গ্রিন টির উপকারিতা কি ? খালি পেটে গ্রিন টি খেলে ৫ টি ক্ষতি 5 disadvantages of drinking green tea on an empty stomach

গ্রিন টির উপকারিতা কি

গ্রিন টির উপকারিতা কি: কেন এবং কীভাবে পান করবেন?

চা প্রেমীদের কাছে গ্রিন টি এখন এক অতি পরিচিত নাম। কিন্তু আমরা কি জানি এটি কেন সবুজ থাকে বা এর আসল রহস্য কী? আজ আমরা জানবো গ্রিন টির আদ্যোপান্ত।

গ্রিন টি কেন সবুজ? (উৎপাদন রহস্য)

সাধারণ চায়ের চেয়ে গ্রিন টি তৈরির পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। বাগান থেকে তরতাজা ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তুলে সরাসরি ফুটন্ত জলের বাষ্পে রাখা হয়। একে বলা হয় নন-ফারমেন্টেড অর্থোডক্স পদ্ধতি

কেন এটি লাল হয় না? তাৎক্ষণিক বাষ্পায়িত করার ফলে চায়ের পলিফেনল তার উৎসেচন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে কোষগুলো ভেঙে ‘থিয়াফ্লোবিন’ ও ‘থিয়ারুবিনে’ রূপান্তরিত হতে পারে না, যা মূলত চায়ের লাল রঙের জন্য দায়ী। এ কারণেই এই চায়ের রঙ হয় হালকা সবুজ।

পড়ুন – কিভাবে সহজে ওজন কমাবেন এবং সুস্থ থাকবেন। 

গ্রিন টির উপকারিতা কি
গ্রিন টির উপকারিতা কি

জাপানিদের দীর্ঘায়ুর রহস্য: সবুজ চা

জাপানকে বলা হয় সবুজ চায়ের দেশ। জাপানিদের মতে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্ল্যাক টি বা ওলাং টি-র চেয়ে গ্রিন টি অনেক বেশি কার্যকর। জাপানের সিজুকা ও কেগোসিমা অঞ্চলে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অনেক কম হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে তাদের গ্রিন টি পানের অভ্যাসকে দেখা হয়।

গ্রিন টির অবিশ্বাস্য উপকারিতা

১. ক্লান্তি দূর করতে: এতে থাকা ক্যাফেইন (কুঁড়িতে প্রায় ৪.৭%) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখে এবং হৃদপিণ্ডকে উদ্দীপিত করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: পটাসিয়াম রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

৩. ত্বকের উজ্জ্বলতা: অনেকে প্রশ্ন করেন—গ্রিন টি খেলে কি ত্বক ফর্সা হয়? আসলে এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, যা ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল দেখায় এবং দাগ-ছোপ কমায়।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য: পটাসিয়াম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। (তবে তীব্র সমস্যায় ঘি-চা ট্রাই করতে পারেন)।

যারা কোষ্ঠকাঠিন্য ভুগছেন, তারা ঘি চা খাবেন। 

গ্রিন টির উপকারিতা কি
গ্রিন টির উপকারিতা কি

সাবধানতা: খালি পেটে গ্রিন টি নয়!

উপকারী হলেও খালি পেটে গ্রিন টি পানের কিছু নেতিবাচক দিক আছে:

  • এটি সরাসরি রক্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।
  • পেপটিক আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের রোগীদের খালি পেটে এটি খেলে বমিভাব বা পেট ব্যথা হতে পারে।
  • এটি হার্ট রেট ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভিডিও দেখুন – ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির সবুজ চা খাচ্ছেন। 

গ্রিন টির উপকারিতা কি
গ্রিন টির উপকারিতা কি

গ্রিন টি পানের সঠিক নিয়ম

সঠিক উপকার পেতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন:

  • খাবারের পরপরই নয়: খাবারের প্রোটিন হজম হওয়ার আগেই চা পান করলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর পান করুন।
  • মধু মেশানোর নিয়ম: চা তৈরির ১০ মিনিট পর যখন সামান্য ঠান্ডা হবে, তখন মধু মেশান। ফুটন্ত গরম জলে মধু মেশালে তার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
  • লেবুর ব্যবহার: লেবু মেশানো যায়, তবে যাদের অ্যাসিডিটি আছে তারা সাবধান থাকবেন।
  • ফ্লেভারমুক্ত চা: সবসময় ন্যাচারাল গ্রিন টি বেছে নিন। ফ্লেভারড চা, দুধ বা চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকুন।
  • পরিমাণ: দিনে ২-৩ কাপের বেশি পান করবেন না।

শেষ কথা

প্রকৃতির এই অনন্য উপহার প্রতিদিন পান করুন এবং আপনার জীবনযাত্রাকে করুন আরও স্বাস্থ্যসম্মত। সুস্থ থাকুন, সতেজ থাকুন।

তথ্যসূত্র: ড. জাহাঙ্গীর কবির, ড. এরিক বার্গ এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন।

লেখক: সেলিম হোসেন

তারিখ: ১২/০৭/২০২৪ ইং

স্বাস্থ্য সচেতন বন্ধুদের সাথে এই পোস্টটি শেয়ার করে তাদেরও জানার সুযোগ করে দিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *