রাষ্ট্রদূতদের দৌড় প্রতিযোগিতা: ফিটনেস ও রাজনীতির মজার গল্প
সুস্থ থাকতে দৌড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এই ‘দৌড়’ যখন সাধারণ মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে কূটনীতিবিদ বা বড় রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে চলে যায়, তখন জন্ম নেয় অদ্ভুত সব মজার গল্প। আজকের ব্লগে আমরা জানবো দৌড়ানোর সঠিক নিয়ম এবং আমেরিকা-রাশিয়া-চীনকে নিয়ে প্রচলিত কিছু ঐতিহাসিক বিদ্রূপ।
দৌড়ানোর সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা
দৌড়ানোর আগে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। এটি শুধু ঘাম ঝরানো নয়, বরং হৃদপিণ্ড এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচল রাখার একটি প্রক্রিয়া।
-
ওয়ার্ম আপ: দৌড় শুরু করার আগে শরীরকে গরম করে নিতে হালকা ব্যায়াম বা ‘ওয়ার্ম আপ’ অত্যন্ত জরুরি।
-
এরোবিক জোন (Aerobic Zone): দৌড়ানোর সময় আপনার হার্ট রেট এরোবিক জোনে রাখা উচিত। এটি বের করার সহজ সূত্র হলো: $১৮০ – আপনার বয়স$।
উদাহরণ: আপনার বয়স যদি ৪০ হয়, তবে আপনার এরোবিক জোন হবে $১৮০ – ৪০ = ১৪০$। অর্থাৎ দৌড়ানোর সময় হার্ট রেট ১৪০-এর আশেপাশে রাখা নিরাপদ।
-
শীতকালীন সতর্কতা: শীতকালে সহজে ঘাম বের হয় না, তবে ঘাম হওয়াটাই আসল উদ্দেশ্য নয়। আসল উদ্দেশ্য হলো শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা।

গল্প-১: আমেরিকা বনাম রাশিয়ার ‘দৌড়’ সংবাদ
এক সন্ধ্যায় চা-চক্রে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব দিলেন দৌড় প্রতিযোগিতার। রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। দৌড়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জিতে গেলেন। পরদিন দুই দেশের সংবাদপত্রে খবরটি যেভাবে প্রকাশিত হলো:
-
নিউইয়র্ক টাইমস: “আমেরিকান রাষ্ট্রদূত প্রথম স্থান অধিকার করেছেন এবং রাশিয়ান প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন।”
-
মস্কো টাইমস (রাশিয়ান পত্রিকা): “রাষ্ট্রদূতদের দৌড় প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রতিনিধি গর্বের সাথে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। অন্যদিকে, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত একদম শেষের জনের ঠিক সামনে থেকে দৌড় শেষ করেছেন!”
পড়ুন – দৌড়ে মন ভালো হয়, কেন জেনে নিন।

গল্প-২: বাক-স্বাধীনতা ও রেড স্কয়ার
একবার এক আমেরিকান বন্ধু গর্ব করে এক সোভিয়েত নাগরিককে বলছিলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমি চাইলে হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে পারি— ‘আইজেনহাওয়ার নিপাত যাক!'”
সোভিয়েত নাগরিক ভ্রু কুঁচকে উত্তর দিলেন, “এতে অবাক হওয়ার কী আছে? আমিও তো যখন খুশি মস্কোর রেড স্কয়ারে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে পারি— ‘আইজেনহাওয়ার নিপাত যাক!’ (কিন্তু নিজের দেশের নেতার নাম নেওয়ার সাহস কার আছে?)”
কেন গঠিত হয়েছিল বিশ্ব সেরা গোয়েন্দা সংস্থা গুলো।

গল্প-৩: মাও সেতুং ও ক্রুশ্চেভ প্রসঙ্গে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী এক গ্রীক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। এক সাংবাদিক চীনের নেতা মাও সেতুংকে প্রশ্ন করলেন, “যদি কেনেডি না মরে তৎকালীন রুশ নেতা ক্রুশ্চেভ মারা যেতেন, তবে কী হতো?”
মাও সেতুং গম্ভীর মুখে উত্তর দিলেন, “সেক্ষেত্রে সেই গ্রীক ব্যবসায়ী ক্রুশ্চেভের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করতে রাজি হতেন বলে আমার মনে হয় না!”

গল্প-৪: কারখানার মালিকানা ও গাড়ি
একবার রুশ শ্রমিকরা আমেরিকার ফোর্ড কারখানা দেখতে গেলেন।
-
রুশ শ্রমিক: “এই কারখানার মালিক কে?”
-
গাইড: “ফোর্ড সাহেব। আর সামনে সারিবদ্ধ গাড়িগুলো শ্রমিকদের।”
পরে আমেরিকানরা যখন রাশিয়ার কারখানা দেখতে এলেন:
-
আমেরিকান শ্রমিক: “এই কারখানার মালিক কে?”
-
রুশ গাইড: “এখানকার শ্রমিকরা। আর ওই যে সামনে রাখা দামি গাড়িটি? ওটি কারখানার ডিরেক্টরের!”
শেষ কথা
প্রতিযোগিতা যেমনই হোক—তা রাষ্ট্রনীতিতে হোক বা খেলার মাঠে—শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্থ দেহেই সুস্থ মনের বাস।
লেখক: সেলিম হোসেন
তারিখ: ১২/১২/২০২৩ ইং
(ছবিগুলো প্রতীকী হিসেবে ব্যবহৃত)

