাদাম দেওয়া যাবে না, কিন্তু বর্তমান গবেষণায় (যেমন ২০১৫ সালে জর্জ দ্যু টইট-এর গবেষণা) দেখা গেছে আগে থেকে খাওয়ালে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
পালং শাকের রুটি খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।

পিনাট বাটার খেলে কি ওজন বাড়ে?
অনেকে মনে করেন পিনাট বাটার খেলে ওজন বাড়ে, যা পুরোপুরি ঠিক নয়।
-
প্রায় ৫০,০০০ মহিলার ওপর ৮ বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পরিমিত পিনাট বাটার খান, তাদের স্থূলতার ঝুঁকি অনেক কম।
-
এটি পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার আজেবাজে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে না। তবে ওজন কমাতে হলে অবশ্যই চিনিযুক্ত বাজারের ব্র্যান্ড এড়িয়ে চলতে হবে।
জেনে নিন – ওজন কমানোর বুলেট কফি রেসিপি

বাড়িতে পিনাট বাটার তৈরির সহজ রেসিপি
বাজারের কেনা বাটারে প্রিজারভেটিভ এবং অতিরিক্ত চিনি থাকে। তাই ঘরে তৈরি পিনাট বাটারই সবচেয়ে নিরাপদ।
উপকরণ:
-
ভাজা চিনাবাদাম: ২ কাপ
-
বাটার বা ঘি: ৩ টেবিল চামচ
-
পিঙ্ক সল্ট: আধা চা চামচ
-
মধু: পরিমাণমতো (যদি মিষ্টি পছন্দ করেন)
প্রস্তুত প্রণালী:
- প্রথমে বাদামের লাল আবরণ ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে নিন।
- ব্লেন্ডারে বাদামগুলো দিয়ে পস (Pulse) মোডে চেপে চেপে মিহি গুঁড়া করে নিন।
- বাদাম যখন গুঁড়া হয়ে তেলতেলে ভাব হবে, তখন এতে বাটার বা ঘি এবং পিঙ্ক সল্ট মেশান।
- এবার মিশ্রণটি একদম নরম ও মোলায়েম (Smooth) না হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন।
- একটি পরিষ্কার কাঁচের কন্টেইনারে ভরে ফ্রিজে রাখুন। এটি এক মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে।
পিনাট বাটার নিয়ে ডাঃ এরিক বারগের ভিডিও দেখুন

নষ্ট পিনাট বাটার চেনার ৫টি লক্ষণ
পিনাট বাটার নষ্ট হয়ে গেলে তা খেলে ফুড পয়েন্টজনিং হতে পারে। খাওয়ার আগে এই লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:
- শক্ত হয়ে যাওয়া: যদি বাটার তার স্বাভাবিক মোলায়েম ভাব হারায়।
- তেল আলাদা হওয়া: যদি ওপরের স্তর থেকে তেল বেরিয়ে আলাদা হয়ে যায়।
- রঙ পরিবর্তন: হালকা কষা রঙ থেকে গাঢ় বাদামী বা কালচে হওয়া।
- গন্ধহীনতা: তাজা বাদামের সুঘ্রাণ হারিয়ে যাওয়া।
- টক স্বাদ: প্রাকৃতিক স্বাদের বদলে টক ভাব আসা।
তথ্যসূত্র: ডা. এরিক বার্গ, ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ডা. স্টেন একবার্গ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নাল। লেখক: সেলিম হোসেন (১৯/০৫/২০২৪)
এই স্বাস্থ্যকর রেসিপিটি আপনার কেমন লাগল তা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না!

